৬ হাজারের বেশি কেন্দ্রের ভোটের হার এখনও অনির্ধারিত: ইসি

একটি বাংলাদেশ ডেস্ক
  • আপডেট টাইম : বৃহস্পতিবার, ১২ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬
  • ১৪ বার
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের ভোটগ্রহণ চলাকালে বিকেলে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিনের সঙ্গে বৈঠকে বসেছে ১১ দলীয় জোটের একটি প্রতিনিধি দল।

প্রকাশ: ১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও রাষ্ট্রীয় গণভোটের দিন দেশের নির্বাচনী প্রক্রিয়া এক অভূতপূর্ব জটিলতায় প্রবেশ করেছে। সারাদেশে ৪২ হাজার ৬৫১টি ভোটকেন্দ্রে ভোট গ্রহণ শেষ হয়েছে, কিন্তু মধ্যাহ্নভোজনের সময় পর্যন্ত এখনো ৬ হাজার ৬২০টি কেন্দ্রের ভোটের হার নির্বাচন কমিশন (ইসি) পায়নি। দুপুর ২টার তথ্য অনুযায়ী, ৩৬ হাজার ৩১টি কেন্দ্রে গড় ভোটগ্রহণের হার দাঁড়িয়েছে ৪৭ দশমিক ৯১ শতাংশ।

বিকেল সোয়া ৪টায় নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ সাংবাদিকদের জানান, সকাল সাড়ে সাতটা থেকে দুপুর দুইটা পর্যন্ত সংগৃহীত তথ্যের ভিত্তিতে এই হিসাব প্রকাশ করা হয়েছে। বাকি কেন্দ্রগুলোর তথ্য সংগ্রহ ও যাচাই প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। তিনি আরও জানান, তিনটি আসনের শতাধিক কেন্দ্রে ভোট বন্ধের দাবি করেছে জামায়াত। তবে এ ধরনের অভিযোগ যাচাই সাপেক্ষে প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্ট রিটার্নিং কর্মকর্তার মাধ্যমে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আগাম কোনো মন্তব্য করলে জনগণ বিভ্রান্ত হতে পারে বলে সচিব মন্তব্য করেন।

এদিনের ভোট প্রক্রিয়া শুরুর পর থেকে কিছু বিচ্ছিন্ন ঘটনায় সতর্কতার পাশাপাশি স্থানীয় প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করেছেন। বিশেষ করে কয়েকটি কেন্দ্রে ভোটারদের কেন্দ্রমুখী যাত্রা বাধাগ্রস্ত হলেও সেনাবাহিনী দ্রুত হস্তক্ষেপ করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এনেছে। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, কেন্দ্রে ভোটার উপস্থিতির কম থাকায় ভোটগ্রহণের প্রাথমিক হার কিছুটা নিম্নমুখী হলেও দুপুরের পর ভোটাররা ধীরে ধীরে কেন্দ্রে পৌঁছাতে শুরু করেন।

ইসি সচিব আখতার আহমেদ বলেন, ভোটগ্রহণে বড় কোনো সমস্যা দেখা যায়নি। তিনি নিজে দুটি কেন্দ্র পরিদর্শন করে তথ্য সংগ্রহ করেছেন এবং বিকেলের দিকে ভোটার উপস্থিতি বৃদ্ধি পাচ্ছে বলে জানিয়েছেন। তিনি বলেন, “চূড়ান্ত ভোটের হার নির্ভর করবে যত ভোট শেষ পর্যন্ত কাস্ট করা হবে। সেক্ষেত্রে প্রত্যাশিত ভোটের হার সেই অনুযায়ী ধরা হবে।”

এবারের নির্বাচন দেশের জন্য এক বিশেষ চ্যালেঞ্জও বয়ে এনেছে। সাধারণ সংসদ নির্বাচনের পাশাপাশি প্রথমবারের মতো সংবিধান সংশোধন সংক্রান্ত গণভোট অনুষ্ঠিত হয়েছে। ভোটাররা দুইটি ভিন্ন রঙের ব্যালট পেপার ব্যবহার করেছেন—সাদা সংসদ নির্বাচনের জন্য, গোলাপি গণভোটের জন্য। এই দ্বৈত ভোট প্রক্রিয়া কেন্দ্রগুলোতে অতিরিক্ত দায়িত্ব ও সময়সাপেক্ষ হলেও নির্বাচন কমিশন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী উভয়ই তা সুষ্ঠুভাবে পরিচালনার জন্য মাঠে উপস্থিত ছিলেন।

আখতার আহমেদ সাংবাদিকদের জানান, ভোটগ্রহণের নিরাপত্তা ও সুষ্ঠু পরিবেশ নিশ্চিত করতে ৯ লাখ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী মোতায়েন ছিল। তার মধ্যে সেনাবাহিনী, পুলিশ, র‍্যাব, বিজিবি ও আনসার বাহিনী দায়িত্ব পালন করেছেন। পাশাপাশি নির্বাচনের নিরীক্ষণ ও নজরদারি কার্যক্রমে সিসিটিভি ক্যামেরা, ‘বডি ওর্ন ক্যামেরা’ এবং ড্রোন ব্যবহৃত হয়েছে। তিনি বলেন, “ভোটারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং ভোটের সুষ্ঠু প্রক্রিয়া বজায় রাখা আমাদের প্রধান লক্ষ্য। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে এবং ভোটাররা নিরাপদে ভোট দিতে পারছেন।”

সংকটাপন্ন কেন্দ্রগুলোয় ভোট বন্ধের দাবি থাকলেও সচিব জানালেন, কমিশন ইতোমধ্যেই প্রাপ্ত অভিযোগ যাচাই প্রক্রিয়া শুরু করেছে। প্রমাণিত হলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এদিকে, ভোটের হার প্রকাশ না হওয়া কেন্দ্রগুলোতে ভোটগ্রহণ অব্যাহত রয়েছে এবং বিকেলে ভোটার উপস্থিতির সঙ্গে সঙ্গে হারও বৃদ্ধি পাচ্ছে।

নির্বাচনের সার্বিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে দেখা গেছে, ভোটাররা আগের দিনের প্রস্তুতি ও প্রচার-প্রচারণার ফলস্বরূপ কেন্দ্রে আগমন করছেন। ভোটারদের মধ্যে উৎসাহ, স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ এবং শান্তিপূর্ণ পরিবেশ আজকের নির্বাচনকে স্মরণীয় করেছে। ইসি সচিবের মতে, “ভোটাররা দীর্ঘ সময় লাইনে দাঁড়ালেও কোনোরকম অব্যবস্থা বা আতঙ্ক দেখা যায়নি। এটি প্রমাণ করছে যে ভোটপ্রক্রিয়া সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণভাবে পরিচালিত হচ্ছে।”

এদিনের ভোট প্রক্রিয়া দেশের জন্য কেবল গণতন্ত্রের পরীক্ষা নয়, বরং দেশের প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এবং ভোটারদের সমন্বয় পরীক্ষারও একটি গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত ছিল। ভোটারদের উপস্থিতি এবং শান্তিপূর্ণ অংশগ্রহণ প্রমাণ করছে, দেশবাসী আজ দীর্ঘ দিন পর ভোটের স্বাধীনতা উপভোগ করছে।

এছাড়া, চূড়ান্ত ফলাফলের দিকে নজর রাখার জন্য নির্বাচন কমিশন সমস্ত প্রক্রিয়া আরও স্বচ্ছ ও নির্ভীকভাবে পরিচালনার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। বিকেল সোয়া চারটার পর প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী নির্বাচনের সার্বিক পরিস্থিতি সন্তোষজনক। ইসি সূত্র জানিয়েছে, পরবর্তী সময়ে নির্বাচনের অগ্রগতি এবং ভোটগ্রহণের বিস্তারিত তথ্য হালনাগাদভাবে প্রকাশ করা হবে।

এভাবে দেশের ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ নির্বাচন প্রক্রিয়া সম্পন্ন হতে যাচ্ছে, যেখানে ভোটারদের সুষ্ঠু অংশগ্রহণ, কেন্দ্র পর্যবেক্ষণ, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নিয়োজিত উপস্থিতি এবং ইসির কার্যক্রম মিলিতভাবে নিশ্চিত করছে যে, গণতন্ত্রের প্রতি জনগণের আস্থা ও অংশগ্রহণ আজও অটুট আছে। নির্বাচন কমিশনের পদক্ষেপ এবং প্রাপ্ত তথ্যের মাধ্যমে দেখা যাচ্ছে, ৬ হাজারের বেশি কেন্দ্রের ভোটগ্রহণের হার এখনও অনির্ধারিত থাকলেও দেশের বৃহত্তর নির্বাচনী প্রক্রিয়া সুষ্ঠু ও নিরাপদভাবে এগিয়ে চলেছে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত