প্রকাশ: ০১ জুন ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।
রাজধানীর মগবাজারে আদ্-দ্বীন হাসপাতালে ছয় শিশুর মৃত্যুর ঘটনায় আগামী তিন দিনের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত। তিনি বলেছেন, ঘটনাটি অত্যন্ত মর্মান্তিক এবং এর প্রকৃত কারণ উদঘাটনে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ও স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সমন্বিতভাবে তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে।
সোমবার (১ জুন) ঈদের ছুটি শেষে প্রথম কর্মদিবসে সচিবালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে তিনি এ তথ্য জানান। এ সময় তিনি বলেন, সরকারের পক্ষ থেকে ঘটনাটিকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে এবং স্বচ্ছ তদন্ত নিশ্চিত করতে একাধিক পর্যায়ের অনুসন্ধান কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী জানান, ঘটনার পরপরই তিনি নিজে হাসপাতালটি পরিদর্শন করেন। পাশাপাশি স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালকও ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করেছেন। মন্ত্রণালয়ের গঠিত তদন্ত কমিটির পাশাপাশি আলাদাভাবে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরও নতুন করে তদন্ত কার্যক্রম শুরু করেছে।
তিনি বলেন, তদন্ত প্রক্রিয়ায় শিশুদের পরিবারের সদস্যদের বক্তব্য গ্রহণ, হাসপাতালের চিকিৎসা কার্যক্রম পর্যালোচনা এবং সংশ্লিষ্ট নথিপত্র যাচাইসহ সব ধরনের বিষয় গুরুত্ব সহকারে দেখা হচ্ছে। উদ্দেশ্য হলো ঘটনার পেছনের প্রকৃত কারণ নিরপেক্ষভাবে উদঘাটন করা।
মন্ত্রী আরও জানান, শুরুতে তিন দিনের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দেওয়ার পরিকল্পনা থাকলেও তদন্তকে আরও কার্যকর ও বাস্তবভিত্তিক করতে কিছু অতিরিক্ত তথ্য সংগ্রহের প্রয়োজন হয়েছে। সে কারণে প্রতিবেদন দাখিলের সময়সীমা কিছুটা সমন্বয় করা হয়েছে এবং আগামী ৩ জুনের মধ্যে প্রতিবেদন পাওয়া যাবে বলে আশা করা হচ্ছে।
তিনি বলেন, “ঘটনাটি অত্যন্ত সংবেদনশীল। তাই কোনো ধরনের তাড়াহুড়া না করে বাস্তব তথ্যের ভিত্তিতে প্রতিবেদন তৈরি করা হচ্ছে। এরপর বিস্তারিত জানানো হবে।”
ঘটনার আইনি দিক নিয়েও সরকার কাজ করছে বলে জানান স্বাস্থ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, বিষয়টি নিয়ে অ্যাটর্নি জেনারেলের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে এবং তদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
শিশুদের মৃত্যুর ঘটনায় পোস্টমর্টেম না হওয়া প্রসঙ্গে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, সরকারের পক্ষ থেকে ময়নাতদন্তের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। তবে মৃত শিশুদের পরিবারের কেউই এতে সম্মতি দেননি। পরিবারের আবেগ ও পরিস্থিতি বিবেচনায় জোরপূর্বক পোস্টমর্টেম না করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
তিনি বলেন, “আমরা অভিভাবকদের রাজি করানোর চেষ্টা করেছি, কিন্তু তারা সম্মতি দেননি। এ অবস্থায় জোর করলে নতুন ধরনের সংকট তৈরি হতে পারত।”
এদিকে ঘটনাটি ঘিরে জনমনে গভীর উদ্বেগ ও প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা চলছে। বিশেষ করে হাসপাতালের চিকিৎসা ব্যবস্থাপনা ও নিরাপত্তা প্রটোকল নিয়ে অনেকে প্রশ্ন তুলছেন।
সরকারের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, তদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর দায় নির্ধারণ এবং প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে হাসপাতাল ব্যবস্থাপনায় আরও কঠোর নজরদারির পরিকল্পনাও বিবেচনায় রয়েছে।
স্বাস্থ্য খাত সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞদের মতে, এমন সংবেদনশীল ঘটনায় দ্রুত, স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ তদন্তই জনআস্থা ফিরিয়ে আনতে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। তারা মনে করেন, শুধু প্রশাসনিক তদন্ত নয়, প্রয়োজনে স্বাধীন বিশেষজ্ঞ কমিটির মাধ্যমেও বিষয়টি মূল্যায়ন করা উচিত।
ঘটনার পর থেকে আদ্-দ্বীন হাসপাতাল এলাকায় অতিরিক্ত নজরদারি ও প্রশাসনিক পর্যবেক্ষণ বাড়ানো হয়েছে। বিষয়টি তদন্তাধীন থাকায় এখনই চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যাচ্ছে না বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
সব মিলিয়ে, মগবাজারে ছয় শিশুর মৃত্যুর ঘটনা দেশের স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনা নিয়ে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশের পরই ঘটনার প্রকৃত চিত্র আরও স্পষ্ট হবে বলে আশা করা হচ্ছে।