গোপালগঞ্জ রণক্ষেত্র: এনসিপির গাড়িবহরে হামলা, জেলায় ১৪৪ ধারা জারি

নিজস্ব সংবাদদাতা
  • আপডেট টাইম : বুধবার, ১৬ জুলাই, ২০২৫
  • ৪৫ বার
গোপালগঞ্জ রণক্ষেত্র: এনসিপির গাড়িবহরে হামলা, জেলায় ১৪৪ ধারা জারি

প্রকাশ: ১৬ জুলাই’ ২০২৫ । নিজস্ব সংবাদদাতা । একটি বাংলাদেশ অনলাইন

গোপালগঞ্জে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)-এর সমাবেশ শেষে ফেরার পথে দলটির নেতাদের গাড়িবহরে ভয়াবহ হামলার পর পুরো শহর এক প্রকার রণক্ষেত্রে পরিণত হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে জেলা প্রশাসন জারী করেছে ১৪৪ ধারা। শহরের বিভিন্ন এলাকাজুড়ে থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে, এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর টহল জোরদার করা হয়েছে।

জেলা প্রশাসক মো. কামরুজ্জামান গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন, সহিংসতা ও জননিরাপত্তার স্বার্থে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। দুপুর আড়াইটার দিকে গোপালগঞ্জের পৌরপার্ক সংলগ্ন চৌরঙ্গী মোড়ে এনসিপির গাড়িবহরকে লক্ষ্য করে দুই পাশ থেকে শুরু হয় ইট-পাটকেল নিক্ষেপ। স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, ছাত্রলীগ ও নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরাই ছিল এই হামলার পেছনে। এই হামলার মধ্যেই একাধিকবার সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে, পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।

এমন সহিংসতার মধ্যে দ্রুত সেনাবাহিনী ঘটনাস্থলে পৌঁছায় এবং হামলাকারীদের প্রতিরোধে সক্রিয় ভূমিকা নিতে শুরু করে। যদিও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে তাদের কিছু সময়ের জন্য পিছু হটতেও দেখা যায়, পরে আবারও তারা ফিরে এসে প্রস্তুতি নেয় নতুন করে দমন-পীড়নের। সেনাবাহিনীর পাশাপাশি মাঠে নামানো হয়েছে র‍্যাব ও পুলিশের বিপুলসংখ্যক সদস্য। এর মধ্যে পুলিশ ফাঁকা গুলি ছোড়ে, টিয়ারশেল ও রাবার বুলেট ছুড়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা চালায়। কিছু সময় পর ব্যবহার করা হয় সাউন্ড গ্রেনেডও।

সরাসরি সংঘর্ষে অন্তত চারজন পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে, যাদের মধ্যে দুজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। আহতদের হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

এদিকে গোপালগঞ্জ শহরের গুরুত্বপূর্ণ মোড়, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, সরকারি ভবনসহ বিভিন্ন স্থানে টহল দিচ্ছে সেনাবাহিনী, বিজিবি ও র‍্যাব সদস্যরা। বিশেষ করে শহরের প্রবেশপথগুলোতে চেকপোস্ট বসানো হয়েছে এবং সন্দেহভাজন কাউকে দেখলেই তাৎক্ষণিকভাবে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।

জেলার বিভিন্ন স্থানে পরিস্থিতি আরও না অবনতির দিকে যায়, সেজন্য মোতায়েন করা হয়েছে বিজিবির ৪ প্লাটুন সদস্য। প্রশাসন বলছে, সহিংসতা যেকোনো মূল্যে রোধ করতে তারা বদ্ধপরিকর।

এনসিপি নেতাদের অভিযোগ, গোপালগঞ্জে তারা আইনত সমাবেশ করছিলেন, অথচ প্রশাসনের নিষ্ক্রিয়তা এবং ছাত্রলীগ-আওয়ামী লীগের ‘নিষিদ্ধ’ কার্যক্রম এই সহিংসতার জন্য দায়ী। তারা আরও অভিযোগ করেছেন, হামলার সময় প্রশাসন তেমন সক্রিয় ছিল না, বরং পুলিশের কিছু সদস্য ঘটনাস্থলে দাঁড়িয়ে ‘নাটক’ দেখেছেন।

এই সহিংসতার ফলে শহরজুড়ে ব্যবসা-বাণিজ্য স্থবির হয়ে পড়েছে। সাধারণ মানুষ আতঙ্কিত হয়ে ঘরবন্দি অবস্থায় আছেন। শহরের যানচলাচল বন্ধ এবং মোবাইল নেটওয়ার্কেও আংশিক সমস্যা দেখা দিয়েছে।

প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, যারা এই সহিংসতার পেছনে জড়িত, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ইতোমধ্যে ভিডিও ফুটেজ বিশ্লেষণ করে হামলাকারীদের শনাক্তের কাজ চলছে।

এনসিপির পক্ষ থেকে পুনরায় দাবি জানানো হয়েছে, গোপালগঞ্জে রাজনৈতিক মত প্রকাশের স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে হবে এবং হামলার সঙ্গে জড়িতদের অবিলম্বে গ্রেফতার করে আইনের আওতায় আনতে হবে।

প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত পরিস্থিতি এখনও পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আসেনি। জেলা প্রশাসন, পুলিশ ও সেনাবাহিনী সব পক্ষই চেষ্টা করছে উত্তপ্ত পরিস্থিতিকে শীতল করতে, তবে গোপালগঞ্জ শহর এখনও উদ্বেগ-উৎকণ্ঠার ভেতর দিন কাটাচ্ছে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত