প্রকাশ: ২৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।
উত্তর কোরিয়ার ক্ষমতাসীন নেতা কিম জং–উন আবারও দেশটির ওয়ার্কার্স পার্টির সেক্রেটারি-জেনারেল হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন। এতে কিমের নেতৃত্ব আরও দীর্ঘায়িত হচ্ছে এবং পার্টির শীর্ষ নেতৃত্বের ওপর তার নিয়ন্ত্রণ অটুট থাকার ইঙ্গিত মিলেছে। দেশটির রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা কেসিএনএ জানিয়েছে, গত রোববার পার্টির চতুর্থ কংগ্রেসের শেষ দিনে এই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়।
কংগ্রেসে পার্টির কেন্দ্রীয় কমিটির নতুন সদস্যদেরও নির্বাচন করা হয়। যদিও নির্বাচন এবং কমিটি নিয়ে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি, তবে জানা গেছে যে পার্টির কিছু নিয়মে পরিবর্তন আনা হয়েছে, যা কিম জং–উনের ক্ষমতা এবং দলের কাঠামোকে আরও শক্তিশালী করতে সাহায্য করবে।
উত্তর কোরিয়ায় ওয়ার্কার্স পার্টির কংগ্রেস সাধারণত প্রতি পাঁচ বছর অন্তর অনুষ্ঠিত হয়। ২০১১ সালে কিম জং–ইলের মৃত্যুর পর থেকে কিম জং–উন দেশটির সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। ২০১৯ সালে দেশটির পার্লামেন্ট সংবিধান পরিবর্তন করে কিম জং–উনের ক্ষমতাকে একক ও অখণ্ড হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে। একই সময়ে কিমকে আনুষ্ঠানিকভাবে রাষ্ট্রপ্রধান হিসেবে ঘোষণা করা হয়।
চলতি বছর কংগ্রেসে কিম জং–উন দলের গত পাঁচ বছরের কার্যক্রম মূল্যায়ন করেছেন। তিনি গত কয়েক বছরকে “গর্বের সময়” হিসেবে উল্লেখ করেছেন এবং আগামী পাঁচ বছরের জন্য নতুন পরিকল্পনা ও লক্ষ্য নির্ধারণ করেছেন। কিম বলেন, “আমাদের নিজস্ব ধাঁচে সমাজতান্ত্রিক লক্ষ্য বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে গত পাঁচটি বছর ছিল গর্বের সময়। তবে নিষেধাজ্ঞা এবং বিশ্বব্যাপী জনস্বাস্থ্য সংকট আমাদের কিছু চ্যালেঞ্জও দিয়েছে।”
কংগ্রেসে কিম জং–উনের সঙ্গে দেশটির উচ্চপর্যায়ের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। পররাষ্ট্রমন্ত্রী চোয়ে সন হুইসহ অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ কর্মকর্তারা বক্তব্য দিয়েছেন। কংগ্রেস শুরুর আগে কিম জং–উন একটি অনুষ্ঠানে পারমাণবিক সক্ষমতাসম্পন্ন কয়েক ডজন রকেট লঞ্চারের উন্মোচন করেন। তিনি এগুলোকে “দারুণ” ও “আকর্ষণীয়” হিসেবে বর্ণনা করেছেন।
বিশ্লেষকরা মনে করেন, কিম জং–উনের আবারও পার্টির প্রধান নির্বাচিত হওয়া এবং ক্ষমতার মেয়াদ আরও দীর্ঘ হওয়া দেশটির রাজনৈতিক দৃঢ়তা এবং নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখার নীতি প্রতিফলিত করছে। কিমের নেতৃত্বে পার্টির কাঠামো এবং কেন্দ্রীয় কমিটি এমনভাবে পুনর্গঠিত হয়েছে, যাতে তার রাজনৈতিক প্রভাব এবং দেশের গুরুত্বপূর্ণ নীতি-নির্ধারণে তার নিয়ন্ত্রণ অব্যাহত থাকে।
২০১১ সালের পর থেকে কিম জং–উন উত্তর কোরিয়ার অভ্যন্তরীণ ও বৈশ্বিক কৌশল নির্ধারণে নেতৃত্ব দিচ্ছেন। তার নেতৃত্বে দেশটি পারমাণবিক ও ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা বাড়িয়েছে। পাশাপাশি অর্থনৈতিক ও সামাজিক কর্মকাণ্ডও নির্ধারিত নীতি অনুযায়ী পরিচালিত হচ্ছে। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় নিয়মিতভাবে তার পারমাণবিক পরীক্ষার বিষয়ে উদ্বিগ্ন হলেও কিম জং–উন পার্টি ও রাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণে জোর দিয়ে এগিয়ে যাচ্ছেন।
সাম্প্রতিক কংগ্রেসে পার্টির লক্ষ্য ও কৌশল নির্ধারণের পাশাপাশি কিম জং–উন নিজস্ব নেতৃত্বের অধীনে দলের কর্মসূচি বাস্তবায়নের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছেন। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই পদক্ষেপ কিম জং–উনের ক্ষমতা আরও দৃঢ় করার পাশাপাশি দেশটির সামরিক সক্ষমতা এবং রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার ওপর তার প্রভাব নিশ্চিত করছে।
কিম জং–উনের নেতৃত্বে পার্টির কেন্দ্রীয় কমিটি পুনর্গঠন এবং নতুন পরিকল্পনার ঘোষণা বিশ্ব রাজনীতিতে তার দৃষ্টিভঙ্গি প্রতিফলিত করছে। একই সঙ্গে দেশটির অভ্যন্তরীণ উন্নয়ন, সামরিক সক্ষমতা এবং আন্তর্জাতিক কৌশল নির্ধারণেও তার নেতৃত্বের প্রভাব স্পষ্টভাবে লক্ষ্য করা যাচ্ছে।
পরিশেষে বলা যায়, কিম জং–উনের পুনঃনির্বাচন কেবল পার্টির অভ্যন্তরীণ বিষয় নয়, বরং আন্তর্জাতিক স্তরে উত্তর কোরিয়ার রাজনৈতিক ও সামরিক কৌশলের দিকনির্দেশক হিসেবেও বিবেচিত হচ্ছে। তার নেতৃত্বে ওয়ার্কার্স পার্টি ভবিষ্যতে দেশের সামাজিক, রাজনৈতিক এবং সামরিক নীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।