নির্বাচনের পর পুঁজিবাজারে বড় উত্থান

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : রবিবার, ১৫ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬
  • ১৫ বার
নির্বাচনের পর পুঁজিবাজারে বড় উত্থান

প্রকাশ:  ১৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন শেষ হওয়ার পর দেশের অর্থনীতি ও বিনিয়োগ অঙ্গনে যে ইতিবাচক প্রত্যাশা তৈরি হয়েছিল, তার একটি দৃশ্যমান প্রতিফলন দেখা গেল দেশের পুঁজিবাজারে। নির্বাচন পরবর্তী প্রথম কার্যদিবসেই দেশের প্রধান দুই শেয়ারবাজারে সূচক ও লেনদেনে উল্লেখযোগ্য উত্থান লক্ষ্য করা গেছে। বিনিয়োগকারীদের আস্থার পুনরুজ্জীবন, রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার প্রত্যাশা এবং অর্থনৈতিক নীতির ধারাবাহিকতার সম্ভাবনা—সবকিছু মিলিয়ে এক ধরনের আশাবাদের আবহ তৈরি হয়েছে শেয়ারবাজারে।

রোববার (১৫ ফেব্রুয়ারি) সপ্তাহের প্রথম কার্যদিবসে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ-এ প্রধান মূল্যসূচক ডিএসইএক্স ২০০ দশমিক ৭২ পয়েন্ট বেড়ে ৫ হাজার ৬০০ দশমিক ৬৫ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে। এটি গত বছরের ৮ সেপ্টেম্বরের পর সর্বোচ্চ অবস্থান, যা বাজারের শক্তিশালী প্রত্যাবর্তনের একটি গুরুত্বপূর্ণ ইঙ্গিত হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা। একই সঙ্গে শরিয়াহভিত্তিক ডিএসইএস সূচক এবং ব্লু-চিপ কোম্পানির সূচক ডিএস-৩০-ও উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। ডিএসইএস সূচক ৩০ দশমিক ৩৯ পয়েন্ট বেড়ে ১ হাজার ১২৭ দশমিক ৩৬ পয়েন্টে এবং ডিএস-৩০ সূচক ৮৬ দশমিক ১৮ পয়েন্ট বেড়ে ২ হাজার ১৪৫ দশমিক ১৩ পয়েন্টে অবস্থান করছে।

সূচকের এই উত্থানের পাশাপাশি লেনদেনেও এসেছে বড় পরিবর্তন। ডিএসইতে এদিন মোট লেনদেন হয়েছে ১ হাজার ২৭৫ কোটি ৯ লাখ টাকার শেয়ার, যা গত বছরের সেপ্টেম্বরের পর সর্বোচ্চ। আগের কয়েক মাস ধরে যেখানে লেনদেন অনেকটাই স্থবির ছিল, সেখানে হঠাৎ এই বড় উল্লম্ফন বাজারের গতি ফিরে আসার ইঙ্গিত দিচ্ছে। লেনদেন হওয়া ৩৯৪টি কোম্পানির মধ্যে ২৬৪টির শেয়ারদর বেড়েছে, মাত্র ২৬টির কমেছে এবং ৪টি অপরিবর্তিত রয়েছে। অর্থাৎ অধিকাংশ কোম্পানির শেয়ারদর বৃদ্ধিই বাজারে ইতিবাচক মনোভাবের প্রতিফলন ঘটিয়েছে।

অন্যদিকে দেশের অপর শেয়ারবাজার চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জ-এও একই ধরনের উত্থান দেখা গেছে। সার্বিক সূচক সিএএসপিআই ৪৮৪ দশমিক ৩৭ পয়েন্ট বেড়ে ১৫ হাজার ৫১৮ দশমিক ৮০ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে। পাশাপাশি সিএসসিএক্স সূচক ২৮২ দশমিক ৮৩ পয়েন্ট বেড়ে ৯ হাজার ৫৫৫ দশমিক ২৪ পয়েন্টে উন্নীত হয়েছে। সিএসই-৫০ এবং সিএসই-৩০ সূচকেও উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি দেখা গেছে, যা বড় কোম্পানিগুলোর শেয়ারে বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ বৃদ্ধির প্রমাণ।

লেনদেনের ক্ষেত্রেও সিএসইতে বড় পরিবর্তন হয়েছে। এদিন মোট ২৪ কোটি ৬৫ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেন হয়েছে, যা আগের কার্যদিবসের তুলনায় প্রায় আড়াই গুণ বেশি। লেনদেন হওয়া ২৪৭টি কোম্পানির মধ্যে ২২০টির দাম বেড়েছে, যা বাজারে বিনিয়োগকারীদের শক্তিশালী অংশগ্রহণের ইঙ্গিত বহন করে।

বাজার সংশ্লিষ্টরা বলছেন, নির্বাচনের পর রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা অনেকটাই কেটে যাওয়ায় বিনিয়োগকারীরা নতুন করে বাজারে ফিরে আসছেন। দীর্ঘদিন ধরে অপেক্ষায় থাকা অনেক বিনিয়োগকারী এখন শেয়ার কেনায় আগ্রহী হচ্ছেন। বিশেষ করে প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের অংশগ্রহণ বাড়ার ফলে বাজারে স্থিতিশীলতা ফিরে আসার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।

ঢাকার মতিঝিলে এক ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারী আব্দুল কাদের বলেন, গত কয়েক মাস ধরে তিনি শেয়ার কেনাবেচায় অনেকটাই সতর্ক ছিলেন। কিন্তু নির্বাচনের পর বাজারের ইতিবাচক প্রবণতা দেখে তিনি আবার বিনিয়োগ শুরু করেছেন। তার ভাষায়, “রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা থাকলে ব্যবসা বাড়ে, আর ব্যবসা বাড়লে শেয়ারের দামও বাড়ে। এখন মনে হচ্ছে বাজার আবার ভালো হবে।”

বাজার বিশ্লেষকদের মতে, নির্বাচন পরবর্তী সময়ে সরকারের অর্থনৈতিক নীতিমালা, ব্যাংকিং খাতের সংস্কার এবং বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ তৈরির উদ্যোগের ওপর বাজারের ভবিষ্যৎ অনেকটাই নির্ভর করবে। তারা বলছেন, শুধু একদিনের উত্থান দিয়ে দীর্ঘমেয়াদি প্রবণতা নির্ধারণ করা সম্ভব নয়, তবে এটি একটি ইতিবাচক সূচনা।

একজন শেয়ারবাজার বিশ্লেষক বলেন, পুঁজিবাজার মূলত প্রত্যাশার ওপর নির্ভর করে। বিনিয়োগকারীরা ভবিষ্যতের সম্ভাবনা দেখে সিদ্ধান্ত নেন। নির্বাচন শেষে নতুন সরকার অর্থনৈতিক সংস্কার এবং বিনিয়োগবান্ধব পদক্ষেপ নেবে—এই প্রত্যাশাই বাজারে ইতিবাচক প্রভাব ফেলেছে।

তিনি আরও বলেন, যদি এই আস্থা ধরে রাখা যায় এবং নীতিগত স্থিতিশীলতা বজায় থাকে, তাহলে আগামী দিনগুলোতে বাজার আরও শক্তিশালী হতে পারে। তবে বিনিয়োগকারীদের উচিত হঠাৎ উত্থানে আবেগতাড়িত হয়ে সিদ্ধান্ত না নিয়ে কোম্পানির মৌলিক ভিত্তি বিবেচনা করে বিনিয়োগ করা।

পুঁজিবাজার বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এই উত্থান দেশের সামগ্রিক অর্থনীতির জন্য একটি ইতিবাচক বার্তা বহন করছে। কারণ একটি শক্তিশালী পুঁজিবাজার দেশের শিল্পায়ন, কর্মসংস্থান এবং অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

বিনিয়োগকারীদের প্রত্যাশা এখন নতুন সরকারের অর্থনৈতিক দিকনির্দেশনার দিকে। তারা আশা করছেন, বাজারে স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা এবং সুশাসন নিশ্চিত করা হলে পুঁজিবাজার দীর্ঘমেয়াদে স্থিতিশীল ও শক্তিশালী হয়ে উঠবে।

সার্বিকভাবে বলা যায়, নির্বাচন পরবর্তী প্রথম কার্যদিবসেই দেশের পুঁজিবাজারে যে শক্তিশালী উত্থান দেখা গেছে, তা বিনিয়োগকারীদের আস্থা ফিরে আসার একটি স্পষ্ট ইঙ্গিত। এখন দেখার বিষয়, এই ইতিবাচক প্রবণতা কতটা দীর্ঘস্থায়ী হয় এবং তা দেশের অর্থনীতিতে কতটা ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত