নওগাঁয় নিপাহ ভাইরাসে এক নারীর মৃত্যু: সতর্কতা জারি

রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট টাইম : রবিবার, ৮ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬
  • ৩৭ বার

প্রকাশ: ০৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

নওগাঁ জেলায় চলতি বছরের প্রথম নিপাহ ভাইরাসে আক্রান্ত মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে। শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউট (আইইডিসিআর)-এর জ্যেষ্ঠ বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা শানি সুলতানা এই তথ্য গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেছেন। এটি এই বছরের দেশে নিপাহ ভাইরাসের প্রথম প্রমাণিত মৃত্যু।

নওগাঁর সিভিল সার্জন কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, মৃত রোগী ৪০–৫০ বছর বয়সী এক নারী। তার শরীরে প্রথম উপসর্গ দেখা দেয় ২১ জানুয়ারি। ওই সময় তিনি তীব্র জ্বর, মাথাব্যথা এবং শ্বাসকষ্টের মতো লক্ষণ অনুভব করেন। দ্রুত অবনতির কারণে ২৭ জানুয়ারি স্থানীয় হাসপাতালে ভর্তি করা হয় তাকে এবং পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা হয়। হাসপাতালে তার গলা থেকে শ্লেষ্মা ও রক্তের নমুনা সংগ্রহ করা হয় এবং ল্যাবরেটরিতে পরীক্ষা করা হয়। পরীক্ষার ফলাফলে নিপাহ ভাইরাসের উপস্থিতি নিশ্চিত হয়। এরপর ২৮ জানুয়ারি ওই নারীর মৃত্যু ঘটে।

নওগাঁর সিভিল সার্জন ডা. আমিনুল ইসলাম জানান, “গতকাল আইইডিসিআর থেকে গণমাধ্যমকে তথ্য জানানো হয়েছে। তবে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের লিখিত নোটিশ এখনও পাইনি। লিখিতভাবে জানালে আমরা বিস্তারিত তথ্য জনগণের সঙ্গে ভাগ করতে পারব।” তিনি আরও জানিয়েছেন, মৃত নারীর সাম্প্রতিক কোনো ভ্রমণের ইতিহাস নেই। তবে অসুস্থ হওয়ার আগে তিনি কিছুদিন কাঁচা খেজুরের রস পান করেছিলেন, যা নিপাহ ভাইরাসের সংক্রমণের সম্ভাব্য উৎস হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।

ডা. ইসলাম জানিয়েছেন, আক্রান্ত নারীর সংস্পর্শে যারা ছিলেন তাদেরও পরীক্ষা করা হয়েছে। এখন পর্যন্ত কেউ সংক্রমিত হয়নি। স্থানীয় স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ সতর্কতা হিসেবে পরিবারের সদস্য ও আশপাশের লোকজনের স্বাস্থ্য পরীক্ষা চালিয়ে যাচ্ছেন। এছাড়া জনসাধারণকে কাঁচা খেজুর, কাঁচা ফল এবং পোষ্য বা বন্য প্রাণীর সংস্পর্শে আসার ক্ষেত্রে সতর্ক থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

নিপাহ ভাইরাস এক ধরনের ঝুঁকিপূর্ণ ভাইরাস যা প্রাথমিকভাবে বাদামবাধু, ফলমূল এবং সেই সঙ্গে বাদামবাধু জাতীয় ফলভক্ষণকারী বাদুড় থেকে মানুষের মধ্যে ছড়িয়ে যেতে পারে। এটি দ্রুত সংক্রমণ ঘটাতে পারে এবং মৃত্যুর হারও বেশ উচ্চ। দেশের স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা স্থানীয়দের সতর্ক থাকার পাশাপাশি স্বাস্থ্যকর্মীদের প্রস্তুত থাকতে নির্দেশ দিয়েছেন।

নওগাঁর এ ঘটনায় স্থানীয় হাসপাতালগুলোতে নিপাহ ভাইরাস শনাক্তকরণ এবং রোগীর তত্ত্বাবধানে বিশেষ প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। ডাক্তার এবং স্বাস্থ্যকর্মীরা যথাযথ জীবাণুনাশক ব্যবস্থা ও ব্যক্তিগত সুরক্ষা সামগ্রী ব্যবহার করছেন। এছাড়া জনসাধারণকে ঠাণ্ডা, জ্বর বা শ্বাসকষ্টের মতো উপসর্গ দেখা দিলে অবিলম্বে নিকটস্থ হাসপাতালে রিপোর্ট করার জন্য আহ্বান জানানো হয়েছে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, নিপাহ ভাইরাসের সংক্রমণ প্রতিরোধের জন্য পরিচ্ছন্নতা, কাঁচা খাবার থেকে দূরে থাকা এবং নির্দিষ্ট স্বাস্থ্য নির্দেশনা মেনে চলা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আক্রান্ত ব্যক্তির সঙ্গে সরাসরি সংস্পর্শ এড়ানো এবং প্রাথমিক লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসা নেওয়া বাঁচানোর ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, বর্তমানে প্রাথমিক পর্যায়ে রোগ নিয়ন্ত্রণে রয়েছে এবং পরিস্থিতি মনিটরিং করা হচ্ছে। তবে জনসাধারণের সহযোগিতা ছাড়া সংক্রমণ রোধ করা কঠিন। তাই তারা সবাইকে সতর্ক থাকার জন্য বারবার অনুরোধ করছেন।

নওগাঁয় নিপাহ ভাইরাসে মৃত্যুর ঘটনা দেশবাসীকে স্বাস্থ্য সচেতনতায় আরও গুরুত্বারোপ করেছে। বিশেষজ্ঞরা উল্লেখ করেছেন, ভাইরাসের প্রাথমিক পর্যায়ে দ্রুত শনাক্তকরণ এবং স্বাভাবিক প্রতিরোধ ব্যবস্থা গ্রহণেই প্রাণ রক্ষা সম্ভব।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত