বগুড়ায় যুবদল নেতার অবৈধ মাটি কারবারে সড়ক ঝুঁকিতে

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : শনিবার, ২৮ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬
  • ৮ বার
বগুড়ায় যুবদল নেতার অবৈধ মাটি কারবারে সড়ক ঝুঁকিতে

প্রকাশ: ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

বগুড়ার ধুনট উপজেলায় অবৈধ মাটি কাটার ঘটনা নতুন করে উত্তেজনা তৈরি করেছে। উপজেলার ভাণ্ডারবাড়ি ইউনিয়নের রঘুনাথপুর গ্রামের যুবদল নেতা জহুরুল ইসলাম এক্সকাভেটর ব্যবহার করে নিজের জমি থেকে মাটি কেটে তা বিক্রি করার অভিযোগে স্থানীয়দের ক্ষোভের মুখে পড়েছেন। অভিযোগ রয়েছে, এই কর্মকাণ্ডের কারণে ভাণ্ডারবাড়ি-গোসাইবাড়ি পাকা সড়কটি ভাঙনের ঝুঁকিতে পড়েছে এবং এলাকার পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্যের ওপর মারাত্মক প্রভাব পড়ছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) সকাল ১০টার দিকে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, এক্সকাভেটর, ট্রলি ও খননযন্ত্র ভাঙা সড়কের পাশের জমিতে মাটি কেটে অন্যত্র সরানো হচ্ছে। স্থানীয়রা জানিয়েছেন, যুবদল নেতা জহুরুল ইসলাম পুকুর খনন এবং পুকুর পাড় বাঁধার নাম করে মাটি কাটছেন এবং তা বিভিন্ন ইটভাটা ও ব্যক্তিদের কাছে বিক্রি করছেন। এতে এলাকার পাকা সড়ক ভেঙে পড়ার পাশাপাশি অতিরিক্ত মাটিবোঝাই ট্রাক চলাচলের কারণে সড়কগুলো মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।

সরকারি নিয়ম অনুযায়ী আঞ্চলিক বা গ্রামীণ সড়কের উভয় পাশের অন্তত ১০ ফুট ফাঁকা রাখার পরই পুকুরের পাড় তৈরি করা যায়। তবে অভিযোগ, এখানে এই নিয়ম পূরণ হচ্ছে না। ফলে সড়কসংলগ্ন মাটি কাটার ফলে বৃষ্টির সময় কাদা জমে দুর্ঘটনার ঝুঁকি বেড়ে যাচ্ছে এবং স্থানীয়দের মধ্যে নিরাপত্তাহীনতার অনুভূতি তৈরি হয়েছে।

স্থানীয়রা জানান, দিনের বিভিন্ন সময়ে মাটিবোঝাই ট্রলি চলাচলের ফলে ধুলাবালি, কাদা ও শব্দ দূষণ বৃদ্ধি পাচ্ছে। শিশু, বৃদ্ধ ও সাধারণ পথচারীরা স্বাস্থ্যঝুঁকিতে পড়ছেন। “আমরা চাই কর্তৃপক্ষ অবিলম্বে পদক্ষেপ নিক। প্রতিদিনই মাটি কেটে সড়ক নষ্ট করা হচ্ছে, একবার বড় দুর্ঘটনা ঘটলে তার দায় কারও নিতে পারবে না,” অভিযোগ করেছেন একজন স্থানীয় বাসিন্দা।

অভিযুক্ত যুবদল নেতা জহুরুল ইসলাম অবশ্য তার কর্মকাণ্ডকে ন্যায্য দাবি করেছেন। তিনি বলেন, “আমার নিজের জমিতে পুকুর খনন ও পাড় বাঁধাই করা হচ্ছে। সামান্য কয়েকটি গাড়ি মাটি গ্রামের মসজিদ ও মাদরাসার উন্নয়ন কাজে বিক্রি করা হচ্ছে। এতে রাস্তার কোনো ক্ষতি হওয়ার সম্ভাবনা নেই।”

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) প্রীতিলতা বর্মন জানান, “মাটি কেটে বিক্রি করার জন্য সংশ্লিষ্ট এলাকায় কোনো অনুমতি দেওয়া হয়নি। বিষয়টির খোঁজ নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। স্থানীয় প্রশাসন সড়ক রক্ষা এবং পরিবেশগত নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সর্বাত্মক চেষ্টা করছে।”

এই ঘটনার ফলে স্থানীয়দের মধ্যে একদিকে সামাজিক অস্থিরতা তৈরি হয়েছে, অন্যদিকে প্রশাসনের প্রতি আস্থা পরীক্ষা চলছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, সড়ক সংলগ্ন জমি থেকে অবৈধভাবে মাটি কাটা বা পরিবহণ জনজীবন ও পরিবেশের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর। তারা বলেছেন, প্রশাসনের দ্রুত হস্তক্ষেপ না হলে ছোটখাটো দুর্ঘটনা বড় বিপর্যয়ে রূপ নিতে পারে।

ধুনট উপজেলা ও ভাণ্ডারবাড়ি ইউনিয়নের বাসিন্দারা সরকারের কাছে দাবি জানিয়েছেন, এমন কর্মকাণ্ড বন্ধ করতে কার্যকরী নজরদারি এবং স্থানীয়ভাবে স্থায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হোক। তারা মনে করছেন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এবং স্থানীয় প্রশাসনের সমন্বিত উদ্যোগ ছাড়া এসব অবৈধ কর্মকাণ্ড প্রতিরোধ করা সম্ভব নয়।

অবৈধভাবে মাটি কাটার ফলে শুধু সড়কই নয়, এলাকার জলবায়ু ও স্বাস্থ্যও প্রভাবিত হচ্ছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মাটির অতিরিক্ত খনন থেকে পানি নিষ্কাশন ও মাটির গুণগত মান ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে, যা দীর্ঘমেয়াদে কৃষি ও স্থানীয় পরিবেশের জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়াবে। এ ধরনের কর্মকাণ্ড নিয়ন্ত্রণ করতে স্থানীয় প্রশাসন, উপজেলা প্রকৌশল বিভাগ এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তৎপরতা অপরিহার্য।

সর্বশেষ জানা গেছে, স্থানীয় প্রশাসন ঘটনার বিষয়ে খোঁজ নিচ্ছে এবং প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রস্তুতি নিচ্ছে। স্থানীয়রা আশা করছেন, দ্রুত হস্তক্ষেপের মাধ্যমে সড়ক রক্ষা, পরিবেশ সংরক্ষণ এবং জনসাধারণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত