প্রকাশ: ২৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।
আফগানিস্তানের পাকতিকা ও নানগারহার প্রদেশে পাকিস্তানের বিমান হামলায় নারী ও শিশুসহ অন্তত ৮০ জন নিহত হয়েছেন। এই হামলা Islamabad-এর শিয়া মসজিদে সাম্প্রতিক সন্ত্রাসী হামলার জবাব হিসেবে চালানো হয়েছে। রোববার (২২ ফেব্রুয়ারি) ভোরের আলো ফোটার আগেই আফগান- পাকিস্তান সীমান্ত এলাকায় ভয়াবহ বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায়। স্থানীয়রা জানান, বিস্ফোরণের পর ধূমকেতুর মতো ধোঁয়া এবং ধ্বংসের চিত্র লক্ষ্য করা যায়।
পাকিস্তানের তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে দেশটির সামরিক বাহিনী তেহরিক-ই-তালেবান পাকিস্তান বা টিটিপি এবং তাদের সহযোগী গোষ্ঠীর সাতটি ক্যাম্প ও আস্তানায় হামলা চালিয়েছে। হামলায় ব্যবহৃত হয়েছে এফ-সিক্সটিন এবং জেএফ-১৭ থান্ডার যুদ্ধবিমান। পাকিস্তানের দাবী, ইসলামাবাদের শিয়া মসজিদে আত্মঘাতী বোমা হামলার পেছনে টিটিপি জড়িত থাকার কারণে এই প্রতিশোধমূলক অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। একই দিনে ইসলামাবাদ জানিয়েছে যে, জঙ্গি সংগঠন আইএসের একটি ক্যাম্পেও হামলা চালানো হয়েছে।
আফগানিস্তান-পাকিস্তান সীমান্তে হামলার পর আফগানিস্তানের তালেবান সরকার জরুরি বৈঠক ডাকে। বৈঠকে পাকিস্তানের এই হামলার পরবর্তী প্রতিশোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের বিষয়ে আলোচনা করা হয়। আফগান সরকারের উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, কত দ্রুত এবং কিভাবে প্রতিশোধমূলক অভিযান চালানো হবে, তা তালেবান নেতৃত্ব নির্ধারণ করবে। আফগান সরকার মনে করছে, পাকিস্তানের এই অভিযান যুদ্ধবিরতি চুক্তি লঙ্ঘন করেছে এবং এটি দেশটির সার্বভৌমত্বের প্রতি স্পষ্ট হুমকি।
সীমান্ত এলাকার স্থানীয় বাসিন্দারা বিক্ষোভ ও আতঙ্ক প্রকাশ করেছেন। অনেকেই হামলার ধ্বংসযজ্ঞ এবং হতাহতদের ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ করেছেন। হাসপাতাল ও ক্লিনিকগুলো অচল হয়ে পড়েছে, আহতদের দ্রুত চিকিৎসার প্রয়োজন হলেও স্থানীয় অবকাঠামোর সীমাবদ্ধতার কারণে তেমন সেবা দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। স্থানীয় প্রশাসন ও মানবাধিকার সংগঠনগুলো নিহত ও আহতদের সংখ্যা বৃদ্ধির আশঙ্কা করছেন।
আফগান সরকারের দাবি অনুযায়ী, মধ্যস্থতাকারী দেশ সৌদি আরব, কাতার ও তুরস্ককে পাকিস্তানের এই হামলার বিষয়ে অবহিত করা হয়েছে। আফগানিস্তানের পক্ষ থেকে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে বিষয়টি নজরে আনার আহ্বান জানানো হয়েছে, যাতে সীমান্তে নতুন করে সংঘর্ষ ও মানবিক বিপর্যয় এড়ানো যায়।
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, পাকিস্তানের এই হামলা দুই প্রতিবেশী দেশের মধ্যে উত্তেজনা আরও বৃদ্ধি করতে পারে। আফগানিস্তান-পাকিস্তান সীমান্তে দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক ও সামরিক উত্তেজনা বিদ্যমান। দুই দেশের মধ্যে এ ধরনের সামরিক কর্মকাণ্ড সাধারণ জনগণের জীবনের ওপর সরাসরি প্রভাব ফেলে। বিশেষ করে সীমান্তবর্তী অঞ্চলের শিশুরা শিক্ষাসহ মৌলিক অধিকার থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।
এদিকে পাকিস্তানের সামরিক কর্মকর্তারা জানান, তাদের অভিযান মূলত নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং সন্ত্রাসী সংগঠনগুলোর প্রশিক্ষণ কেন্দ্র ধ্বংস করার উদ্দেশ্যেই চালানো হয়েছে। তবে আফগান সরকারের পক্ষ থেকে হামলাকে “অযৌক্তিক ও সংঘাতসৃষ্টিমূলক” আখ্যা দেওয়া হয়েছে।
সীমান্ত এলাকায় চলমান এই উত্তেজনা সাম্প্রতিক আফগান- পাকিস্তান সম্পর্কের নাজুক পরিস্থিতিকে আরও জটিল করেছে। স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলো পাকিস্তানকে শান্তিপূর্ণ সমাধানের আহ্বান জানিয়েছে। তারা বলেছে, অশান্তি ও বিমান হামলা সাধারণ মানুষের জীবন বিপন্ন করছে এবং শিশু ও নারীর ওপর মারাত্মক প্রভাব ফেলছে।
এই পরিস্থিতি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের মনোযোগ আকর্ষণ করেছে। বিশেষ করে জাতিসংঘের শরণার্থী ও মানবাধিকার সংস্থাগুলো সীমান্তবর্তী এলাকায় জরুরি হুমকির বিষয়ে সতর্ক করেছে। তারা বলেছে, দুই দেশের মধ্যে নতুন সংঘাত শুধু সীমান্ত এলাকা নয়, গোটা অঞ্চলের স্থিতিশীলতাকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে।
এদিকে আফগান সরকারের তরফে সীমান্ত এলাকায় শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্য পাকিস্তানের সঙ্গে সরাসরি আলোচনার গুরুত্ব পুনর্ব্যক্ত করা হয়েছে। তালেবান প্রশাসন জানিয়েছে, তারা কোনও ধরনের একতরফা আক্রমণের বিরুদ্ধে প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের অধিকার রাখে। তবে তারা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের মধ্যস্থতার আহ্বানও জানিয়েছে।
পরিস্থিতি ক্রমেই মানবিক বিপর্যয়রূপ নিচ্ছে। আহতদের চিকিৎসা, নিহতদের অন্ত্যেষ্টি এবং স্থানীয় বাসিন্দাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এখন সময়ের দাবি। সীমান্ত এলাকা থেকে আসা তথ্য অনুযায়ী, প্রচুর মানুষ নিজেরা নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে যাচ্ছেন।
সংক্ষেপে বলা যায়, পাকিস্তানের বিমান হামলা আফগানিস্তানের সীমান্তবর্তী অঞ্চলে মানবিক ও রাজনৈতিক দিক থেকে গভীর প্রভাব ফেলেছে। নারী ও শিশুসহ অন্তত ৮০ জনের মৃত্যু, আহতদের সংখ্যা বৃদ্ধিপ্রাপ্ত হওয়া এবং আফগান সরকারের প্রতিক্রিয়া আন্তর্জাতিক দৃষ্টিতে দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনার সূচক হিসেবে ধরা হচ্ছে