যুক্তরাষ্ট্র-ইরান বৈঠক বৃহস্পতিবার, আশার সুর ও উত্তেজনা

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : সোমবার, ২৩ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬
  • ১৫ বার
যুক্তরাষ্ট্র-ইরান বৈঠক বৃহস্পতিবার, আশার সুর ও উত্তেজনা

প্রকাশ: ২৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনার মধ্যেই যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে পরবর্তী দফার আলোচনা আগামী বৃহস্পতিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) সুইজারল্যান্ডের জেনেভায় অনুষ্ঠিত হবে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ওমানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বদর আল বুসাইদি। আল জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দুই দেশের বৈঠকে চুক্তি চূড়ান্ত করতে ইতিবাচক অগ্রগতির আশা করা হচ্ছে।

ওমানের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর ঘোষণার কয়েক ঘণ্টা আগে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি বলেন, তেহরান তাদের পারমাণবিক কর্মসূচির শান্তিপূর্ণ চরিত্র নিশ্চিত করতে পূর্ণাঙ্গ নজরদারি ব্যবস্থায় যেতে প্রস্তুত। তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, এটি মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা কমাতে সাহায্য করবে।

ইরানি পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরাঘচি মার্কিন গণমাধ্যম সিবিএস নিউজকে সাক্ষাৎকারে জানান, দেশের মধ্যে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ চালিয়ে যাওয়াটা ইরানের জন্য ‘মর্যাদা ও গর্বের’ বিষয়। তিনি বলেন, ইরানি বিজ্ঞানীরা নিজেদের সক্ষমতায় এই প্রযুক্তি তৈরি করেছেন এবং এর জন্য দেশটিকে বড় মূল্য দিতে হয়েছে। পাশাপাশি তিনি যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা, ইরানি বিজ্ঞানীদের লক্ষ্য করে হত্যাকাণ্ড এবং গত জুনে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের হামলার কথাও উল্লেখ করেছেন।

আরাঘচি বলেন, আন্তর্জাতিক পারমাণবিক শক্তি সংস্থার (আইএইএ) তত্ত্বাবধানে কর্মসূচি পরিচালনা করা হচ্ছে, ফলে বন্ধ করার কোনো আইনগত বাধ্যবাধকতা নেই। তিনি আরও জানান, ইরান পরমাণু অস্ত্র বিস্তার রোধ চুক্তির সদস্য হিসেবে সংস্থার সঙ্গে পূর্ণ সহযোগিতা করতে প্রস্তুত, এবং শান্তিপূর্ণ পারমাণবিক শক্তি ব্যবহার ও ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণের অধিকার রয়েছে।

তিনি এই ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণকে আলোচনার ‘সংবেদনশীল বিষয়’ হিসেবে উল্লেখ করেন এবং বলেন, দুই পক্ষই একে অপরের অবস্থান জানে। আরঘচি আশা প্রকাশ করেন, বৈঠকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান সমাধান খুঁজে পাবে।

বর্তমানে মধ্যপ্রাচ্যে পরিস্থিতি অত্যন্ত সংকটাপন্ন। যুক্তরাষ্ট্র সামরিক শক্তি বৃদ্ধি করায়, বিরোধী শক্তি হিসেবে ইরানও তার প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা জোরদার করেছে। এর ফলে সম্ভাব্য সংঘর্ষ ও যুদ্ধের আশঙ্কা বাড়ছে। তবে উভয় পক্ষের আশাবাদী নেতাদের মধ্যে আলোচনার সূচনা মানেই কিছুটা প্রশান্তির আশার খোঁজ।

বিশেষজ্ঞদের মতে, ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ বিষয়টি দুই দেশের সম্পর্কের সবচেয়ে সংবেদনশীল দিক। এটি কেবল আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা নয়, ইরানের জাতীয় মর্যাদা ও নিরাপত্তার সঙ্গে জড়িত। তাই আগামী বৈঠক রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক দিক থেকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

জাতিসংঘের পারমাণবিক পর্যবেক্ষণ সংস্থা আইএইএ ইতিমধ্যেই ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি পর্যবেক্ষণ করছে। বৈঠকে এই নজরদারি প্রক্রিয়া আরও শক্তিশালী করার প্রস্তাব রাখা হতে পারে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে তীব্র আস্থা এবং নিরাপত্তা বিষয়ক ভিন্নমত থাকার কারণে এই আলোচনা জটিল হলেও, দুই দেশের নেতারা ইতিবাচক অগ্রগতি আশা করছেন।

এদিকে ইরানের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণকে কেন্দ্র করে আন্তর্জাতিক চাপ থাকা সত্ত্বেও, ইরান নিজেদের জাতীয় স্বার্থ অক্ষুণ্ণ রাখতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। বৈঠকে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হলেও, তেহরান তার প্রযুক্তিগত ও নিরাপত্তা বিষয়ক সক্ষমতা হারাতে চায় না।

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান এই সংবেদনশীল আলোচনা শুধু মধ্যপ্রাচ্যের স্থিতিশীলতার জন্য নয়, বরং আন্তর্জাতিক শক্তি সমীকরণেও গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলবে। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, যদি বৈঠকে ইতিবাচক অগ্রগতি হয়, তবে মধ্যপ্রাচ্যে সামরিক সংঘাতের ঝুঁকি কমে যেতে পারে। অন্যদিকে, ব্যর্থ হলে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হতে পারে।

এই বৈঠককে ঘিরে বিশ্ব মিডিয়া, কূটনৈতিক মহল ও অর্থনৈতিক বিশ্লেষকরা অত্যন্ত সতর্ক। তারা বলছেন, বৈঠকের ফলাফল শুধু যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের সম্পর্কেই নয়, পুরো মধ্যপ্রাচ্য ও গ্লোবাল নিরাপত্তা পরিস্থিতিতেও প্রভাব ফেলবে।

উত্তেজনার মধ্যে অনুষ্ঠিত এই বৈঠক কূটনৈতিক সক্ষমতা, পারস্পরিক বিশ্বাস ও আন্তর্জাতিক আইন মেনে সমাধান খোঁজার একটি গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ হিসেবে দেখা হচ্ছে। দুই দেশের জন্যই এটি একটি পরীক্ষা, যেখানে শান্তিপূর্ণ সমাধান তাদের অভ্যন্তরীণ ও বৈশ্বিক নিরাপত্তার জন্য অপরিহার্য।

এখন বিশ্ব অপেক্ষা করছে ২৬ ফেব্রুয়ারি জেনেভায় অনুষ্ঠিত এই বৈঠকের ফলাফলের দিকে। দুই দেশই আশা করছে, আলোচনা তাদের মধ্যে উত্তেজনা কমিয়ে দেবে এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের জন্য একটি স্থিতিশীল বার্তা প্রদান করবে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত