প্রকাশ: ৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।
শেরপুর সদর থানার থেকে গণ-অভ্যুত্থানের সময় লুট হওয়া একটি শটগান উদ্ধার এবং একজন যুবককে গ্রেফতার করেছে যৌথবাহিনী। রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) ভোররাতে সদর উপজেলার সাপমারী ও ভাতশালা ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে এই শটগানসহ তাকে আটক করা হয়। গ্রেফতারকৃত ব্যক্তি হলেন হারেজ মিয়া (৩২), যিনি ভাতশালা ইউনিয়নের সাপমারী পশ্চিম সৈনিকপাড়া এলাকার জুবেদ আলীর ছেলে।
যৌথবাহিনী সূত্রে জানা গেছে, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট গণ-অভ্যুত্থানের সময় শেরপুর সদর থানার অস্ত্রাগার থেকে একটি শটগান লুট করা হয়েছিল। সেই ঘটনায় অভিযুক্তদের শনাক্ত করতে এবং অস্ত্রটি উদ্ধার করার লক্ষ্যে দীর্ঘদিন ধরে গোয়েন্দা নজরদারি চালানো হয়েছিল। বৃহস্পতিবার ভোরে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে যৌথবাহিনী অভিযান পরিচালনা করে সাপমারী ও ভাতশালা এলাকার বিভিন্ন স্থান পরিদর্শন করে। অভিযানের এক পর্যায়ে হারেজ মিয়া শটগানসহ আটক হন।
শেরপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) নাসরিন আক্তার জানান, “আটককৃত হারেজ মিয়ার বিরুদ্ধে সদর থানায় সংশ্লিষ্ট ধারায় মামলা করা হয়েছে। আইন অনুযায়ী তার বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।” এছাড়া তিনি আরও বলেন, “আবারও জনগণকে অনুরোধ করা হচ্ছে যে, যেকোনো ধরনের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের তথ্য তাদের নিকটস্থ সেনা ক্যাম্প বা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে জানাতে হবে, যাতে সময়মতো ব্যবস্থা নেওয়া যায় এবং সমাজে শান্তি বজায় থাকে।”
এই ঘটনা স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। শাপমারী ও ভাতশালা ইউনিয়নের বাসিন্দারা জানিয়েছেন, শুটিং বা অস্ত্রধারী কর্মকাণ্ডের ঘটনায় এলাকার সাধারণ মানুষ আতঙ্কিত হয়ে পড়েছিল। এলাকাবাসী আশা করছেন, যৌথবাহীনের এ ধরনের অভিযান ক্রমাগত চালু থাকলে ভবিষ্যতে এমন ঘটনা প্রতিরোধ করা সম্ভব হবে।
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এই ধরনের লুটপাট ও অস্ত্র ব্যবহারের ঘটনায় শৃঙ্খলা বাহিনী দ্রুত এবং দৃঢ় পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন। শুধুমাত্র গ্রেফতার নয়, অস্ত্র উদ্ধার ও অপরাধীদের আইনের আওতায় আনা সমাজের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য অপরিহার্য। পাশাপাশি স্থানীয় জনগণকে সচেতন করে অপরাধমূলক কার্যক্রম বন্ধ করার ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে হবে।
গ্রেফতার হারেজ মিয়ার বিষয়ে আরও জানা গেছে, গণ-অভ্যুত্থানের সময় লুট হওয়া শটগানটি সে দীর্ঘদিন ধরে বহন করছিল এবং স্থানীয় এলাকায় সহিংস কর্মকাণ্ডে ব্যবহার করার চেষ্টা করতে পারে বলে সন্দেহ করা হচ্ছে। যৌথবাহিনী জানিয়েছে, তার সঙ্গে অন্য কোনো সহযোগী থাকলে তাদের সনাক্ত করতেও তদন্ত চলমান আছে।
এটি শেরপুরের জন্য সতর্কবার্তা হিসেবে কাজ করছে। স্থানীয়রা বলছেন, “অস্ত্রাগার থেকে লুট হওয়া শটগানসহ গ্রেফতার হওয়া যুবকটির ঘটনা সমাজে নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য গুরুত্বপূর্ণ উদাহরণ। আমরা চাই আইনশৃঙ্খলা বাহিনী আরও সক্রিয় হোক এবং সাধারণ মানুষ নিরাপদে থাকতে পারুক।”
এ ধরনের অভিযান ও গ্রেফতারের মাধ্যমে শুধু অস্ত্র উদ্ধার নয়, স্থানীয় জনগণের আস্থা পুনঃস্থাপন এবং অপরাধ কমানো সম্ভব হবে। এছাড়া যৌথবাহিনী আরও জানিয়েছেন, এলাকার অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত অন্য ব্যক্তি ও গোষ্ঠীকে শনাক্ত করে দ্রুত আইনের আওতায় আনা হবে।
শেরপুরের পুলিশ ও যৌথবাহিনীর পদক্ষেপ সামাজিক স্থিতিশীলতার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। স্থানীয় প্রশাসন আশা করছে, এই অভিযান অন্যত্রও প্রেরণা হিসেবে কাজ করবে। এছাড়া তারা জনসাধারণকে অনুরোধ করেছে যে, কোনরূপ অপরাধমূলক তথ্য পাওয়া গেলে তা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে অবিলম্বে জানান।
নাগরিকরা মনে করছেন, এমন ধরনের অভিযান আরও বেশি হওয়া উচিত যাতে সমাজে শান্তি ও নিরাপত্তা বজায় থাকে। শেরপুরের পুলিশ ও যৌথবাহিনী জানিয়েছেন, তারা নিয়মিত গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালাচ্ছেন এবং অপরাধীদের ধরার চেষ্টা অব্যাহত রাখবেন।
এই ঘটনার মাধ্যমে বোঝা যাচ্ছে যে, গণ-অভ্যুত্থানের সময় লুট হওয়া অস্ত্র সামাজিক নিরাপত্তার জন্য কতটা হুমকি সৃষ্টি করতে পারে। তাই শৃঙ্খলা বাহিনী এবং স্থানীয় জনগণকে একসাথে কাজ করতে হবে।