প্রকাশ: ২১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।
কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলার আড়িয়া ইউনিয়নের বড়গাংদিয়া বাজার এলাকায় সরকারি খাস জমিতে স্থাপনা নির্মাণের চেষ্টা ব্যর্থ হয়েছে বিএনপি থেকে বহিষ্কৃত নেতা নুরুজ্জামান হাবলু মোল্লার। শুক্রবার সকাল ১০টার দিকে তিনি এবং তার সহযোগীরা স্থানীয় জনগণের বাধার মুখে পড়েন। এলাকায় উত্তেজনা সৃষ্টি হলে খবর পেয়ে দৌলতপুর থানা পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
স্থানীয় সূত্র জানিয়েছে, বড়গাংদিয়া বাজারের পাশের জেলা পরিষদের প্রায় ১৬ কাঠা খাস জমি বহু বছর ধরে স্থানীয় জনগণের বাজার এবং যাতায়াতের জায়গা হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। ক্রেতা-বিক্রেতারা এখানে ভ্যান ও সাইকেল রাখেন এবং জমি এলাকার অর্থনৈতিক ও সামাজিক কার্যক্রমের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। শুক্রবার সকালে হাবলু মোল্লা সার্ভেয়ার নিয়ে লোকজনসহ জমি দখলের চেষ্টা শুরু করেন। তখন বাজার কমিটির সভাপতি বাদশা আলী এবং স্থানীয়রা বাধা দেন।
বাদশা আলী জানান, দীর্ঘদিন ধরে জনগণের স্বার্থে জমিটি ব্যবহার করা হচ্ছে। নুরুজ্জামান হাবলু মোল্লা যদি এখানে বিল্ডিং নির্মাণ করেন, তাহলে বাজার বসানোর জায়গা থাকবে না। তাই স্থানীয়রা বাধা দিয়েছে এবং শান্তিপূর্ণভাবে জমি রক্ষা করার চেষ্টা করেছেন।
দৌলতপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আরিফুর রহমান বলেন, ‘জেলা পরিষদের একটি জমিকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা দেখা দেয়। আমরা সেখানে গিয়ে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করি। জেলা পরিষদ ওই জমিটি ১৬ জনের নামে বরাদ্দ দিয়েছে বলে শুনেছি। শুক্রবার মাপতে গেলে এই ঘটনা ঘটে।’
উপজেলা নির্বাহী অফিসার অনিন্দ্য গুহ বলেন, ‘জমিটি জেলা পরিষদের। তবে কার কার নামে তা বরাদ্দ হয়েছে, এটি নথি দেখে বলতে হবে।’ এই ঘটনার পরও পুলিশ পরিস্থিতি নজরদারি করছে এবং উভয় পক্ষকে শান্ত থাকার নির্দেশ দিয়েছে।
এ ঘটনায় স্থানীয় জনগণ নিরাপত্তার তাগিদ জানিয়েছেন। তারা আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন, যদি খাস জমি অবৈধভাবে দখল করা হয়, তাহলে এলাকার সামাজিক ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে বিরূপ প্রভাব পড়তে পারে। বিশেষ করে বাজারের ক্রেতা ও বিক্রেতাদের দৈনন্দিন জীবনযাত্রা ব্যাহত হবে। ফলে জনসাধারণের স্বার্থ রক্ষা করার জন্য প্রশাসনের তৎপরতা অত্যন্ত জরুরি বলে মনে করা হচ্ছে।
স্থানীয় বিশ্লেষকরা মনে করছেন, রাজনৈতিক পরিচয়ভিত্তিক জমি দখলের চেষ্টা নিত্যনৈমিত্তিক সমস্যার মধ্যে অন্যতম এবং এটি স্থানীয় শান্তি ও সহমর্মিতার জন্য হুমকি হিসেবে দেখা যাচ্ছে। রাজনৈতিক দলের নেতারা কখনো কখনো ব্যক্তিগত স্বার্থে সরকারি খাস জমি দখলের চেষ্টা করেন, যা সাধারণ জনগণের জীবন ও এলাকাভিত্তিক ব্যবস্থাপনার ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলে।
স্থানীয় জনগণ আশা করছেন, প্রশাসন এবং জেলা পরিষদ উভয়ই জনগণের স্বার্থকে অগ্রাধিকার দিয়ে যথাযথ পদক্ষেপ নেবে এবং আইনসিদ্ধ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে জমির মালিকানা ও ব্যবহার নিশ্চিত করা হবে। তারা মনে করেন, কোনো রাজনৈতিক নেতা যদি নিজের স্বার্থে জনস্বার্থ উপেক্ষা করে আইন অমান্য করেন, তাহলে এটি সমাজে অনৈতিক উদাহরণ স্থাপন করবে।
এ ঘটনায় রাজনৈতিক উত্তেজনা বাড়লেও এখন পর্যন্ত বড় ধরনের সংঘর্ষ হয়নি। পুলিশ উভয় পক্ষকে শান্ত থাকার জন্য বারবার সতর্ক করেছে। স্থানীয়ভাবে জনগণও পুলিশের তৎপরতাকে ইতিবাচকভাবে দেখছে এবং আশা প্রকাশ করেছে, পরিস্থিতি শান্তিপূর্ণভাবে সমাধান হবে।