প্রকাশ: ১৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।
গোপালগঞ্জ-৩ (কোটালীপাড়া-টুঙ্গিপাড়া) আসনে ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে জয়ী কেন্দ্রীয় সেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি এস এম জিলানী নির্বাচিত হওয়ার পর জনগণের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ ও মানবিক সম্পর্ক বজায় রাখতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। শনিবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় তিনি কোটালীপাড়ার উনশিয়া ভট্রের বাগানে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের আয়োজিত অনুষ্ঠানে যোগ দেন। এ সময় ষাটোর্ধ্ব রজগীনি কর্মকার নামের এক মহিলা তার বাড়িতে প্রবেশের পথটি তৈরি করার জন্য জিলানীর কাছে অনুরোধ করেন।
জবাবে এস এম জিলানী বলেন, “আমি আপনার বাড়িতে প্রবেশের রাস্তাটি করে দেব ‘মা’, এটা আমার দায়িত্ব।” এই মানবিক ও আন্তরিক প্রতিশ্রুতিতে উপস্থিত জনগণ করতালি দিয়ে তাকে স্বাগত জানান। জনগণ বুঝতে পেরেছিল যে, শুধু নির্বাচিত হওয়ার পর ক্ষমতার ব্যবহার নয়, বরং মানুষের সঙ্গে মানবিক ও সহানুভূতিশীল সম্পর্ক বজায় রাখা জিলানীর মূল উদ্দেশ্য।
এস এম জিলানী উপস্থিত সনাতনী ধর্মাবলম্বীদের উদ্দেশ্যে বলেন, “এই কোটালীপাড়ার মানুষ, বিশেষ করে হিন্দু ভাই-বোনেরা যেভাবে আমাকে ভোট দিয়ে তাদের বুকে টেনে নিয়েছেন, যেভাবে ভালোবাসার বন্ধনে আটকে ফেলেছেন এবং যেভাবে আস্থা ও বিশ্বাস দিয়েছেন, আমি সেই আস্থা ও বিশ্বাসের জায়গাটিকে ধরে রাখতে চাই। আপনারা আমাকে আশীর্বাদ করুন যাতে আমি আপনার শান্তি, সম্প্রীতি এবং নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পারি। আমার জীবনের সবটুকু উজাড় করে দিয়ে আপনাদের পাশে থাকতে চাই।”
পরবর্তী সময়ে তিনি কোটালীপাড়া উপজেলা সদরের কাজী মন্টু ফিলিং স্টেশনের পাশের মাঠে দলীয় নেতৃবৃন্দের আয়োজন করা সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে যোগ দেন। এখানে তিনি দলীয় নেতা-কর্মীদের প্রতি হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন এবং বলেন, “ক্ষমতার দাপট দেখিয়ে কেউ অন্যায়-অত্যাচার করলে তাকে কোনোভাবেই ছাড় দেওয়া হবে না। আমি নিজে অন্যায় করব না, কাউকে অন্যায় করতে দেব না। রাজনৈতিক ক্ষমতা চিরস্থায়ী নয়। ইতিহাস সাক্ষী, দীর্ঘ সময় ক্ষমতায় থাকার পরেও মুহূর্তের মধ্যে পরিস্থিতি বদলে যেতে পারে। তাই ক্ষমতার অপব্যবহার থেকে দূরে থাকতে হবে।”
নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য আরও বলেন, “আমি ১২ ফেব্রুয়ারির আগে একটি দলের মনোনীত প্রার্থী ছিলাম। নির্বাচিত হওয়ার পর আমি কোটালীপাড়া-টুঙ্গিপাড়ার সব জনগণের এমপি। এখন আমার কাছে সবাই সমান। সবাই আমার কাছ থেকে সমান সুযোগ সুবিধা পাবে। আমি নিশ্চিত করতে চাই, এখানে কোনো বৈষম্য বা ভিন্নমতকে গুরুত্ব দেয়া হবে না। সকলের কল্যাণে কাজ করাই আমার মূল লক্ষ্য।”
এসময় তিনি কেবল রাজনৈতিক নেতৃত্ব প্রদর্শনই করেননি, বরং মানুষের সঙ্গে আন্তরিক সম্পর্ক ও দায়িত্বশীলতার দৃষ্টান্তও স্থাপন করেছেন। রজগীনি কর্মকারের অনুরোধের মতো ছোট কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ মানবিক কাজের মধ্যেও তিনি দায়িত্বশীলতার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। এটি শুধু ভোটের ফলাফলের প্রতি নয়, বরং নির্বাচিত হওয়ার পর জনগণের কল্যাণে কাজ করার মনোভাবকেও প্রকাশ করে।
এস এম জিলানীর এই মনোভাব স্থানীয় মানুষের মধ্যে উৎসাহ ও আস্থা বৃদ্ধি করেছে। উপস্থিত মানুষ বিশ্বাস করেছেন যে, তাদের নির্বাচিত প্রতিনিধি তাদের পাশে থাকবে এবং শান্তি, সম্প্রীতি ও সমান অধিকার নিশ্চিত করতে কাজ করবে। এই ধরনের মানবিক আচরণ শুধুমাত্র স্থানীয় রাজনৈতিক সংস্কৃতিকে শক্তিশালী করবে না, বরং সাধারণ মানুষের মধ্যে রাজনৈতিক নেতৃত্বের প্রতি আস্থা ও বিশ্বাসও বাড়াবে।
সংক্ষিপ্ত সময়ের মধ্যেই জিলানী তার নির্বাচনী এলাকায় মানবিক উদ্যোগ এবং কার্যকর নেতৃত্ব প্রদর্শনের মাধ্যমে মানুষের সঙ্গে গভীর সম্পর্ক গড়ে তুলেছেন। তার কথায় স্পষ্ট যে, তিনি কেবল রাজনৈতিক ক্ষমতার জন্য নয়, মানুষের কল্যাণ, শান্তি ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ভোটারদের আস্থার জায়গা ধরে রাখতে প্রস্তুত। এই প্রতিশ্রুতি ও মানবিক দৃষ্টিভঙ্গি স্থানীয় জনগণের মধ্যে ইতিবাচক প্রভাব ফেলেছে এবং আগামী দিনে আরও কার্যকর নেতৃত্ব প্রদানের দিকেও দিকনির্দেশনা দিয়েছে।
এস এম জিলানীর এই বক্তব্য ও মানবিক প্রতিশ্রুতি তার নির্বাচনী এলাকার জনগণকে আত্মবিশ্বাস ও নিরাপত্তার বোধ প্রদান করেছে। এটি প্রমাণ করে যে, নির্বাচিত হওয়া মানে শুধু রাজনৈতিক দায়িত্ব নয়, বরং মানবিক ও নৈতিক দায়িত্বও পালন করা। এই মনোভাব স্থানীয় রাজনীতিকে আরও মানবিক, দায়িত্বশীল এবং সমানাধিকারের ভিত্তিতে পরিচালিত করার সুযোগ তৈরি করেছে।