স্বাস্থ্য ক্যাডারে সরাসরি নিয়োগে পিএসসির ৩০০ পদের বিজ্ঞপ্তি

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : সোমবার, ৯ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬
  • ৪৭ বার
স্বাস্থ্য ক্যাডারে সরাসরি নিয়োগে পিএসসির ৩০০ পদের বিজ্ঞপ্তি

প্রকাশ: ৯ ফেব্রুয়ারি  ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

বাংলাদেশের স্বাস্থ্য খাতে জনবল সংকট নিরসন ও বিশেষায়িত চিকিৎসাসেবা আরও শক্তিশালী করতে বিসিএস (স্বাস্থ্য) ক্যাডারে বড় পরিসরে সরাসরি নিয়োগের উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশন (পিএসসি)। বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে মোট ৩০০টি পদে সরাসরি নিয়োগের লক্ষ্যে আবেদন আহ্বান করা হয়েছে। রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬) পিএসসির ওয়েবসাইটে প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এ নিয়োগ কার্যক্রমের বিস্তারিত তথ্য জানানো হয়।

স্বাস্থ্যখাত দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ও সংবেদনশীল খাত। সরকারি হাসপাতাল, মেডিকেল কলেজ ও বিশেষায়িত চিকিৎসাকেন্দ্রগুলোতে দক্ষ ও অভিজ্ঞ চিকিৎসক ও শিক্ষকের ঘাটতি দীর্ঘদিনের। সেই বাস্তবতা বিবেচনায় নিয়ে পিএসসি এই নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিকে বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে দেখছে। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এই নিয়োগ কার্যক্রম বাস্তবায়িত হলে সরকারি স্বাস্থ্যসেবার মান উন্নয়নে তা উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রাখবে।

বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, বিসিএস (স্বাস্থ্য) ক্যাডারের আওতায় অধ্যাপক, সহযোগী অধ্যাপক, সিনিয়র কনসালট্যান্ট ও সহকারী অধ্যাপক—এই চারটি গুরুত্বপূর্ণ পদে সরাসরি নিয়োগ দেওয়া হবে। সর্বমোট ৩০০টি পদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি নিয়োগ দেওয়া হবে সহকারী অধ্যাপক পদে, যা ভবিষ্যৎ প্রজন্মের চিকিৎসক ও শিক্ষকদের জন্য একটি বড় সুযোগ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

অধ্যাপক পদে মোট ৩৫ জনকে নিয়োগ দেওয়া হবে। এ পদের জন্য প্রার্থীদের সর্বোচ্চ বয়সসীমা নির্ধারণ করা হয়েছে ৫০ বছর, তবে বিভাগীয় প্রার্থীদের ক্ষেত্রে বয়সসীমা শিথিলযোগ্য। বেতন স্কেল নির্ধারণ করা হয়েছে জাতীয় বেতন স্কেলের গ্রেড–৩ অনুযায়ী, যা মাসিক ৫৬ হাজার ৫০০ টাকা থেকে শুরু করে সর্বোচ্চ ৭৪ হাজার ৪০০ টাকা পর্যন্ত। দীর্ঘ অভিজ্ঞতা ও উচ্চতর যোগ্যতাসম্পন্ন চিকিৎসকদের জন্য এ পদটি বিশেষ মর্যাদাপূর্ণ বলে মনে করা হয়।

সহযোগী অধ্যাপক পদে নিয়োগ দেওয়া হবে ১১৩ জনকে। এ পদের জন্য বয়সসীমা সর্বোচ্চ ৪৫ বছর নির্ধারণ করা হয়েছে, বিভাগীয় প্রার্থীদের ক্ষেত্রে এখানেও বয়সে ছাড় দেওয়ার সুযোগ রয়েছে। বেতন গ্রেড–৪ অনুযায়ী মাসিক ৫০ হাজার টাকা থেকে ৭১ হাজার ২০০ টাকা পর্যন্ত। মেডিকেল কলেজ ও সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানে শিক্ষাদান ও গবেষণায় যুক্ত অভিজ্ঞ চিকিৎসকদের জন্য এই পদটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

সিনিয়র কনসালট্যান্ট পদে মোট ৩১টি শূন্য পদে নিয়োগ দেওয়া হবে। এ পদের জন্য সর্বোচ্চ বয়সসীমা নির্ধারণ করা হয়েছে ৪০ বছর, যদিও বিভাগীয় প্রার্থীদের ক্ষেত্রে বয়স শিথিলযোগ্য। বেতন স্কেল গ্রেড–৫ অনুযায়ী ৪৩ হাজার টাকা থেকে ৬৯ হাজার ৮৫০ টাকা পর্যন্ত। সিনিয়র কনসালট্যান্টরা সরকারি হাসপাতালগুলোতে বিশেষায়িত চিকিৎসাসেবার মূল ভরকেন্দ্র হিসেবে কাজ করে থাকেন।

