প্রকাশ: ১৬ জুলাই’ ২০২৫ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন
এক সময়ের আলোচিত এবং পরে বিতর্কিত চিকিৎসক ডা. সাবরিনা এবার মুখ খুলেছেন সাবেক গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) কর্মকর্তা হারুন অর রশিদের বিরুদ্ধে। এক টেলিভিশন সাক্ষাৎকারে তিনি হারুনের বিরুদ্ধে একাধিক বিস্ফোরক অভিযোগ তুলেছেন, যা ইতোমধ্যেই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যাপক আলোড়ন তুলেছে।
সাক্ষাৎকারে ডা. সাবরিনা দাবি করেন, হারুন তাকে নিয়মিতভাবে আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া না মেনে ব্যক্তিগতভাবে ফোন করতেন এবং ডিবি অফিসে ডেকে পাঠাতেন। তার ভাষ্য অনুযায়ী, “হারুন সাহেব আমাকে তিনবার কল করেছিলেন আন-অফিশিয়ালি। বলতেন, ‘একটু আসেন, কথা আছে।’ অথচ আমি তখন মামলার প্রধান ব্যক্তি ছিলাম না, এমনকি জেকেজি’র চেয়ারম্যান বা সাইনেটারিও ছিলাম না। আমাকে কেন ডাকা হচ্ছিল, সেটাই পরিষ্কার ছিল না।”
তিনি আরও বলেন, “আমি যখন বাইরে ছিলাম, তখনও উনি একাধিকবার ফোন করেছেন। আমার পরিবার সতর্ক করেছিল—উনার নামে নানা গসিপ শোনা যেত। আমি জানি না সেগুলো কতটা সত্যি, কিন্তু আমার বাবা বলেছিলেন, যদি অফিসিয়ালি কেউ ডাকে, তবে যাও—না হলে নয়। তাই আমি ওভাবে হারুন সাহেবের ডাকে যাইনি।”
তার অভিযোগ, ডিবি হারুন তথাকথিত ‘নাটক করতে পছন্দ করতেন’। তিনি বলেন, “যেদিন আমাকে ডাকা হয়, তখন দেখি সাংবাদিকরা আগেই সেখানে হাজির। ওনাদেরকে আগেই জানিয়ে রাখা হয়েছিল। এটা কি স্বাভাবিক ঘটনা? এরপর গ্রেপ্তার দেখানো হলো, অথচ আমার সঙ্গে শুধু কথাই হয়েছিল—আমি কোন মেডিক্যাল কলেজে পড়েছি, কোন বিসিএস ব্যাচের, এইসব।”
ডা. সাবরিনা আরও দাবি করেন, জেল থেকে ছাড়া পাওয়ার পরও তার ওপর নজরদারি বজায় রেখেছিলেন হারুন। এমনকি তার লেখালিখির দিকেও নজর ছিল তার। তিনি জানান, “হারুন আমার একটি বই সমকামিতা সংক্রান্ত বলে বাজেয়াপ্ত করতে চেয়েছিলেন, যদিও সেটার সঙ্গে আমার কোনো সংশ্লিষ্টতা ছিল না।”
তৎকালীন পরিস্থিতির ভয়াবহতা স্মরণ করে তিনি বলেন, “হারুন যখন ক্ষমতায় ছিলেন, তখন কেউ তার বিরুদ্ধে কিছু বলতে সাহস করত না। সাংবাদিকরা তাকে প্রশ্ন করেছিল—আপনার বিরুদ্ধে এত গসিপ কেন? তিনি বলেছিলেন, ‘বড় বড় অপরাধী ধরার জন্যই আমাকে অনেকে অপছন্দ করে।’ সে সময় তিনি আমার নাম নেননি, কিন্তু আমি জানতাম সেই ইঙ্গিত আমার দিকেই।”
সাক্ষাৎকারে সাবরিনা জানান, আগে তার সাহস ছিল না এসব বলার, কিন্তু এখন তিনি ডিবি হারুনের বিরুদ্ধে সরাসরি বলার সুযোগ পাচ্ছেন, কারণ “এখন উনি আর ক্ষমতায় নেই।”
এই সাক্ষাৎকার ঘিরে নতুন করে আলোচনায় এসেছে হারুন অর রশিদের সাবেক কার্যক্রম ও ক্ষমতার প্রয়োগ নিয়ে বহুদিনের সমালোচনার প্রসঙ্গ। সামাজিক মাধ্যমে অনেকেই ডা. সাবরিনার বক্তব্যের সত্যতা যাচাই ও বিচার দাবি করেছেন, আবার কেউ কেউ সাবেক কর্মকর্তার পক্ষেও মন্তব্য করছেন।
এ বিষয়ে এখনো সরকারি বা আইনি কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে পরিস্থিতির দিকে নজর রাখছে বিভিন্ন মানবাধিকার সংগঠন ও নাগরিক সমাজ। সংশ্লিষ্ট মহলের ধারণা, এই অভিযোগ আরও বড় কোনো তদন্তের পথ তৈরি করতে পারে, যদি যথাযথ আইনি উদ্যোগ নেওয়া হয়।