কোহলির ব্যাটে টানা দ্বিতীয় শিরোপা আরসিবির

রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট টাইম : সোমবার, ১ জুন, ২০২৬
  • ৩২ বার

প্রকাশ: ০১ জুন ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগ (আইপিএল) ২০২৬ আসরে আবারও ইতিহাস গড়লো রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরু (আরসিবি)। শক্তিশালী গুজরাট টাইটান্সকে ৫ উইকেটে হারিয়ে টানা দ্বিতীয়বারের মতো শিরোপা ঘরে তুলেছে তারা। আহমেদাবাদের নরেন্দ্র মোদি স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ফাইনালে ব্যাট হাতে দুর্দান্ত নৈপুণ্য দেখিয়ে দলের জয়ের নায়ক হয়ে ওঠেন অভিজ্ঞ ব্যাটার বিরাট কোহলি।

ম্যাচের শুরু থেকেই চাপের মুখে পড়ে গুজরাট টাইটান্স। টসে হেরে আগে ব্যাট করতে নেমে নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারাতে থাকে তারা। আরসিবির বোলারদের নিয়ন্ত্রিত লাইন-লেন্থ এবং ফিল্ডিংয়ের চাপে বড় স্কোর গড়তে ব্যর্থ হয় গুজরাট। নির্ধারিত ২০ ওভারে তারা সংগ্রহ করে ১৫৫ রান। যদিও ইনিংসের মাঝপথে কিছুটা প্রতিরোধ গড়ার চেষ্টা করেছিল দলটি, তবে শেষদিকে দ্রুত উইকেট হারানোয় বড় সংগ্রহ দাঁড় করাতে পারেনি তারা।

লক্ষ্য তাড়ায় নেমে শুরুটা আক্রমণাত্মক করে বেঙ্গালুরু। ভেঙ্কটেশ আইয়ারকে সঙ্গে নিয়ে ঝড়ো ব্যাটিং শুরু করেন কোহলি। শুরুতেই চার-ছক্কার বৃষ্টিতে গুজরাটের বোলারদের চাপে ফেলে দেন তারা। পাওয়ার প্লেতেই দ্রুত রান তুলে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের দিকে নিয়ে নেয় আরসিবি।

তবে ম্যাচে প্রথম ব্রেকথ্রু এনে দেন গুজরাটের পেসার মোহাম্মদ সিরাজ। ৫ম ওভারে ভেঙ্কটেশ আইয়ারকে ফিরিয়ে দেন তিনি, যিনি তখন ৬২ রানের ঝড়ো ইনিংস খেলছিলেন। এরপরই কিছুটা চাপ তৈরি হয় আরসিবির ইনিংসে। পাওয়ার প্লের শেষদিকে দেবদত্ত পাডিক্কালকে আউট করে গুজরাটকে ম্যাচে ফেরানোর ইঙ্গিত দেন কাগিসো রাবাদা।

চাপের মুহূর্তে রজত পাতিদারের সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ জুটি গড়ে পরিস্থিতি সামাল দেন কোহলি। তবে ৯ম ওভারে রশিদ খান পরপর দুটি উইকেট তুলে নিয়ে ম্যাচে উত্তেজনা ফিরিয়ে আনেন। ক্রুনাল পান্ডিয়াকেও দ্রুত আউট করে গুজরাট কিছুটা আশা দেখাতে শুরু করে।

এরপর টিম ডেভিডকে সঙ্গে নিয়ে আবারও ইনিংস গুছিয়ে নেন কোহলি। যদিও ডেভিড ২৪ রানে ফিরে যান, তবে এই জুটি দলকে গুরুত্বপূর্ণ ৪১ রানের অবদান এনে দেয়। সেই মুহূর্ত থেকেই ম্যাচ পুরোপুরি আরসিবির নিয়ন্ত্রণে চলে যায়।

শেষ পর্যন্ত দায়িত্বশীল ব্যাটিংয়ে ৪২ বলে অপরাজিত ৭৫ রানের ইনিংস খেলে দলকে জয়ের বন্দরে পৌঁছে দেন বিরাট কোহলি। তার ইনিংসে ছিল নিখুঁত টাইমিং, চাপ সামলে খেলার অভিজ্ঞতা এবং প্রয়োজন অনুযায়ী আক্রমণাত্মক শটের সমন্বয়। ম্যাচসেরার পুরস্কারও ওঠে তার হাতে।

এই জয়ের মাধ্যমে আইপিএলের ইতিহাসে নতুন এক অধ্যায় যুক্ত করলো আরসিবি। দীর্ঘদিন শিরোপা খরায় থাকা দলটি ২০২৫ সালে প্রথম শিরোপা জয়ের পর এবার টানা দ্বিতীয়বার ট্রফি জিতে নিজেদের শক্ত অবস্থান নিশ্চিত করেছে। এতদিন টানা দুই আসরে শিরোপা জয়ের কৃতিত্ব ছিল শুধু মুম্বাই ইন্ডিয়ান্স ও চেন্নাই সুপার কিংসের মতো শক্তিশালী দলের, এবার সেই তালিকায় যুক্ত হলো বেঙ্গালুরুও।

ফাইনালে কোহলির এই ইনিংস শুধু একটি ম্যাচ জেতানো পারফরম্যান্স নয়, বরং তার ক্যারিয়ারের ধারাবাহিকতা ও বড় ম্যাচে দায়িত্ব নেওয়ার সক্ষমতার আরেকটি প্রমাণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। পুরো আসরজুড়েই দলকে নেতৃত্ব দিয়েছেন অভিজ্ঞ এই ব্যাটার, আর ফাইনালে এসে সেটির পূর্ণতা পেল শিরোপা জয়ের মাধ্যমে।

ক্রিকেট বিশ্লেষকদের মতে, আরসিবির এই সাফল্যের পেছনে রয়েছে দলীয় ভারসাম্য, অভিজ্ঞতা এবং তরুণদের সাহসী পারফরম্যান্সের সমন্বয়। বিশেষ করে চাপের ম্যাচে কোহলির অভিজ্ঞতা দলকে এগিয়ে নিয়েছে।

অন্যদিকে গুজরাট টাইটান্স পুরো টুর্নামেন্টে ধারাবাহিক পারফরম্যান্স দেখালেও ফাইনালে এসে ব্যাটিং ব্যর্থতা তাদের শিরোপা স্বপ্ন ভেঙে দেয়।

সব মিলিয়ে আইপিএল ২০২৬ ফাইনাল হয়ে থাকল কোহলি-ম্যাজিকের আরেকটি স্মরণীয় অধ্যায়, যেখানে ব্যাট হাতে তিনি আবারও প্রমাণ করলেন কেন তাকে আধুনিক ক্রিকেটের অন্যতম সেরা ম্যাচ-উইনার হিসেবে বিবেচনা করা হয়।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত