বিল ক্লিনটনের জেফরি এপস্টিন জবানবন্দি প্রকাশ

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : শনিবার, ২৮ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬
  • ৫ বার
বিল ক্লিনটনের জেফরি এপস্টিন জবানবন্দি প্রকাশ

প্রকাশ: ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট বিল ক্লিনটন কংগ্রেসের প্রতিনিধি পরিষদের ওভারসাইট কমিটির সামনে হাজির হয়ে কুখ্যাত যৌন অপরাধী প্রয়াত জেফরি এপস্টিনের সঙ্গে সম্পর্ক নিয়ে জবানবন্দি দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, এপস্টিনের সঙ্গে তার সম্পর্ক সংক্রান্ত কোনো অনৈতিক কাজ করেননি এবং কিছুই দেখেননি। এই শুনানি অনুষ্ঠিত হয় নিউইয়র্কে গত শুক্রবার, যা দিনব্যাপী রুদ্ধদ্বারভাবে পরিচালিত হয়।

শুনানিতে ক্লিনটনকে সম্প্রতি প্রকাশিত এপস্টিনের মামলা সংক্রান্ত নথিপত্রে তাঁর নাম আসা এবং একটি ছবিতে হট টাবে অজ্ঞাত পরিচয় এক নারীর সঙ্গে উপস্থিত থাকার বিষয় জিজ্ঞাসা করা হয়। ছবি সংক্রান্ত প্রশ্নে তিনি জানিয়েছেন, তিনি ওই নারীর সঙ্গে কোনো ধরনের যৌন সম্পর্ক করেননি এবং তাকে চিনতেনও না। মার্কিন বিচার বিভাগের প্রকাশিত নথিতে ওই নারীর মুখ কালো রঙে ঢেকে রাখা হয়েছে।

একই শুনানির আগে ক্লিনটনের স্ত্রী এবং সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিলারি ক্লিনটনও কংগ্রেস কমিটির সামনে জবানবন্দি দিয়েছেন। হিলারি জানান, তিনি এপস্টিনের অপরাধ সম্পর্কে কিছুই জানতেন না এবং বিষয়টি সম্পর্কে কোনো ধারণা নেই।

ক্লিনটন বলেন, যদি তিনি জানতেন যে এপস্টিন কী করছিল, তাহলে তার সঙ্গে সম্পর্ক সম্পূর্ণ ছিন্ন করতেন এবং কখনোই তার উড়োজাহাজে ভ্রমণ করতেন না। তিনি জোর দিয়ে বলেন, ‘তাহলে আমি নিজে তাঁকে ধরিয়ে দিতাম।’ এই বক্তব্যে স্পষ্ট হয়, সাবেক প্রেসিডেন্টের দাবি অনুযায়ী, এপস্টিনের কর্মকাণ্ড সম্পর্কে কোনো সচেতন জ্ঞান তার ছিল না।

সাবেক প্রেসিডেন্ট ও তাঁর স্ত্রী দুজনেই প্রথমে কমিটির সামনে জবানবন্দি দিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছিলেন। তবে যখন আইনপ্রণেতারা তাদের বিরুদ্ধে ‘কংগ্রেস অবমাননার’ অভিযোগ আনার উদ্যোগ নেন, তখন তাঁরা সম্মত হন। এই রুদ্ধদ্বার জিজ্ঞাসাবাদে হাউস ওভারসাইট কমিটির রিপাবলিকান চেয়ারম্যান জেমস কোমার বলেন, সাক্ষ্য গ্রহণ ‘খুব ফলপ্রসূ’ হয়েছে। তিনি আরও উল্লেখ করেন, ক্লিনটন প্রতিটি প্রশ্নের উত্তর দিয়েছেন বা দেওয়ার চেষ্টা করেছেন।

কোমার জানান, বিল ক্লিনটনের সাক্ষ্যের ভিডিও এবং সম্পূর্ণ ট্রান্সক্রিপ্ট শিগগিরই প্রকাশিত হবে। তিনি এটিও বলেন, ক্লিনটন ও হিলারির সাক্ষ্য গ্রহণকে ‘ঐতিহাসিক’ হিসেবে বর্ণনা করা যায়। তারা কংগ্রেসের সামনে জিজ্ঞাসাবাদের মুখোমুখি হওয়া সর্বোচ্চ পদমর্যাদার দুই কর্মকর্তা, যাদের আগে কখনো আইনিভাবে এইভাবে ডাকা হয়নি।

এর আগে আরও ছয়জন সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট কংগ্রেসের সামনে সাক্ষ্য দিয়েছেন। তবে তাঁদের কাউকেই আইনিভাবে formally ডেকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়নি। যেমন, সাবেক প্রেসিডেন্ট জেরাল্ড ফোর্ড ১৯৭৪ সালে স্বেচ্ছায় হাজির হন, রিচার্ড নিক্সনের ক্ষমা ঘোষণার ব্যাখ্যা দিতে।

শুনানিতে ক্লিনটনকে জিজ্ঞাসা করা হয়, তিনি ট্রাম্পকে সাক্ষ্য দেওয়ার জন্য কমিটির সামনে আনা উচিত কি না। ক্লিনটন বলেন, ‘এটা আপনারাই ঠিক করবেন’। এছাড়া ট্রাম্পের সঙ্গে এপস্টিনের সম্পর্ক নিয়ে নতুন তথ্য উঠে এসেছে, যা কমিটি ভবিষ্যতে বর্তমান প্রেসিডেন্টকে জিজ্ঞাসাবাদ করার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরতে পারে। তবে কোমার বলেন, সাবেক প্রেসিডেন্টের দেওয়া তথ্য ট্রাম্পের বিরুদ্ধে কোনো বিশ্বাস পরিবর্তন ঘটায়নি।

শুনানির পর ট্রাম্প সাংবাদিকদের বলেন, তিনি ক্লিনটনকে জিজ্ঞাসাবাদের মুখোমুখি হতে দেখতে পছন্দ করছেন না। তবে তিনি সতর্ক করে বলেছেন, কিছু পরিস্থিতিতে সামরিক শক্তি ব্যবহার করতে হতে পারে।

এপস্টিন কেলেঙ্কারির এই জবানবন্দি আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে ব্যাপক মনোযোগ কেড়েছে। ক্লিনটনের বক্তব্য অনুসারে, তিনি কোনো ধরনের অনৈতিক কার্যক্রমে জড়িত ছিলেন না এবং এপস্টিনের সঙ্গে তার সম্পর্ক সীমিত ও অনিচ্ছাকৃত ছিল। মার্কিন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, এই শুনানি ভবিষ্যতে কংগ্রেসের তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে এবং জনগণকে প্রকৃত তথ্য জানাতে সহায়ক হবে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত