প্রকাশ: ০৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।
দক্ষিণ ভারতীয় চলচ্চিত্র জগতের সুপারস্টার যশ যেন আবারও প্রমাণ করে দিচ্ছেন, কেন তিনি এই প্রজন্মের সবচেয়ে প্রভাবশালী তারকাদের একজন। মুক্তির আগেই একের পর এক রেকর্ড ভেঙে আলোচনার শীর্ষে উঠে এসেছে তাঁর পরবর্তী সিনেমা ‘টক্সিক : আ ফেইরিটেল ফর গ্রোন আপস’। আগামী মার্চে প্রেক্ষাগৃহে মুক্তির কথা থাকলেও, এর আগেই ছবিটি বাণিজ্যিক সাফল্যের এমন সব মাইলফলক স্পর্শ করছে, যা ভারতীয় সিনেমা ইন্ডাস্ট্রিতে বিরল।
সাম্প্রতিক তথ্য অনুযায়ী, ‘টক্সিক’-এর তেলুগু স্বত্ব বিক্রি হয়েছে রেকর্ড ১২০ কোটি রুপিতে। ভারতীয় চলচ্চিত্র ইতিহাসে এটি এখন পর্যন্ত কোনো তেলুগু ছবির সর্বোচ্চ স্বত্বমূল্য বলে জানা গেছে। এই বিশাল অঙ্কেই স্পষ্ট হয়ে উঠেছে যশের বাজারমূল্য ও দর্শকদের প্রত্যাশার ব্যাপ্তি। ছবিটির তেলুগু রাইটস কিনেছে দক্ষিণ ভারতের অন্যতম প্রভাবশালী প্রযোজনা সংস্থা শ্রী ভেঙ্কটেশ্বর ক্রিয়েশনস, যার কর্ণধার জনপ্রিয় প্রযোজক দিল রাজু।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে দিল রাজু বলেন, ‘কেজিএফ চ্যাপটার টু’-এর পর যশের জনপ্রিয়তা যে মাত্রায় বেড়েছে, তা অভাবনীয়। চার বছর ধরে দর্শকরা তাঁর পরবর্তী ছবির জন্য অপেক্ষা করছে। সেই অপেক্ষার নামই যেন এখন ‘টক্সিক’। তাই এই সিনেমা নিয়ে দর্শকদের আগ্রহ, উত্তেজনা এবং প্রত্যাশা আকাশছোঁয়া।’ তাঁর মতে, যশ এখন আর শুধু কন্নড় ইন্ডাস্ট্রির তারকা নন, তিনি সর্বভারতীয় ব্র্যান্ড।
‘টক্সিক’ নিয়ে উন্মাদনার শুরুটা হয় গত ৮ জানুয়ারি, যশের জন্মদিনে। সেদিন মুক্তি পায় সিনেমাটির বহুল প্রতীক্ষিত টিজার। টিজার প্রকাশের পরপরই তা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ঝড় তোলে। মাত্র কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই কোটি কোটি ভিউ পায় ভিডিওটি। যশের স্টাইল, সিনেমাটোগ্রাফি এবং ব্যাকগ্রাউন্ড মিউজিক দর্শকদের মুগ্ধ করলেও, টিজারের কিছু দৃশ্য ঘিরে তৈরি হয় বিতর্ক। কয়েকটি দৃশ্যকে ‘অশালীন’ আখ্যা দিয়ে আপত্তি জানানো হয়, যা শেষ পর্যন্ত গড়ায় কর্ণাটক রাজ্য নারী কমিশনে।
নারী কমিশনের পক্ষ থেকে অভিযোগ পাওয়ার পর বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হয়। কমিশন সেন্ট্রাল বোর্ড অব ফিল্ম সার্টিফিকেশনকে (সিবিএফসি) একটি চিঠি পাঠিয়ে টিজারের দৃশ্যগুলো খতিয়ে দেখার এবং প্রয়োজনে ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানায়। যদিও নির্মাতা পক্ষ থেকে জানানো হয়, সিনেমাটির বিষয়বস্তু প্রাপ্তবয়স্ক দর্শকদের জন্য নির্মিত এবং গল্পের প্রেক্ষাপটে দৃশ্যগুলো গুরুত্বপূর্ণ। বিতর্ক থাকলেও এটি যে সিনেমাটির প্রচারে নতুন মাত্রা যোগ করেছে, তা বলাই বাহুল্য।
