প্রকাশ: ০১ জুন ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।
কুমিল্লা জেলা পরিষদের অর্থ বরাদ্দকে কেন্দ্র করে ওঠা ১০ কোটি টাকা সংক্রান্ত অভিযোগের বিষয়ে বিস্তারিত ব্যাখ্যা দিয়েছেন এনসিপির দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক ও কুমিল্লা-৪ আসনের সংসদ সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহ। তিনি দাবি করেছেন, তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ সম্পূর্ণ রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত এবং বাস্তব তথ্য বিকৃত করে উপস্থাপন করা হয়েছে।
সাম্প্রতিক সময়ে কুমিল্লা জেলা পরিষদের প্রশাসকের একটি মন্তব্যকে ঘিরে রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা শুরু হয়। সেখানে এনসিপির শীর্ষ দুই নেতা ২৫ কোটি টাকা গ্রহণ করেছেন বলে দাবি করা হয়। পরে বিষয়টি নিয়ে হাসনাত আবদুল্লাহর বিরুদ্ধে ১০ কোটি টাকা গ্রহণের অভিযোগ ওঠে, যা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমে আলোচনার জন্ম দেয়।
রবিবার (৩১ মে) দিনগত রাতে ফেসবুক লাইভে এসে দীর্ঘ ৪৩ মিনিট বক্তব্য দেন হাসনাত আবদুল্লাহ। সেখানে তিনি নিজের অবস্থান স্পষ্ট করেন এবং বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্প ও বরাদ্দের হিসাব তুলে ধরেন। তার দাবি, রাজস্ব বরাদ্দ, এডিপি বরাদ্দ এবং বিশেষ বরাদ্দের পার্থক্য না বুঝে একটি পক্ষ রাজনৈতিক উদ্দেশ্য নিয়ে বিভ্রান্তিকর বক্তব্য দিয়েছে।
তিনি বলেন, এসব অর্থ কোনো ব্যক্তিগত ব্যবহারের জন্য নয়, বরং স্থানীয় উন্নয়ন প্রকল্পে ব্যয় করা হয়েছে। তার ভাষায়, “এসব বরাদ্দ প্রকল্পভিত্তিক, ব্যক্তিগতভাবে নেওয়ার কোনো সুযোগ নেই।”
হাসনাত আবদুল্লাহ আরও দাবি করেন, আলোচ্য অর্থ দেবিদ্বার এলাকার বিভিন্ন উন্নয়ন কাজে বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে এবং এসব প্রকল্পের তথ্য সরকারি ওয়েবসাইটেই উন্মুক্ত রয়েছে। তিনি বলেন, যে কেউ চাইলে অনলাইনে গিয়ে প্রকল্পভিত্তিক ব্যয়ের তথ্য যাচাই করতে পারবেন।
তার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪–২৫ অর্থবছরে এডিপি সাধারণ, এডিপি বিশেষ এবং রাজস্ব খাত মিলিয়ে মোট প্রায় আট কোটি ৪২ লাখ টাকার উন্নয়ন প্রকল্প দেবীদ্বারে বাস্তবায়নের জন্য বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। তিনি দাবি করেন, এসব প্রকল্পের সংখ্যা ১৪৮টি এবং সবই সরকারি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে অনুমোদিত।
তিনি অভিযোগ করেন, একটি মহল ইচ্ছাকৃতভাবে তথ্য বিকৃত করে প্রচার চালাচ্ছে এবং তাকে ব্যক্তিগতভাবে জড়ানোর চেষ্টা করা হচ্ছে। তার মতে, প্রকৃত তথ্য সহজেই যাচাইযোগ্য হলেও তা উপেক্ষা করে বিভ্রান্তি ছড়ানো হচ্ছে।
ফেসবুক লাইভে তিনি আরও বলেন, তার নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম পেজে ‘জবাবদিহিতা’ শিরোনামে নিয়মিতভাবে বরাদ্দ ও উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের তথ্য প্রকাশ করা হয়। তিনি দাবি করেন, স্বচ্ছতার অংশ হিসেবে এসব তথ্য জনসাধারণের জন্য উন্মুক্ত রাখা হয়েছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, স্থানীয় উন্নয়ন বরাদ্দকে কেন্দ্র করে প্রায়ই রাজনৈতিক বিতর্ক তৈরি হয়, যেখানে তথ্যের ব্যাখ্যা ও উপস্থাপনায় ভিন্নতা থেকে বিভ্রান্তি সৃষ্টি হতে পারে। তারা মনে করেন, এ ধরনের পরিস্থিতিতে সরকারি নথি ও স্বচ্ছ ব্যাখ্যা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
এদিকে এই অভিযোগ ও পাল্টা ব্যাখ্যা ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনা অব্যাহত রয়েছে। সমর্থকদের একটি অংশ হাসনাত আবদুল্লাহর বক্তব্যকে স্বচ্ছতার উদাহরণ হিসেবে দেখছেন, অন্যদিকে কিছু মহল বিষয়টি আরও বিস্তারিত তদন্তের দাবি তুলেছে।
সব মিলিয়ে ১০ কোটি টাকার এই বিতর্ক এখন রাজনৈতিক আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে। তবে বিষয়টির চূড়ান্ত সত্যতা নির্ভর করছে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনিক ও সরকারি নথিপত্র যাচাইয়ের ওপর।