সবচেয়ে বেশি সংখ্যক নিয়োগ দেওয়া হবে সহকারী অধ্যাপক পদে। এই ক্যাটাগরিতে মোট ১২১ জনকে নিয়োগ দেওয়ার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। বয়সসীমা সর্বোচ্চ ৪৫ বছর, বিভাগীয় প্রার্থীদের জন্য এখানে শিথিলতার সুযোগ রয়েছে। বেতন গ্রেড–৬ অনুযায়ী ৩৫ হাজার ৫০০ টাকা থেকে ৬৭ হাজার ১০ টাকা পর্যন্ত। তরুণ ও মধ্যম পর্যায়ের চিকিৎসকদের জন্য এই পদটি সরকারি স্বাস্থ্য ক্যাডারে প্রবেশের একটি বড় সুযোগ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

আবেদনের প্রক্রিয়া পুরোপুরি অনলাইনভিত্তিক। প্রার্থীদের টেলিটকের নির্ধারিত ওয়েবসাইট অথবা বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশনের অফিসিয়াল ওয়েবসাইটের মাধ্যমে অনলাইন আবেদনপত্র BPSC Form-D পূরণ করতে হবে। অনলাইন রেজিস্ট্রেশন সম্পন্ন করার পাশাপাশি নির্ধারিত আবেদন ফি জমা দিতে হবে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে। পিএসসি জানিয়েছে, অনলাইন আবেদন ব্যতীত অন্য কোনো মাধ্যমে আবেদন গ্রহণ করা হবে না।

আবেদন ফি নির্ধারণ করা হয়েছে ২০০ টাকা। তবে ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠী, প্রতিবন্ধী এবং তৃতীয় লিঙ্গের প্রার্থীদের জন্য আবেদন ফি কমিয়ে ৫০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। এই বিশেষ ছাড়কে অনেকেই অন্তর্ভুক্তিমূলক নিয়োগ নীতির ইতিবাচক দৃষ্টান্ত হিসেবে দেখছেন।

বিজ্ঞপ্তিতে আবেদন জমাদানের সময়সীমাও স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে। আবেদনপত্র পূরণ ও ফি জমাদান শুরু হবে ৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, দুপুর ১২টা থেকে। অনলাইন আবেদন জমাদানের শেষ সময় নির্ধারণ করা হয়েছে ৮ মার্চ ২০২৬, রাত ১১টা ৫৯ মিনিট পর্যন্ত। নির্ধারিত সময়ের পর কোনো আবেদন গ্রহণ করা হবে না বলে জানিয়েছে পিএসসি।

এছাড়া নিয়োগসংক্রান্ত কিছু গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনা ও শর্তও বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে। নতুন পদ সৃষ্টি, পদ বিলুপ্তি, পদোন্নতি, অবসর, মৃত্যু, পদত্যাগ বা অপসারণের কারণে বিজ্ঞাপিত শূন্য পদের সংখ্যা পরিবর্তিত হতে পারে বলে জানিয়েছে কমিশন। আবেদন ফি জমাদানের পর আর কোনো সংশোধনের সুযোগ থাকবে না, ফলে আবেদনকারীদের যথেষ্ট সতর্কতার সঙ্গে ফরম পূরণ করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে সরকারের পূর্বানুমতি ছাড়া কোনো প্রার্থী বিদেশি নাগরিককে বিয়ে করলে বা বিয়ের প্রতিজ্ঞা করলে তা নিয়োগের ক্ষেত্রে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করতে পারে—এ বিষয়টিও স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে।

স্বাস্থ্যখাত সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞদের মতে, এই নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি বাস্তবায়িত হলে দেশের সরকারি চিকিৎসাসেবার মান উন্নয়নে তাৎপর্যপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। মেডিকেল কলেজগুলোতে শিক্ষক সংকট কমবে, হাসপাতালগুলোতে বিশেষায়িত সেবার পরিধি বাড়বে এবং রোগীরা আরও মানসম্মত চিকিৎসা পাওয়ার সুযোগ পাবেন। একই সঙ্গে তরুণ চিকিৎসকদের জন্য সরকারি ক্যাডারে যুক্ত হওয়ার একটি বড় দরজা খুলে যাবে।

সার্বিকভাবে বলা যায়, বিসিএস (স্বাস্থ্য) ক্যাডারে ৩০০ পদে সরাসরি নিয়োগের এই উদ্যোগ দেশের স্বাস্থ্যব্যবস্থার জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। স্বচ্ছ ও মেধাভিত্তিক নিয়োগ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে যোগ্য প্রার্থীরা নির্বাচিত হলে তা দীর্ঘমেয়াদে জনস্বাস্থ্যের উন্নয়ন এবং সরকারি স্বাস্থ্যসেবার ওপর জনগণের আস্থা বৃদ্ধিতে সহায়ক হবে—এমন প্রত্যাশাই করছেন সংশ্লিষ্ট মহল।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত