নিলামে আবারও ৫ কোটি ডলার কিনল কেন্দ্রীয় ব্যাংক

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : বৃহস্পতিবার, ১৬ এপ্রিল, ২০২৬
  • ৫ বার
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ডলার ক্রয়

প্রকাশ: ১৬ এপ্রিল ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

দেশের বৈদেশিক মুদ্রা বাজারে স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে আবারও ডলার ক্রয় কার্যক্রম পরিচালনা করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। সর্বশেষ নিলামে চারটি বাণিজ্যিক ব্যাংক থেকে ৫ কোটি মার্কিন ডলার কেনা হয়েছে, যা দেশের সামগ্রিক বৈদেশিক মুদ্রা ব্যবস্থাপনায় একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

বৃহস্পতিবার কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান জানান, নিলামের মাধ্যমে মোট ৫০ মিলিয়ন ডলার বা ৫ কোটি মার্কিন ডলার ক্রয় করা হয়েছে। তিনি বলেন, এই নিলামের কাট-অফ মূল্য নির্ধারণ করা হয় প্রতি ডলার ১২২ টাকা ৭৫ পয়সা, যা বাজার পরিস্থিতি বিবেচনায় নির্ধারিত হয়েছে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংক জানায়, চলতি মাসে এ নিয়ে মোট ১২ কোটি মার্কিন ডলার কেনা হলো। এর মাধ্যমে বৈদেশিক মুদ্রার বাজারে সরবরাহ ও চাহিদার ভারসাম্য রক্ষার চেষ্টা অব্যাহত রাখা হচ্ছে।

অর্থনীতিবিদদের মতে, বৈদেশিক মুদ্রার বাজারে অস্থিরতা কমাতে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের এই ধরনের নিলামভিত্তিক ডলার ক্রয় একটি কৌশলগত পদক্ষেপ। এর মাধ্যমে একদিকে যেমন বাজারে অতিরিক্ত ডলার সরবরাহ শোষণ করা হচ্ছে, অন্যদিকে টাকার মানে বড় ধরনের ওঠানামা নিয়ন্ত্রণে রাখার চেষ্টা করা হচ্ছে।

চলতি ২০২৫–২৬ অর্থবছরে কেন্দ্রীয় ব্যাংক একাধিক দফায় নিলামের মাধ্যমে ডলার ক্রয় করেছে। সর্বশেষ পরিসংখ্যান অনুযায়ী, এখন পর্যন্ত মোট ক্রয়কৃত ডলারের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৫৬১ কোটি ৩৫ লাখ ডলার বা ৫.৬১ বিলিয়ন ডলার। এটি দেশের বৈদেশিক মুদ্রা ব্যবস্থাপনায় একটি উল্লেখযোগ্য পরিমাণ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

বিশ্লেষকরা বলছেন, ২০২৪ সালের আগস্টের পর থেকে বৈদেশিক মুদ্রা বাজারে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নীতি পরিবর্তন লক্ষ্য করা যাচ্ছে। আগে যেখানে বাজারে ডলার বিক্রির মাধ্যমে সরবরাহ বাড়ানো হতো, এখন সেখানে পরিস্থিতি অনুযায়ী ডলার কেনার দিকে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। এই পরিবর্তনকে বাজার স্থিতিশীলতার একটি কৌশলগত রূপান্তর হিসেবে দেখা হচ্ছে।

ডলার ক্রয়ের এই প্রবণতা মূলত বৈদেশিক মুদ্রা বাজারে অতিরিক্ত সরবরাহ নিয়ন্ত্রণ এবং বিনিময় হার স্থিতিশীল রাখার উদ্দেশ্যে নেওয়া হচ্ছে বলে মনে করছেন অর্থনীতিবিদরা। তাদের মতে, রপ্তানি আয় ও প্রবাসী আয়ের প্রবাহ বাড়লে বাজারে ডলারের চাপ তৈরি হয়, যা নিয়ন্ত্রণে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের হস্তক্ষেপ প্রয়োজন হয়।

বর্তমান বৈশ্বিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতিতে ডলারের চাহিদা ও সরবরাহের ভারসাম্য রক্ষা করা একটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিশেষ করে জ্বালানি আমদানি, শিল্প কাঁচামাল এবং বৈদেশিক ঋণ পরিশোধের ক্ষেত্রে ডলারের ওপর নির্ভরতা বাড়ছে। এই প্রেক্ষাপটে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নিলাম কার্যক্রমকে একটি গুরুত্বপূর্ণ নীতি সহায়ক পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

অর্থনৈতিক বিশ্লেষকরা আরও বলছেন, এই ধরনের ডলার ক্রয় কার্যক্রম স্বল্পমেয়াদে বাজার স্থিতিশীল রাখতে সাহায্য করলেও দীর্ঘমেয়াদে এর কার্যকারিতা নির্ভর করবে রপ্তানি আয়, রেমিট্যান্স প্রবাহ এবং সামগ্রিক বৈদেশিক বাণিজ্যের ভারসাম্যের ওপর।

বাংলাদেশের অর্থনীতিতে প্রবাসী আয় একটি বড় ভূমিকা পালন করছে। মধ্যপ্রাচ্য, ইউরোপ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় কর্মরত প্রবাসীদের পাঠানো অর্থ বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ শক্তিশালী রাখতে সহায়তা করছে। একই সঙ্গে তৈরি পোশাক খাতসহ রপ্তানি খাতও ডলার প্রবাহে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বৈদেশিক মুদ্রা বাজারে অস্থিরতা দেখা দিলে নিলামের মাধ্যমে ডলার ক্রয় বা বিক্রয় অব্যাহত থাকবে। বাজার পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করেই পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

সব মিলিয়ে, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সর্বশেষ এই ডলার ক্রয় কার্যক্রম দেশের বৈদেশিক মুদ্রা ব্যবস্থাপনায় একটি সক্রিয় ও নিয়ন্ত্রিত নীতির প্রতিফলন হিসেবে দেখা হচ্ছে। এটি যেমন বাজারে স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে ভূমিকা রাখছে, তেমনি অর্থনৈতিক নীতিনির্ধারণেও নতুন কৌশলগত দিক নির্দেশ করছে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত