প্রকাশ: ৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।
কুখ্যাত যৌন নিপীড়ক জেফরি এপস্টেইনের সঙ্গে সম্পর্ক নিয়ে নরওয়ের সাবেক প্রধানমন্ত্রী এবং নোবেল কমিটির প্রাক্তন সদস্য থর্বজর্ন জাগল্যান্ডের বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু করেছে নরওয়ের কর্তৃপক্ষ। বিষয়টি আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার মাধ্যমে জানা গেছে। শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) প্রকাশিত নতুন নথি অনুযায়ী বিশ্বের বহু প্রভাবশালী ব্যক্তির নাম উঠে এসেছে, যার মধ্যে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প, সাবেক প্রেসিডেন্ট বিল ক্লিনটন, ব্রিটেনের যুবরাজ অ্যান্ড্রু, টেসলার প্রধান ইলন মাস্ক, মাইক্রোসফটের সহপ্রতিষ্ঠাতা বিল গেটসসহ বহু গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিত্বের নাম রয়েছে।
এই নথিতে নরওয়ের রাজকুমারী তথা পরবর্তী রানি মেটে-মারিট এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী জাগল্যান্ডের নামও এসেছে। নথি অনুযায়ী, রাজকুমারী মেটে-মারিট জেফরি এপস্টেইনকে অশ্লীল ছবি পাঠাতেন এবং তার বাড়িতে সময় কাটিয়েছেন। অনুরূপভাবে, ১৯৯৬ থেকে ১৯৯৭ সাল পর্যন্ত নরওয়ের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে জাগল্যান্ড ও এপস্টেইনের মধ্যে নিয়মিত ইমেইল ও ব্যক্তিগত যোগাযোগ ছিল। এছাড়াও, জাগল্যান্ডও রাজকুমারীর মতোই এপস্টেইনের বাড়িতে যান এবং সেখানে অবস্থান করেছেন।
এই তথ্য প্রকাশের পর নরওয়ের বর্তমান প্রধানমন্ত্রী জোনাস গার স্টোর নরওয়ের রাজকুমারী এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রীর কাছ থেকে এপস্টেইনের সঙ্গে তাদের সম্পর্কের ব্যাখ্যা চেয়েছেন। বিষয়টি নরওয়ায় রাজনৈতিক ও সামাজিক উত্তেজনা সৃষ্টি করেছে এবং নোবেল কমিটির মর্যাদা ও নিরপেক্ষতার প্রশ্নও উঠেছে, যেহেতু নোবেল শান্তি পুরস্কার এই কমিটির মাধ্যমে প্রদত্ত হয়।
নরওয়ের পুলিশ বিশেষ ইউনিট ওকোক্রিম (ওয়াইট-কলার অপরাধের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের জন্য নিবেদিতপ্রাণ) বৃহস্পতিবার (৫ ফেব্রুয়ারি) এক বিবৃতিতে জানায়, তারা জাগল্যান্ডের বিরুদ্ধে দুর্নীতির তদন্তের ‘যুক্তিসঙ্গত কারণ’ নির্ধারণ করেছে। পুলিশ জানিয়েছে, তারা পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে জাগল্যান্ডকে প্রদত্ত দায়মুক্তি প্রত্যাহারের জন্য অনুরোধ করেছে। বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়েছে যে, ওকোক্রিম তার পদের সঙ্গে সম্পর্কিত উপহার, ভ্রমণ এবং ঋণ গ্রহণের বিষয়গুলোও খতিয়ে দেখবে।
নরওয়ের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এসপেন বার্থ এইড বলেন, মামলার তথ্য ‘আলোচনা’ করা প্রয়োজন। তিনি আরও জানান, এর অর্থ হলো জাগল্যান্ডের দায়মুক্তি তদন্তের পথে বাধা হতে পারে না। তাই তিনি সিদ্ধান্ত নিয়েছেন যে, নরওয়ে ইউরোপ কাউন্সিলের মন্ত্রীদের কমিটির কাছে জাগল্যান্ডের দায়মুক্তি প্রত্যাহারের প্রস্তাব পেশ করবে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, জাগল্যান্ড ও এপস্টেইনের দীর্ঘদিনের যোগাযোগ এবং রাজকুমারীর জড়িততার তথ্য প্রকাশের ফলে নরওয়ের রাজনীতিতে বড় ধাক্কা লেগেছে। বিশেষ করে নোবেল কমিটির নৈতিকতা ও স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন ওঠার ফলে নরওয়ের আন্তর্জাতিক প্রতিপত্তি ও স্বনামেও প্রভাব পড়তে পারে। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা মনে করেন, এ ধরনের ঘটনার প্রেক্ষিতে সরকারের জন্য সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্ত নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি।
এপস্টেইন কেলেঙ্কারির এই নতুন তথ্য প্রকাশের পর নরওয়ের রাজনৈতিক মহলে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। সামাজিক মাধ্যমে জনসাধারণ এবং সাংবাদিকরা সাবেক প্রধানমন্ত্রী জাগল্যান্ড এবং রাজকুমারীর কর্মকাণ্ড নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। বহু আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম বিষয়টি গুরুত্বসহকারে পরিবেশন করেছে, যা বিশ্বব্যাপী আলোচনা তৈরি করেছে।
এপস্টেইনের বিরুদ্ধে এমন তদন্তগুলো ইতিমধ্যেই প্রভাবশালী রাজনীতিবিদ, ব্যবসায়ী এবং সমাজের উচ্চ পর্যায়ের ব্যক্তিদের জীবনযাত্রা এবং নৈতিকতার দিকে মনোযোগ আকর্ষণ করেছে। বিশেষ করে জাগল্যান্ডের প্রভাবশালী অবস্থান এবং নোবেল কমিটির সঙ্গে সম্পর্কের কারণে এই ঘটনা রাজনৈতিক, সামাজিক এবং সাংস্কৃতিক ক্ষেত্রগুলোতে প্রভাব ফেলতে পারে।
তদন্তকারীরা বলছেন, সংযুক্ত তথ্যের ভিত্তিতে সঠিক তদন্ত হলে নরওয়ের রাজনৈতিক এবং সামাজিক পরিবেশে প্রভাবিত দিকগুলো চিহ্নিত করা সম্ভব হবে। তারা এও নিশ্চিত করেছেন, সকল পক্ষকে সুষ্ঠু তদন্তের আওতায় রাখা হবে এবং কোনো প্রভাবশালী ব্যক্তি যেন তদন্ত প্রক্রিয়াকে প্রভাবিত করতে না পারে তা খতিয়ে দেখা হবে।
এই ঘটনার মাধ্যমে বিশ্বমঞ্চে নরওয়ের নোবেল কমিটির স্বচ্ছতা এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্বশীলতা নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন উঠেছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এ ধরনের তদন্ত দেশের রাজনৈতিক সংস্কৃতির জন্য নতুন দিক উন্মোচন করবে এবং ভবিষ্যতে অনুরূপ কেলেঙ্কারি প্রতিরোধে দৃষ্টান্ত স্থাপন করবে।