ঈদের পর সচল ভোমরা স্থলবন্দর

রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট টাইম : সোমবার, ১ জুন, ২০২৬
  • ৩৯ বার

প্রকাশ: ০১ জুন ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

ঈদুল আজহা উপলক্ষে টানা সাত দিনের ছুটি শেষে সাতক্ষীরার ভোমরা স্থলবন্দরে আবারও স্বাভাবিকভাবে শুরু হয়েছে আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম। দীর্ঘ বিরতির পর বাণিজ্যিক কার্যক্রম চালু হওয়ায় বন্দরে ফিরে এসেছে প্রাণচাঞ্চল্য, ব্যস্ততা ও ব্যবসায়িক গতিশীলতা।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, গত ২৫ মে থেকে ৩১ মে পর্যন্ত বাংলাদেশ-ভারতের মধ্যে ভোমরা স্থলবন্দরের বাণিজ্যিক কার্যক্রম বন্ধ ছিল। তবে এই সময়েও ভোমরা-ঘোজাডাঙ্গা আন্তর্জাতিক ইমিগ্রেশন চেকপোস্ট দিয়ে পাসপোর্ট ও ভিসাধারী যাত্রীদের যাতায়াত স্বাভাবিকভাবে চলেছে। ফলে সীমান্তে মানব চলাচলে তেমন কোনো বিঘ্ন ঘটেনি।

ঈদের ছুটি শেষে সোমবার (১ জুন) সকাল থেকে পুনরায় বন্দর দিয়ে আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম শুরু হয়। সকাল থেকেই ট্রাক চলাচল, পণ্য খালাস ও কাস্টমস কার্যক্রমে ব্যস্ততা দেখা যায়। ব্যবসায়ীরা জানান, দীর্ঘ ছুটির পর বাণিজ্যিক কার্যক্রম শুরু হওয়ায় পণ্য পরিবহন ও সরবরাহ ব্যবস্থায় গতি ফিরে এসেছে।

ভোমরা সিঅ্যান্ডএফ অ্যাসোসিয়েশন এবং ভারতের ঘোজাডাঙ্গা সিএন্ডএফ এজেন্ট কার্গো ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশনের মধ্যে আলোচনার ভিত্তিতে ছুটির সময়সূচি নির্ধারণ করা হয় বলে জানান ভোমরা সিএন্ডএফ এজেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক আবু মুছা। তিনি বলেন, দুই দেশের ব্যবসায়িক সমন্বয়ের মাধ্যমে ঈদের ছুটি কার্যকর করা হয়েছে, যাতে সীমান্ত বাণিজ্যে শৃঙ্খলা বজায় থাকে।

ভোমরা ইমিগ্রেশন চেকপোস্টের অফিসার ইনচার্জ (ওসি) তুফান মণ্ডল জানান, বাণিজ্যিক কার্যক্রম বন্ধ থাকলেও যাত্রী চলাচল স্বাভাবিক ছিল। তিনি বলেন, পাসপোর্টধারী যাত্রীরা নিয়মিতভাবে দুই দেশের মধ্যে যাতায়াত করেছেন এবং এতে কোনো ধরনের জটিলতা তৈরি হয়নি।

ভোমরা স্থলবন্দর কর্তৃপক্ষের উপপরিচালক মামুন কবীর তরফদার জানান, ঈদের ছুটির কারণে সাময়িক বিরতির পর বন্দরের সব কার্যক্রম পুনরায় চালু হয়েছে। তিনি বলেন, এখন থেকে আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম পূর্ণ গতিতে চলবে এবং বন্দর স্বাভাবিক বাণিজ্যিক কার্যক্রমে ফিরেছে।

ভোমরা কাস্টমস হাউসের কমিশনার মুশফিকুর রহমান বলেন, সরকারি ছুটির সময় সীমিত কার্যক্রম চললেও আজ থেকে পুরোপুরি কাস্টমস কার্যক্রম পুনরায় শুরু হয়েছে। ফলে আমদানিকারক ও রপ্তানিকারকরা তাদের পণ্য প্রক্রিয়াকরণে কোনো বাধার সম্মুখীন হবেন না।

স্থানীয় ব্যবসায়ী ও পরিবহন সংশ্লিষ্টরা জানান, ঈদের ছুটি শেষে বন্দর সচল হওয়ায় সরবরাহ শৃঙ্খলে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে। বিশেষ করে দ্রুত পণ্য পরিবহন এবং সময়মতো পণ্য খালাস নিশ্চিত হওয়ায় বাজারে স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে সহায়ক হবে।

বিশ্লেষকদের মতে, ভোমরা স্থলবন্দর বাংলাদেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সীমান্ত বাণিজ্য কেন্দ্র। ভারতীয় পণ্যের আমদানি ও বাংলাদেশি পণ্যের রপ্তানিতে এই বন্দরের ভূমিকা অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলে। ফলে নিয়মিত কার্যক্রম সচল থাকা বাণিজ্য প্রবাহের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

সব মিলিয়ে ঈদের ছুটি শেষে ভোমরা স্থলবন্দর আবারও পূর্ণ গতিতে কার্যক্রম শুরু করায় সীমান্ত বাণিজ্যে স্বাভাবিক গতি ফিরে এসেছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত