প্রকাশ: ১৫ জুলাই’ ২০২৫ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন
বাংলাদেশের সিনেমার ইতিহাসে নতুন এক দিগন্ত উন্মোচিত হতে যাচ্ছে এই সপ্তাহে। প্রথমবারের মতো কোনো নেপালি সিনেমা মুক্তি পেতে যাচ্ছে দেশের প্রেক্ষাগৃহে। স্টার সিনেপ্লেক্সের উদ্যোগে আসছে এই ব্যতিক্রমধর্মী প্রয়াস—নেপালের সমসাময়িক চলচ্চিত্র ‘মিসিং’। ১৮ জুলাই থেকে দেশের সাতটি স্টার সিনেপ্লেক্স শাখায় একযোগে মুক্তি পাচ্ছে ছবিটি।
সিনেমাটি নির্মিত হয়েছে ভারত-বাংলাদেশ যৌথ উদ্যোগে চলচ্চিত্র বিনিময়ের সুযোগ করে দেওয়া সাফটা (SAFTA) চুক্তির আওতায়। এতে নেপালি আধুনিক সমাজ, সম্পর্ক, এবং মানবিক জটিলতার এক ভিন্ন ধারা তুলে ধরেছেন নির্মাতা দীপেন্দ্র গাউছান। তরুণ এই পরিচালকের ‘মিসিং’ ছবির কেন্দ্রীয় চরিত্রে রয়েছেন জনপ্রিয় নেপালি অভিনেত্রী ও মিস নেপাল খেতাবপ্রাপ্ত শ্রিষ্টি শ্রেষ্ঠা এবং প্রতিশ্রুতিশীল অভিনেতা নাজির হুসেন।
গল্পটি আবর্তিত হয়েছে একটি অদ্ভুত এবং থ্রিলিং রোমান্টিক কাহিনিকে কেন্দ্র করে। রাম নামের এক তরুণ, নিজের পরিচিতদের কাছে মিথ্যা প্রেমের গল্প সাজিয়ে ফাঁদে ফেলেন নিজেকেই। প্রেমিকার অস্তিত্ব প্রমাণ করতে গিয়ে যুক্ত হন একটি ডেটিং অ্যাপে। সেখানেই পরিচয় হয় সীতা নামের এক রহস্যময় তরুণীর সঙ্গে। সীতার প্রতি আগ্রহ জন্মায় রামের। এক পর্যায়ে তাকে অপহরণ করেন। তবে অপহরণের পেছনে রামের আসল উদ্দেশ্য জানার পর সীতা বিস্মিত হন। ধীরে ধীরে সম্পর্ক রূপ নেয় প্রেমে, যা দর্শককে নিয়ে যায় এক জটিল অথচ সংবেদনশীল আবেগ-ভ্রমণে।
সিনেমাটির প্রেক্ষাপট সাজানো হয়েছে নেপালের মধেশ অঞ্চলের অপরূপ প্রাকৃতিক সৌন্দর্য, পাহাড়ি দৃশ্য, আর ঐতিহ্যবাহী সংস্কৃতিকে কেন্দ্র করে। লোকজ ভাবনায় গড়া দৃশ্যচিত্র দর্শককে এক অন্যরকম অভিজ্ঞতায় নিয়ে যাবে বলেই ধারণা করছেন বিশ্লেষকেরা।
বাংলাদেশে এই সিনেমা মুক্তির বিপরীতে নেপালে পাঠানো হচ্ছে জনপ্রিয় চলচ্চিত্র ‘ন ডরাই’, যা ২০১৯ সালে মুক্তি পেয়েছিল এবং দেশে-বিদেশে প্রশংসিত হয়েছিল। সত্য ঘটনা অবলম্বনে নির্মিত এই ছবিতে সুনেরাহ বিনতে কামাল এবং শরিফুল রাজ তুলে ধরেছেন এক সাহসী তরুণী সার্ফারের সংগ্রাম ও আত্মপ্রতিষ্ঠার গল্প। তানিম রহমান অংশুর এই ছবিটি নারী ক্ষমতায়ন ও সাহসিকতার এক শক্তিশালী প্রতীক হিসেবে দাগ কেটেছে দর্শক হৃদয়ে।
স্টার সিনেপ্লেক্সের জ্যেষ্ঠ ব্যবস্থাপক (বিপণন) মেসবাহ উদ্দিন আহমেদ জানান, “প্রথমবারের মতো আমরা একটি নেপালি সিনেমা দেশের প্রেক্ষাগৃহে আনছি। এটি শুধু ভিন্নধারার সিনেমাপ্রেমীদের জন্য নয়, বরং দক্ষিণ এশিয়ার চলচ্চিত্র সংযোগের দিক থেকেও একটি ইতিবাচক পদক্ষেপ।”
উল্লেখ্য, উপমহাদেশীয় ভাষার সিনেমার প্রতি দেশের দর্শকদের আগ্রহের কথা বিবেচনা করে ২০২৩ সালে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় পাঁচটি শর্ত সাপেক্ষে ভারত, নেপাল, পাকিস্তানসহ আঞ্চলিক ভাষার চলচ্চিত্র আমদানির অনুমতি দেয়। শাহরুখ খানের ‘পাঠান’ দিয়ে শুরু হয় এই যাত্রা। এরপর ‘জওয়ান’, ‘ডানকি’, ‘অ্যানিমেল’, ‘ক্রু’সহ একাধিক হাই-প্রোফাইল সিনেমা দেশে মুক্তি পায়। এবার সেই তালিকায় যুক্ত হলো প্রথম নেপালি সিনেমা ‘মিসিং’।
এই উদ্যোগের মাধ্যমে শুধু বিনোদনের পরিধিই বাড়ছে না, বরং দক্ষিণ এশিয়ার সাংস্কৃতিক বিনিময় এবং চলচ্চিত্র সংযোগের একটি নতুন অধ্যায়ও সূচিত হচ্ছে। বাংলাদেশের দর্শকদের জন্য এটি হতে পারে নতুন এক অভিজ্ঞতা—নেপালের গল্প, মানুষ ও আবেগকে কাছ থেকে দেখার সুযোগ।