প্রকাশ: ৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।
জমি সংক্রান্ত পারিবারিক বিরোধের জের ধরে জামালপুরের মেলান্দহ পৌরসভার দেওলাবাড়ী এলাকায় ছোট ভাই মো. আলম মিয়ার ছুরিকাঘাতে বড় ভাই নূরনবী হোসেন (৩৭) নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন নূরনবীর মেয়ে জান্নাতুল (১৪) ও তার বড় ভাই বিল্লাল হোসেন (৪৫)। সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারি) সকাল ৯টার দিকে এ ঘটনা ঘটেছে।
নিহত নূরনবী হোসেন এলাকার পরিচিত ব্যবসায়ী ছিলেন। স্থানীয়রা জানায়, তিনি মৃত সুরুজ আলীর ছেলে। নিহতের ছোট ভাই আলম মিয়া (৩৪) দীর্ঘদিন সিঙ্গাপুরে প্রবাসী ছিলেন। পুলিশ ও স্থানীয়দের বরাতে জানা গেছে, দুই ভাইয়ের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বসতভিটার জমি নিয়ে বিরোধ চলছিল।
সোমবার সকালে নূরনবীর ছোট মেয়ে তার দাদি বেলাতন বেগমের কাছে গেলে আলম মিয়া তাকে বাড়ি থেকে বের করতে গিয়ে হাতাহাতি শুরু করেন। এরপর দুই ভাইয়ের মধ্যে কথাকাটাকাটি এবং উত্তেজনা তীব্র আকার ধারণ করে। একপর্যায়ে আলম মিয়া ঘর থেকে ছুরি নিয়ে এসে নূরনবীর পেটে আঘাত করেন। এতে নূরনবী মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। আহতদের মধ্যে নূরনবীর বড় ভাই বিল্লাল ও মেয়ে জান্নাতুলও স্থানীয়রা উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যান। হাসপাতালে নেওয়ার পথে নূরনবী মারা যান।
নিহতের স্ত্রী শাপলা বেগম স্থানীয় সংবাদকর্মীদের বলেন, “ঘর থেকে দৌড়ে এসে ছুরি দিয়ে আমার স্বামীর পেটে আঘাত করেছে। আমার সন্তানদের রক্ষা করতে গিয়ে আমার মেয়ে ও বড় ছেলেও আহত হয়েছেন। আমি এখন কী করব, আমার তিন মেয়ে এখন কী করবে? আমি চাই এর ন্যায্য বিচার হোক।”
মেলান্দহ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ওবায়দুর রহমান জানান, দুই ভাইয়ের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত পারিবারিক বিরোধ চলছিল। সেই বিরোধের জেরেই ছোট ভাই নূরনবীকে আঘাত করে হত্যা করেছে। ঘটনার পরপরই অভিযুক্ত আলম মিয়া পরিবারের সঙ্গে মিলিয়ে পালিয়ে গেছে। নিহতের স্ত্রী শাপলা বেগম মেলান্দহ থানায় মামলা দায়ের করেছেন। পুলিশের তৎপরতায় অভিযুক্তকে গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।
ওসি মো. ওবায়দুর রহমান আরও জানান, নিহতের লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য জামালপুর জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। তিনি বলেন, “এ ধরনের পারিবারিক বিরোধ রোধে স্থানীয় স্তরে সংলাপ ও আইনগত সমাধান প্রয়োজন। আমরা চেষ্টা করছি যাতে অভিযুক্তকে দ্রুত গ্রেফতার করা যায় এবং ন্যায্য বিচার নিশ্চিত হয়।”
স্থানীয়রা জানিয়েছেন, দুই ভাইয়ের মধ্যে জমি সংক্রান্ত বিবাদ অনেক বছর ধরে চলছিল। নূরনবীর পেশা ও পরিচিতি থাকার কারণে পরিবারে তার যথেষ্ট সম্মান ছিল। কিন্তু সামান্য উত্তেজনা ও জমি নিয়ে বিরোধ এক সময় হত্যার ঘটনা পর্যন্ত পৌঁছে যায়। এই ঘটনার পর এলাকায় আতঙ্ক বিরাজ করছে এবং পরিবারের সদস্যরা গভীর শোক ও সন্ত্রস্ত।
নিহতের স্ত্রী শাপলা বেগমের অভিযোগ, পরিবারকে রক্ষা করতে গিয়ে তার সন্তানরা আহত হয়েছেন। তিনি চান, অভিযুক্তকে গ্রেফতার করা হোক এবং এ ধরনের ঘটনা পুনরায় যেন না ঘটে তা নিশ্চিত করা হোক। স্থানীয় প্রশাসন ও পুলিশ বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখছে।
মেলান্দহ পৌরসভা ও স্থানীয় জনসাধারণের বরাতে জানা গেছে, এই হত্যা কেবল পারিবারিক বিরোধের ফল নয়, বরং সামাজিক নিরাপত্তা ও ন্যায়বিচারের জন্য স্থানীয় প্রশাসনের সতর্কতা বৃদ্ধির প্রয়োজন। তারা আশা করছেন, বিচার প্রক্রিয়া দ্রুত কার্যকর হবে এবং পরিবারকে ন্যায্য সুরক্ষা দেওয়া হবে।
এই ঘটনায় জামালপুরের সামাজিক ও পারিবারিক বন্ধন এক চরম পরীক্ষা দেয়। এলাকায় পরিবারগুলোর মধ্যে দীর্ঘদিনের জমি বিরোধ এবং পারিবারিক উত্তেজনা কেবল একজন মানুষের প্রাণহানির মাধ্যমে প্রকাশ পেল। স্থানীয় প্রশাসন, পুলিশ এবং সমাজের সব স্তরের মানুষ এখন এ ঘটনার প্রভাব মোকাবিলায় তৎপর রয়েছে।