‘টক্সিক’ পরিচালনা করেছেন জাতীয় পুরস্কারজয়ী নির্মাতা গীতু মোহনদাস। সংবেদনশীল গল্প বলা ও ভিজ্যুয়াল ন্যারেটিভে তাঁর দক্ষতা ইতিমধ্যেই প্রশংসিত। এই সিনেমায় তিনি যশকে এক নতুন রূপে উপস্থাপন করতে যাচ্ছেন বলে জানা গেছে। চিত্রনাট্য যৌথভাবে লিখেছেন যশ নিজে এবং গীতু মোহনদাস, যা দর্শকদের প্রত্যাশা আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। একজন তারকা যখন নিজের চরিত্র ও গল্প নির্মাণে সরাসরি যুক্ত থাকেন, তখন সিনেমাটি আলাদা গুরুত্ব পায়—এটাই বলছেন চলচ্চিত্র বিশ্লেষকরা।
অভিনয়শিল্পীদের দিক থেকেও ‘টক্সিক’ একেবারে তারকাবহুল। যশের সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে অভিনয় করেছেন রুক্মিণী বসন্ত, নয়নতারা, কিয়ারা আদভানি, তারা সুতারিয়া, হুমা কুরেশি, অক্ষয় ওবেরয় এবং সুদেব নায়ার। ভিন্ন ভিন্ন ইন্ডাস্ট্রির জনপ্রিয় মুখদের একসঙ্গে দেখা যাবে এই সিনেমায়, যা এটিকে সত্যিকারের প্যান-ইন্ডিয়া প্রজেক্টে পরিণত করেছে।
প্রযুক্তিগত দিক থেকেও সিনেমাটি অত্যন্ত শক্তিশালী। চিত্রগ্রহণে রয়েছেন জাতীয় পুরস্কারজয়ী রাজীব রবি, যাঁর ক্যামেরার কাজ মানেই ভিজ্যুয়াল ট্রীট। সংগীত পরিচালনা করেছেন কেজিএফ–খ্যাত রবি বসরুর, যাঁর ব্যাকগ্রাউন্ড স্কোর ইতিমধ্যেই দর্শকদের মনে আলাদা জায়গা করে নিয়েছে। সম্পাদনার দায়িত্বে আছেন উজওয়াল কুলকার্নি, যিনি গতিশীল গল্প বলায় পারদর্শী।
সবচেয়ে বড় চমক হতে পারে অ্যাকশন সিকোয়েন্সগুলো। সিনেমাটির অ্যাকশন কোরিওগ্রাফি করেছেন হলিউডের জনপ্রিয় অ্যাকশন পরিচালক জে জে পেরি। ‘জন উইক’ ফ্র্যাঞ্চাইজির মতো আন্তর্জাতিক মানের অ্যাকশন ছবিতে কাজ করা এই বিশেষজ্ঞের উপস্থিতি প্রমাণ করে, ‘টক্সিক’ কেবল ভারতীয় মানদণ্ডে নয়, বিশ্বমানের অ্যাকশন তুলে ধরার লক্ষ্যেই তৈরি হচ্ছে।
ভেঙ্কট কে নারায়ণ ও যশ প্রযোজিত এই সিনেমাটি আগামী ১৯ মার্চ প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পাওয়ার কথা রয়েছে। মুক্তির সময়টি নিয়েও রয়েছে কৌশলগত পরিকল্পনা। একই সময়ে মুসলমানদের ঈদুল ফিতর, কন্নড় ও তেলুগু নববর্ষ উৎসব উগাদি এবং মারাঠি ও গুজরাটি সম্প্রদায়ের গুড়ি পদওয়ার মতো একাধিক বড় উৎসব পড়ছে। ফলে উৎসবমুখর পরিবেশে দর্শকদের হলমুখী হওয়ার সম্ভাবনা প্রবল, যা বক্স অফিসে বড় ঝড় তুলতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
সব মিলিয়ে বলা যায়, মুক্তির আগেই ‘টক্সিক’ যে ধরনের রেকর্ড ভাঙছে, তা যশের তারকাখ্যাতি এবং দক্ষিণী সিনেমার ক্রমবর্ধমান বৈশ্বিক প্রভাবেরই প্রমাণ। এখন দর্শকদের একটাই প্রশ্ন—প্রেক্ষাগৃহে মুক্তির পর এই সিনেমা আর কী কী নতুন ইতিহাস রচনা করে।