প্রকাশ: ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।
ওমানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বদর বিন হামাদ আল বুসাইদি জানিয়েছেন, সুইজারল্যান্ডের জেনেভায় তৃতীয় দফার পরোক্ষা আলোচনায় ইরান ভবিষ্যতে সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম মজুত করবে না। এই অগ্রগতিকে তিনি ‘বড় সাফল্য’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চুক্তি সংক্রান্ত আলোচনাগুলি কয়েক মাসের মধ্যে পূর্ণাঙ্গ ও সৌহার্দ্যপূর্ণ সমাধানের দিকে এগোতে পারে বলেও তিনি মন্তব্য করেছেন।
বুসাইদি বলেন, ইরান সম্মত হয়েছে যে তারা এমন কোনো পারমাণবিক উপাদান রাখবে না যা বোমা তৈরিতে ব্যবহারযোগ্য হতে পারে। এছাড়া তারা বর্তমান পরমাণু মজুতকে সর্বনিম্ন পর্যায়ে নামিয়ে আনতে রাজি হয়েছে এবং সেগুলোকে শুধুমাত্র পরমাণু জ্বালানিতে রূপান্তরিত করবে। এই জ্বালানি এমনভাবে তৈরি করা হবে যাতে কখনোই তা বোমা তৈরির উপযোগী উপাদান হিসেবে ফিরিয়ে নেয়া যাবে না। পুরো প্রক্রিয়াটি আন্তর্জাতিক পরমাণু নজরদারি সংস্থা (আইএইএ) দ্বারা শতভাগ যাচাইযোগ্য এবং নিয়মিত পর্যবেক্ষণের আওতায় থাকবে।
ওমানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরও বলেন, “শান্তি আমাদের নাগালের মধ্যে, যদি আমরা কেবল কূটনীতির প্রয়োজনীয় সুযোগ ও জায়গা দিই। আমরা চূড়ান্ত লক্ষ্য নিশ্চিত করতে চাই, যাতে ইরান পারমাণবিক বোমা রাখতে না পারে। এটি আমাদের আলোচনায় একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি।” তিনি আশ্বাস দিয়েছেন যে ইরান তাদের পরমাণু মজুতের মাত্রা সর্বনিম্ন পর্যায়ে নামিয়ে আনবে এবং সকল পদক্ষেপ স্বচ্ছভাবে পরিচালিত হবে।
ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক দাবির প্রসঙ্গে বুসাইদি বলেন, “ইরান সব বিষয়ে আলোচনার জন্য উন্মুক্ত।” তিনি আশা প্রকাশ করেছেন যে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে বিষয়গুলো কূটনীতির মাধ্যমে সমাধান সম্ভব হবে।
এই মন্তব্য এমন সময়ে এসেছে, যখন তেহরান ও ওয়াশিংটনের আলোচনার ওপর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের অসন্তুষ্টি প্রকাশিত হয়েছে। হোয়াইট হাউসের বাইরে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় ট্রাম্প বলেন, জেনেভায় তৃতীয় দফা আলোচনার পরও ইরানের আচরণে তিনি সন্তুষ্ট নন। ট্রাম্প জানান, যুক্তরাষ্ট্র এখনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছায়নি এবং যদি প্রয়োজনে সামরিক শক্তি ব্যবহার করতে হয়, তারা তা করতে প্রস্তুত। তবে ট্রাম্প বলেছেন, তারা চায় শক্তিশালী সামরিক ক্ষমতা ব্যবহার না করতে, কিন্তু কিছু পরিস্থিতিতে তা প্রয়োজন হতে পারে।
আলোচনার মাধ্যমে ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির সক্ষমতা থেকে বিরত রাখার বিষয়টি কূটনীতিক মহলে ইতিবাচক অগ্রগতি হিসেবে দেখা হচ্ছে। বুসাইদি জানিয়েছেন, এই আলোচনার মাধ্যমে যা চূড়ান্তভাবে সম্মত হয়েছে, তা আগে কখনো এমন সমঝোতা হয়নি। তিনি আশা প্রকাশ করেছেন যে, যদি সব পক্ষ কূটনীতি এবং সহযোগিতার মাধ্যমে এগোতে থাকে, তাহলে কয়েক মাসের মধ্যে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সব বিষয় সমাধানযোগ্য হবে।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে পরবর্তী পরোক্ষ আলোচনা আগামী সোমবার অস্ট্রিয়ার ভিয়েনায় অনুষ্ঠিত হবে। বিশ্লেষকরা বলছেন, এই আলোচনার ফলাফল আন্তর্জাতিক শান্তি এবং মধ্যপ্রাচ্যের স্থিতিশীলতার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ইরানের সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম মজুতে না রাখার প্রতিশ্রুতি এবং তা যাচাইযোগ্য পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থা স্থাপন আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের জন্য আশাব্যঞ্জক।
বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, এই অগ্রগতি কেবলই পারমাণবিক হুমকি কমাতে সাহায্য করবে না, বরং ইরান ও পশ্চিমা দেশের মধ্যে কূটনৈতিক সম্পর্কের উন্নতিও সম্ভব করতে পারে। বুসাইদির মতে, শান্তি নাগালের মধ্যে, যদি সকল পক্ষ সংযমী, কূটনৈতিক ও দায়িত্বশীল পদক্ষেপ গ্রহণ করে।
এই পদক্ষেপ আন্তর্জাতিক নিরাপত্তার জন্য ইতিবাচক সংকেত হিসেবে ধরা হচ্ছে। ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের পারমাণবিক আলোচনায় যে অগ্রগতি হয়েছে, তা মধ্যপ্রাচ্য অঞ্চলের স্থিতিশীলতার পাশাপাশি আন্তর্জাতিক অর্থনৈতিক বাজারে নিরাপত্তার আস্থা ফিরিয়ে আনতে সাহায্য করতে পারে।