প্রকাশ: ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।
জাতিসংঘের সংশ্লিষ্ট কমিটিতে বাংলাদেশ সরকারের এলডিসি তালিকা থেকে উত্তরণ পেছানোর আবেদন নিয়ে আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়েছে। স্বল্পোন্নত দেশের (এলডিসি) তালিকা থেকে উত্তরণের প্রক্রিয়া স্থগিত করার বিষয়টি মূল্যায়ন করতে শুক্রবার নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সদর দপ্তরে কমিটি ফর ডেভেলপমেন্ট পলিসির (সিডিপি) অধীনে এফ-এমএম বা এনহান্সড মনিটরিং মেকানিজমের (ইএমএম) ফ্রেমওয়ার্কে বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে বাংলাদেশ সরকারের প্রেরিত চিঠি ও এর সাথে যুক্ত অর্থনৈতিক ও সামাজিক বিশ্লেষণগুলো উপস্থাপন করা হয়।
বৈঠকে বাংলাদেশের আবেদন নিয়ে যে আলোচনা হয়েছে, তার ভিত্তিতে কমিটি সিদ্ধান্ত নেবে যে সরকারের প্রস্তাবিত সময়সীমা অনুযায়ী এলডিসি উত্তরণ স্থগিত করা যায় কি না। বৈঠক শেষে নিউইয়র্ক থেকে সমকালকে সাক্ষাৎকারে সিডিপির সদস্য ও ইএমএম চেয়ার, বাংলাদেশের অর্থনীতিবিদ ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য জানিয়েছেন, কমিটি চিঠি গ্রহণের বিষয়টি স্বীকার করেছে এবং সরকারের উত্থাপিত বিষয়গুলো যথাযথভাবে মূল্যায়ন করবে। তিনি আরও জানান, এই প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন হতে কয়েক সপ্তাহ সময় লাগতে পারে। এর পর কমিটির সুপারিশ অর্থনৈতিক ও সামাজিক কাউন্সিলে পাঠানো হবে এবং পরবর্তীতে সাধারণ পরিষদে উপস্থাপন করা হবে।
ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য স্পষ্ট করেছেন যে, সরকারের আবেদন অনুযায়ী এলডিসি উত্তরণ স্থগিত করা হবে কি না, তা শুধুমাত্র কমিটির পর্যালোচনা প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার পরেই বলা সম্ভব। বাংলাদেশের পক্ষ থেকে তিন বছরের সময়ের জন্য উত্তরণ স্থগিত করার আবেদন করা হয়েছে, যা সরকারের জন্য সময় ও প্রস্তুতি বৃদ্ধির একটি সুযোগ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
জাতিসংঘের এই প্রক্রিয়াটি বিশেষ গুরুত্ব বহন করে, কারণ এলডিসি তালিকা থেকে উত্তরণের মাধ্যমে কোনো দেশকে স্বয়ংসম্পূর্ণ, উন্নত দেশের মর্যাদা দেওয়া হয়। তবে এটি সঙ্গে আনতে পারে বিনিয়োগ, বাণিজ্য, আন্তর্জাতিক সহযোগিতা এবং পণ্য রফতানি সংক্রান্ত নতুন চ্যালেঞ্জ। বাংলাদেশের সরকারের ব্যাখ্যা অনুযায়ী, স্থগিতকরণের আবেদন মূলত অর্থনৈতিক প্রস্তুতি ও সামাজিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে করা হয়েছে। সরকারের লক্ষ্য দেশের কৃষি, শিল্প, অর্থনীতি এবং সামাজিক সেবার ক্ষেত্রে পর্যাপ্ত সক্ষমতা অর্জন করা এবং উত্তরণের সাথে সম্পর্কিত নতুন আন্তর্জাতিক নীতিমালা ও শর্তগুলোর জন্য প্রস্তুত থাকা।
বাংলাদেশ ২০২৬ সালে এলডিসি তালিকা থেকে উত্তরণের প্রক্রিয়ায় আছে। এই সময় সরকারের সিদ্ধান্তে এলডিসি উৎরণ স্থগিত করা হলে দেশের অর্থনীতি ও সামাজিক নীতি বাস্তবায়নে আরও সময় পাওয়া যাবে। বিশেষজ্ঞদের মতে, আন্তর্জাতিক অর্থনীতিতে এলডিসি থেকে উত্তরণ মানে উন্নত দেশ হিসেবে নতুন দায়িত্ব ও চ্যালেঞ্জ গ্রহণ, যা দেশকে দীর্ঘমেয়াদে উপকৃত করবে। তবে প্রক্রিয়াটি দ্রুত ও সাবধানে বাস্তবায়ন করা প্রয়োজন।
জাতিসংঘের এই আলোচনার মধ্যে রয়েছে বাংলাদেশের সরকারের প্রস্তাবিত পদক্ষেপ এবং কমিটির বাস্তবায়ন সক্ষমতার মূল্যায়ন। বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে এই প্রক্রিয়া মনিটর করা হবে এবং প্রয়োজনীয় সব তথ্য সরবরাহ করা হবে যাতে সুস্পষ্ট ও যৌক্তিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ সম্ভব হয়। কমিটির সুপারিশ সাধারণত অর্থনৈতিক ও সামাজিক দিক বিবেচনায় নেওয়া হয়।
বাংলাদেশের এলডিসি উত্তরণের বিষয়টি জাতিসংঘে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে থাকায় আন্তর্জাতিক অর্থনৈতিক সম্প্রদায়ের নজরও এ বিষয়ে রয়েছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, উত্তরণের আগে দেশের অর্থনৈতিক, সামাজিক ও বৈদেশিক নীতি সঠিকভাবে প্রস্তুত থাকলে দেশ উত্তরণ পরবর্তী চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় শক্ত অবস্থানে থাকবে।
বাংলাদেশ সরকারের এই উদ্যোগ দেশের জন্য নীতি ও অর্থনৈতিক পরিকল্পনার ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। এটি দেশের বিনিয়োগ, রফতানি এবং আন্তর্জাতিক সহযোগিতা বৃদ্ধির ক্ষেত্রে ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। সরকারের আবেদন যদি মঞ্জুর হয়, তাহলে এলডিসি উত্তরণের তারিখ তিন বছর স্থগিত হয়ে যাবে, যা দেশে অর্থনৈতিক ও সামাজিক ক্ষেত্রে আরও সমন্বয় এবং প্রস্তুতির সুযোগ দেবে।
এমন পরিস্থিতিতে দেশের জন্য আন্তর্জাতিক সহায়তা, অর্থনৈতিক সমঝোতা এবং সামাজিক স্থিতিশীলতার গুরুত্ব বৃদ্ধি পায়। কমিটির সুপারিশ ও পরবর্তী সিদ্ধান্ত বাংলাদেশের অর্থনীতিতে দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব ফেলবে এবং দেশের আন্তর্জাতিক মর্যাদা বৃদ্ধিতেও সহায়ক হবে।