বরিশালে ইউপি সদস্যা শিলা ইসলামের মৃত্যুর ঘটনায় তদন্ত শুরু

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : শনিবার, ২৫ জুলাই, ২০২৬
  • ২ বার
বরিশালে ইউপি সদস্যা শিলা ইসলামের মৃত্যুর ঘটনায় তদন্ত শুরু

প্রকাশ: ২৫ জুলাই ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

বরিশালের আগৈলঝাড়া উপজেলায় সংরক্ষিত নারী ইউপি সদস্যা ও উপজেলা মহিলা আওয়ামী লীগের নেত্রী শিলা ইসলামের মৃত্যুকে কেন্দ্র করে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। গলায় ফাঁস লাগানো অবস্থায় তাঁকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়া হলেও চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন। নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে দীর্ঘদিনের পারিবারিক নির্যাতনের অভিযোগ তোলা হয়েছে। অন্যদিকে পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনাটির প্রকৃত কারণ উদঘাটনে তদন্ত শুরু হয়েছে এবং তদন্তের ভিত্তিতেই পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

নিহত শিলা ইসলাম (৩৫) আগৈলঝাড়া উপজেলার গৈলা ইউনিয়নের ৭, ৮ ও ৯ নম্বর ওয়ার্ডের সংরক্ষিত নারী ইউপি সদস্যা ছিলেন। পাশাপাশি তিনি উপজেলা মহিলা আওয়ামী লীগের শ্রমবিষয়ক সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করতেন। তিনি দুই কন্যাসন্তানের জননী। তাঁর স্বামী শফিকুল ইসলাম মারুফ সেরনিয়াবাত একই ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের নির্বাচিত ইউপি সদস্য। পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, শিলা ইসলাম ছিলেন মারুফ সেরনিয়াবাতের দ্বিতীয় স্ত্রী।

স্থানীয় সূত্র ও স্বজনদের ভাষ্য অনুযায়ী, শুক্রবার (২৪ জুলাই) বিকেলে আগৈলঝাড়া উপজেলার সেরাল গ্রামে তাঁদের ভাড়া বাসায় এই ঘটনা ঘটে। পরিবারের অভিযোগ, ওই দিন বিকেলে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে পারিবারিক বিরোধের একপর্যায়ে শিলা ইসলাম শারীরিক নির্যাতনের শিকার হন। পরে তিনি ঘরের দরজা বন্ধ করে আত্মহত্যার চেষ্টা করেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

প্রতিবেশীরা বিষয়টি টের পেয়ে দ্রুত ঘরের দরজা ভেঙে শিলা ইসলামকে উদ্ধার করেন। পরে তাঁকে প্রথমে আগৈলঝাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। সেখানে অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ (শেবাচিম) হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। তবে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শুক্রবার দিবাগত রাতে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।

নিহতের বাবা আব্দুস সালাম হাওলাদার অভিযোগ করেন, বিয়ের পর থেকেই তাঁর মেয়েকে বিভিন্ন অজুহাতে মারধর করা হতো। তাঁর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে শিলা ইসলাম পারিবারিক সহিংসতার শিকার ছিলেন এবং ঘটনার দিনও স্বামীর নির্যাতনের পর তিনি চরম মানসিক বিপর্যয়ের মধ্যে পড়েন। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, এই পরিস্থিতিই তাঁর মৃত্যুর পেছনে ভূমিকা রাখতে পারে।

তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে নিহতের স্বামী শফিকুল ইসলাম মারুফ সেরনিয়াবাতের কোনো বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি। ফলে অভিযোগের বিষয়ে তাঁর অবস্থান জানা সম্ভব হয়নি।

বরিশাল কোতোয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আল মামুন উল ইসলাম জানান, হাসপাতাল থেকে খবর পাওয়ার পরপরই পুলিশ সেখানে যায় এবং ঘটনাটি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত শুরু করেছে। তিনি বলেন, মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নির্ধারণে প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হচ্ছে। তদন্তে পাওয়া তথ্য-উপাত্ত, সাক্ষ্যপ্রমাণ এবং ময়নাতদন্তের প্রতিবেদনের ভিত্তিতেই পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, অস্বাভাবিক মৃত্যুর ঘটনায় প্রাথমিকভাবে ঘটনাস্থল, পারিবারিক বিরোধ এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্য যাচাই করা হচ্ছে। তদন্তের অংশ হিসেবে পরিবারের সদস্য, প্রতিবেশী ও অন্যান্য সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে কথা বলা হবে। প্রয়োজন হলে সংশ্লিষ্টদের জিজ্ঞাসাবাদও করা হতে পারে।

স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও বাসিন্দাদের ভাষ্য অনুযায়ী, শিলা ইসলাম দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয় রাজনীতি ও জনপ্রতিনিধিত্বের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। তাঁর আকস্মিক মৃত্যু এলাকায় শোকের পাশাপাশি নানা প্রশ্নেরও জন্ম দিয়েছে। অনেকেই দ্রুত ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটনের দাবি জানিয়েছেন।

আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, পারিবারিক নির্যাতনের অভিযোগ উঠে এলে তা অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা প্রয়োজন। কোনো অস্বাভাবিক মৃত্যুর ক্ষেত্রে আত্মহত্যা, প্ররোচনা, পারিবারিক সহিংসতা কিংবা অন্য কোনো অপরাধমূলক উপাদান রয়েছে কি না, তা তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়াই আইনগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ। আদালতে উপস্থাপিত তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতেই দায়-দায়িত্ব নির্ধারণ হবে।

সামাজিক বিশ্লেষকদের মতে, পারিবারিক সহিংসতা, মানসিক চাপ এবং দাম্পত্য কলহের মতো বিষয়গুলো অনেক সময় ভয়াবহ পরিণতির দিকে নিয়ে যেতে পারে। এ ধরনের অভিযোগ সামনে এলে যথাসময়ে সামাজিক ও আইনি সহায়তা নিশ্চিত করা জরুরি। একই সঙ্গে স্থানীয় প্রশাসন, জনপ্রতিনিধি এবং সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর সমন্বিত উদ্যোগ পারিবারিক সহিংসতা প্রতিরোধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

বর্তমানে শিলা ইসলামের মৃত্যুর ঘটনাটি তদন্তাধীন রয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন, ফরেনসিক তথ্য এবং তদন্তে পাওয়া অন্যান্য প্রমাণের ভিত্তিতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী পরবর্তী ব্যবস্থা নেবে। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোনো মামলা দায়ের বা কাউকে গ্রেপ্তারের তথ্য আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়নি।

এদিকে শিলা ইসলামের মৃত্যুতে স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গন এবং তাঁর স্বজনদের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। পরিবারের সদস্যরা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং প্রকৃত সত্য উদঘাটনের মাধ্যমে ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন। তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত মৃত্যুর কারণ সম্পর্কে চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছানো সম্ভব নয় বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত