মাশহাদে সমাহিত হবেন আলী খামেনি

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : বুধবার, ৪ মার্চ, ২০২৬
  • ৫ বার
আলী খামেনির সমাহিত মাশহাদে

প্রকাশ: ০৪ মার্চ ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির মৃত্যুর খবরে দেশজুড়ে গভীর শোকের আবহ তৈরি হয়েছে। রাষ্ট্রীয় সূত্রে জানানো হয়েছে, তাকে পবিত্র শহর মাশহাদে সমাহিত করা হবে। ইরানের দ্বিতীয় বৃহত্তম এই শহরই তার জন্মস্থান। জীবনের শুরু যেখানে, শেষ বিশ্রামও সেখানেই—এ সিদ্ধান্তে প্রতীকী তাৎপর্য খুঁজে পাচ্ছেন অনেকে।

দেশটির প্রভাবশালী সংবাদ সংস্থা Fars News Agency এ তথ্য প্রকাশ করেছে। তবে দাফনের নির্দিষ্ট তারিখ এখনো জানানো হয়নি। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, রাষ্ট্রীয় শোকপালন ও নিরাপত্তা পরিস্থিতি বিবেচনায় রেখে সময় ঘোষণা করা হবে।

খামেনিকে সমাহিত করা হবে মাশহাদের ইমাম রেজা মাজার প্রাঙ্গণে, যেখানে তার পিতার কবরও রয়েছে। শিয়া মুসলমানদের কাছে এই মাজার অত্যন্ত পবিত্র স্থান। প্রতিবছর লাখো মানুষ সেখানে জিয়ারত করতে যান। ধর্মীয় মর্যাদা ও ব্যক্তিগত ইতিহাস—দুই দিক থেকেই এই স্থান নির্বাচনের বিশেষ গুরুত্ব রয়েছে।

দাফনের আগে রাজধানী তেহরানে তাকে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় শেষ বিদায় জানানো হবে বলে জানিয়েছে Islamic Revolutionary Guard Corps। বড় পরিসরে শোকানুষ্ঠানের প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। তবে নিরাপত্তার কারণে বিস্তারিত কর্মসূচি প্রকাশ করা হয়নি।

রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের দাবি অনুযায়ী, সম্প্রতি এক যৌথ হামলায় ৮৬ বছর বয়সী খামেনি নিহত হন। এ ঘটনার পর দেশজুড়ে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। আন্তর্জাতিক মহলেও এ নিয়ে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে।

আলী খামেনি ১৯৮৯ সালে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা হন। ইসলামি বিপ্লব-পরবর্তী সময় থেকে তিনি দেশের ক্ষমতার কেন্দ্রবিন্দুতে ছিলেন। ১৯৮০-এর দশকে ইরান-ইরাক যুদ্ধের সময় তিনি রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। পরে সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে প্রায় সাড়ে তিন দশক দেশ পরিচালনা করেন।

তার শাসনামলে ইরান নানা রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জের মুখে পড়ে। আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা, আঞ্চলিক উত্তেজনা এবং অভ্যন্তরীণ বিক্ষোভ—সবকিছুর মধ্যেই তিনি ক্ষমতায় ছিলেন। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে মুদ্রার অবমূল্যায়ন ও দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধিকে কেন্দ্র করে দেশজুড়ে বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। অনেক জায়গায় সরকারবিরোধী স্লোগানও শোনা যায়।

তার মৃত্যুর পর ইরানের ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। সংবিধান অনুযায়ী বিশেষজ্ঞ পরিষদ নতুন সর্বোচ্চ নেতা নির্বাচন করবে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই পরিবর্তন দেশের অভ্যন্তরীণ রাজনীতি ও পররাষ্ট্রনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে।

মাশহাদে সমাহিত হওয়ার সিদ্ধান্ত তার ব্যক্তিগত জীবনের সঙ্গে গভীরভাবে যুক্ত। জন্মভূমিতে চিরনিদ্রায় শায়িত হওয়া তার সমর্থকদের কাছে আবেগের বিষয় হয়ে উঠেছে। একই সঙ্গে ধর্মীয়ভাবে গুরুত্বপূর্ণ স্থানে দাফন তাকে শিয়া ঐতিহ্যের কেন্দ্রের সঙ্গে স্থায়ীভাবে যুক্ত করবে।

দেশজুড়ে এখন শোক ও অনিশ্চয়তার আবহ। একদিকে শেষ বিদায়ের প্রস্তুতি, অন্যদিকে ভবিষ্যৎ নেতৃত্বের অপেক্ষা। দীর্ঘ প্রায় সাড়ে তিন দশকের এক অধ্যায়ের অবসান ঘটতে চলেছে। ইরানের রাজনীতি ও সমাজ কোন পথে এগোবে, তা নির্ভর করবে আগামী দিনের সিদ্ধান্ত ও পরিস্থিতির ওপর।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত