প্রকাশ: ০৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।
নাইজারের পশ্চিম টিলাবেরি অঞ্চলে সামরিক বাহিনীর ড্রোন হামলায় ১৭ জন বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে কয়েকজন শিশুও রয়েছেন। হিউম্যান রাইটস ওয়াচ (এইচআরডব্লিউ) সোমবার এ তথ্য জানিয়েছে। হামলাটি বুরকিনা ফাসো সীমান্তের কাছাকাছি কোকোলোকো গ্রামে ঘটে, যেখানে ওই সময় জনাকীর্ণ বাজারে মানুষদের ভিড় ছিল।
এইচআরডব্লিউ জানিয়েছে, ৬ জানুয়ারি ওই বাজারে ড্রোন হামলায় কমপক্ষে ১৭ জন বেসামরিক নিহত হন এবং অন্তত ১৩ জন আহত হয়েছেন। হামলায় তিনজন যোদ্ধাও নিহত হয়েছেন বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, সকালে গ্রামের ওপর দিয়ে ড্রোনটি দুবার উড়তে দেখেছেন এবং এরপর বাজারে অস্ত্র নিক্ষেপ করা হয়। হামলার সময় শত শত মানুষ বাজারে ছিল। প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্য অনুযায়ী, এই হামলা আন্তর্জাতিক যুদ্ধ আইন লঙ্ঘন করেছে এবং এটি যুদ্ধাপরাধের অন্তর্ভুক্ত হতে পারে।
নাইজারের পশ্চিম টিলাবেরি অঞ্চল দীর্ঘদিন ধরে জিহাদি সহিংসতায় ঝুঁকিপূর্ণ। দেশটির এই সীমান্তবর্তী এলাকা বুরকিনা ফাসো ও মালির সঙ্গে মিলিত হওয়ায় নিরাপত্তা জটিল। আল-কায়েদা ও দায়েশ সংস্থার সঙ্গে যুক্ত জিহাদি যোদ্ধারা প্রায় এক দশক ধরে স্থানীয়দের ওপর হামলা চালাচ্ছে। সামরিক হামলার উদ্দেশ্য মূলত জিহাদি গোষ্ঠীগুলোর কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণ করা হলেও, বারবার বেসামরিক লোক নিহত হওয়ায় আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলো উদ্বেগ প্রকাশ করেছে।
২০২৩ সালে নাইজারে অভ্যুত্থানের মাধ্যমে ক্ষমতায় আসা সামরিক নেতারা অঞ্চলটিতে বিশাল সেনাবাহিনী মোতায়েন করেছে। তবু তারা তিলাবেরিতে জিহাদি গোষ্ঠীগুলোকে নিয়ন্ত্রণে রাখতে লড়াই করছেন। গত মাসে দায়েশ গোষ্ঠী নিয়ামে বিমানবন্দর লক্ষ্য করে হামলার দাবি করেছে। এই হামলার পর নিরাপত্তা চিত্র আরও সংকটময় হয়ে উঠেছে।
এইচআরডব্লিউ-এর বিবৃতিতে বলা হয়েছে, সামরিক বাহিনীর ড্রোন হামলার ফলে ঘটনার সময় বাজারে থাকা সাধারণ মানুষ এবং শিশুদের ওপর মারাত্মক প্রভাব পড়েছে। নিহতদের পরিবারের সদস্যরা এখনো শোকাহত। আহতদের মধ্যে অনেকের অবস্থা গুরুতর। এই অঞ্চলে নিরাপত্তা ব্যবস্থা থাকা সত্ত্বেও বেসামরিক নাগরিকরা সুরক্ষাহীন অবস্থায় রয়ে গেছে।
নাইজারের এই অংশে অর্থনৈতিক ও সামাজিক জীবন কঠিন পরিস্থিতিতে রয়েছে। স্থানীয়রা জানিয়েছেন, জিহাদি হামলা এবং সামরিক প্রতিক্রিয়ার কারণে প্রতিদিনের জীবনধারা ব্যাহত হচ্ছে। বাজারে জড়ো হওয়া মানুষদের ওপর হামলা সাধারণ জনজীবনের ওপর ভয়ঙ্কর প্রভাব ফেলেছে। পরিবারের সদস্যরা নিরাপদে চলাফেরা করতে পারছে না, স্কুলে যেতে বাধ্য হচ্ছে বিপজ্জনক পরিবেশের মধ্যে।
বিশ্ব মানবাধিকার সংস্থাগুলোও বারবার সরকার ও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে এই ধরনের হামলার প্রতিবাদ জানিয়েছে। হিউম্যান রাইটস ওয়াচ উল্লেখ করেছে, সামরিক বাহিনী জনবসতি এলাকা লক্ষ্য করলে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আইন লঙ্ঘিত হয়। বেসামরিক নাগরিকদের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে জরুরি পদক্ষেপ গ্রহণ করা আবশ্যক।
প্রত্যক্ষদর্শীদের বর্ণনায় জানা গেছে, ড্রোন হামলার সময় আতঙ্কে লোকেরা দৌড়ে পালাতে চেয়েছিলেন। কিছু শিশু এবং নারী স্থানীয়রা দ্রুত উদ্ধার করলেও হামলার ধ্বংসের পরিমাণ অনেক। বাজারের দোকানপাট ধ্বংস হয়ে গেছে এবং বিপুল পরিমাণ বাণিজ্যিক ক্ষতি হয়েছে। স্থানীয়রা মনে করছেন, এমন হামলার জন্য স্থানীয় প্রশাসন এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের নজরদারি অত্যন্ত জরুরি।
এই অঞ্চলে ড্রোন হামলা নতুন নয়। পূর্ববর্তী ঘটনাগুলোতে বেসামরিক ক্ষতি হয়েছে এবং নিরাপত্তাহীনতার কারণে মানুষ ঘরবাড়ি ছেড়ে চলে যেতে বাধ্য হয়েছে। সামরিক বাহিনীর প্রতিক্রিয়া জিহাদি হামলাকে নিয়ন্ত্রণ করতে না পারার কারণে বেসামরিক লোকেরা সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। হিউম্যান রাইটস ওয়াচ-এর মতে, পরিস্থিতি যুদ্ধাপরাধের সমতুল্য হতে পারে এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে দ্রুত তদন্তে উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে।
নাইজারের পশ্চিম টিলাবেরি অঞ্চলে শান্তি ও নিরাপত্তা পুনঃস্থাপন করার জন্য আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকরা পরিস্থিতি মনিটর করছেন। তবে সামরিক ড্রোন হামলার ফলে নিরাপত্তাহীনতা বৃদ্ধি পেয়েছে এবং মানুষজন তাদের দৈনন্দিন কাজকর্ম পরিচালনায় চরম ভয়াবহ পরিস্থিতিতে রয়েছেন। এই ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলো পুনর্বাসন এবং ক্ষতিপূরণের দাবিতে সরব হয়ে উঠেছে।