প্রকাশ: ১৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) নির্বাচন পর্যবেক্ষক দলের প্রধান ইভারস আইজাবস বলেছেন, দেশের নির্বাচন প্রতিযোগিতামূলকভাবে অনুষ্ঠিত হয়েছে। তিনি বলেছেন, নির্বাচন আইনের শাসন ও স্বচ্ছতার সঙ্গে সম্পন্ন হয়েছে, যা বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার জন্য গুরুত্বপূর্ণ একটি ইঙ্গিত। শনিবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) রাজধানীর হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ মন্তব্য করেন তিনি।
ইভারস আইজাবস জানান, ‘আমরা ৮০৫টি ভোটকেন্দ্র সরাসরি পর্যবেক্ষণ করেছি। নির্বাচন কমিশন গ্রহণযোগ্যভাবে দায়িত্ব পালন করেছে। প্রচারণার সময় প্রার্থীরা স্বাধীনভাবে জনগণের সঙ্গে সংযোগ স্থাপন করতে পেরেছেন। স্বচ্ছতার সঙ্গে কমিশন কাজ করেছে।’ তবে তিনি উল্লেখ করেন যে, নির্বাচনের প্রক্রিয়ার মধ্যে নারীদের প্রতি কিছু অবমাননাকর কথা এবং আচরণ লক্ষ্য করা গেছে, যা গণতান্ত্রিক চর্চার জন্য উদ্বেগজনক।
নির্বাচনে নারীদের অংশগ্রহণ কম হওয়া প্রসঙ্গে ইইউ পর্যবেক্ষক প্রধান বলেন, ‘নারীর রাজনৈতিক ক্ষমতায়নে দেশের রাজনৈতিক দলগুলোকে আরও উদ্যোগী হওয়ার প্রয়োজন আছে। নির্বাচনের সময় নারীরা ডিজিটালভাবে নির্যাতন, চরিত্রহরণ এবং যৌন হয়রানির শিকার হয়েছেন। এটি কোনো গণতান্ত্রিক দেশে গ্রহণযোগ্য নয়। ইইউ পরিবার ও নিপীড়িত নারীদের প্রতি সমবেদনা জানাচ্ছে।’
তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণার পর রাজনৈতিক দলগুলো শান্তিপূর্ণভাবে জয়-পরাজয় গ্রহণ করেছে, যা প্রশংসনীয়। ‘এটি দেশের রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা এবং গণতান্ত্রিক চর্চার জন্য ইতিবাচক বার্তা,’ মন্তব্য করেন তিনি।
ইভারস আইজাবস বলেন, ‘বাংলাদেশে নির্বাচন প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও প্রতিযোগিতার মান বজায় রাখার জন্য বেশকিছু ধাপ নেওয়া হয়েছে। ভোটকেন্দ্র পর্যবেক্ষণ, প্রচারণার স্বাধীনতা এবং নিরাপদ ভোটাধিকার নিশ্চিত করা হয়েছে। তবে নারীদের জন্য আরও সমান সুযোগ ও সুরক্ষা প্রদান করা জরুরি।’ তিনি প্রত্যাশা প্রকাশ করেন যে, আগামী নির্বাচনে নারীদের অংশগ্রহণ বাড়াতে এবং ডিজিটাল বা সামাজিক মাধ্যমে হওয়া হয়রানি প্রতিহত করতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, ‘আমরা নির্বাচনের সুষ্ঠু পরিবেশ, স্বচ্ছ প্রক্রিয়া এবং রাজনৈতিক দলগুলোর সহযোগিতার প্রশংসা করি। জনগণের ইচ্ছার প্রতি শ্রদ্ধা রাখা হয়েছে। তবে কিছু ক্ষেত্রে নারীদের প্রতি সহিংসতা এবং হয়রানি আমাদের উদ্বেগের বিষয়।’ ইইউ পর্যবেক্ষক দল নির্বাচনের পরে এই তথ্যগুলো প্রাথমিক প্রতিবেদন হিসেবে প্রকাশ করেছে।
বাংলাদেশের ভোটকেন্দ্র পর্যবেক্ষণ, প্রচারণার সময় প্রার্থীদের স্বাধীনতা এবং ভোটগ্রহণ প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা ইইউর জন্য গুরুত্বপূর্ণ পর্যবেক্ষণ ছিল। তারা আশা প্রকাশ করেছেন যে, ভবিষ্যতে আরও প্রতিযোগিতামূলক, অন্তর্ভুক্তিমূলক এবং নারীর জন্য নিরাপদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে