প্রকাশ: ০৫ মার্চ ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।
মার্কিন সাবমেরিন হামলার পর ইরানের আরেকটি যুদ্ধজাহাজ শ্রীলঙ্কার জলসীমার দিকে অগ্রসর হচ্ছে। বুধবার (৪ মার্চ) শ্রীলঙ্কার দক্ষিণ উপকূলের কাছে মার্কিন সাবমেরিন হামলায় ইরানের একটি মাঝারি আকারের রণতরী ডুবে যায়, যেখানে অন্তত ৮৭ জন নাবিক নিহত হন। এ ঘটনার পর ইরান তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়ে যুক্তরাষ্ট্রকে সতর্ক করেছে। নতুন যুদ্ধজাহাজটি একই এলাকায় যাওয়ায় আন্তর্জাতিক মহলে উদ্বেগ বৃদ্ধি পেয়েছে।
শ্রীলঙ্কার গণমাধ্যম বিষয়ক মন্ত্রী নালিন্দা জয়তিসা জানিয়েছেন, ১০০ জনেরও বেশি ক্র বহনকারী দ্বিতীয় যুদ্ধজাহাজটি এখনও শ্রীলঙ্কার জলসীমার বাইরে অবস্থান করছে। তবে জয়তিসা জাহাজটির অবস্থান ও নিরাপত্তা সংক্রান্ত বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করেননি। এর ফলে ওয়াকিবহাল পর্যবেক্ষকরা আশঙ্কা করছেন, প্রথম হামলার মতো এই জাহাজও হামলার শিকার হতে পারে।
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি এক্স পোস্টে বলেছেন, আন্তর্জাতিক জলসীমায় ইরানি ফ্রিগেট ডুবিয়ে দেয়ার জন্য যুক্তরাষ্ট্রকে তীব্র অনুতাপ প্রকাশ করতে হবে। তিনি বলেন, এই জাহাজটি ভারতের নৌবাহিনীর অতিথি হিসেবে সেখানে অবস্থান করছিল এবং যুক্তরাষ্ট্র যে নজির স্থাপন করেছে, তার জন্য তাদের শাস্তি প্রাপ্তি অনিবার্য। আরাঘচি আরও বলেন, এই ঘটনা আন্তর্জাতিক নৌসীমায় সংরক্ষিত নীতি ও আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন করেছে, যা মধ্যপ্রাচ্য উত্তেজনার পাশাপাশি আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও অর্থনীতির ওপরও প্রভাব ফেলতে পারে।
মার্কিন সাবমেরিন হামলা এবং এর পরবর্তী ইরানি প্রতিক্রিয়া মধ্যপ্রাচ্যের নতুন যুদ্ধাবস্থাকে আরও বিস্তৃত করেছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল যৌথভাবে ইরানের লক্ষ্যবস্তুতে আক্রমণ চালানোর পর থেকে উত্তেজনা বৃদ্ধি পেয়েছে। ইরান তার প্রতিক্রিয়ায় তেল আবিব এবং জেরুজালেমে ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে। ইসরাইল এই ক্ষেপণাস্ত্র আক্রমণ প্রতিহত করতে আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার ব্যবহার করেছে এবং তাৎক্ষণিকভাবে কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সাম্প্রতিক এই উত্তেজনা শুধু মধ্যপ্রাচ্য নয়, বরং আন্তর্জাতিক জলসীমা ও আঞ্চলিক নিরাপত্তা শৃঙ্খলাকেও ঝুঁকিতে ফেলেছে। ইরান সর্তক করে জানিয়েছে যে, তারা তাদের নৌসামরিক সম্পদ রক্ষার জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করবে এবং আন্তর্জাতিক আইনের সীমারেখার মধ্যে অবস্থান করবে।
শ্রীলঙ্কার জলসীমার দিকে এগোতে থাকা ইরানি যুদ্ধজাহাজটি বিশাল ক্র বহনকারী হওয়ায় এটি আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও সমুদ্রপথের স্থিতিশীলতায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। বিশ্লেষকরা বলছেন, যদি হামলার শিকার হয়, তবে এটি আন্তর্জাতিক নৌসীমায় উত্তেজনা বৃদ্ধি করতে পারে। একই সঙ্গে, এটি আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক সংযোগ ও নিরাপত্তা সংক্রান্ত পদক্ষেপগুলোর ওপরও চাপ সৃষ্টি করবে।
ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে এই সামরিক উত্তেজনা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে। সংযুক্ত জাতিসংঘসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থা এবং দেশীয় পর্যবেক্ষকরা সর্তকতা অবলম্বন করে ঘটনার বিষয়ে নজর রাখছে। মধ্যপ্রাচ্য ও দক্ষিণ এশিয়ার জলসীমায় অবস্থিত এই জাহাজের কার্যক্রম আগামী কয়েকদিনে আন্তর্জাতিক নীতিনির্ধারক এবং কূটনৈতিক পদক্ষেপের ওপর গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে।
নিরপেক্ষ বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই ধরনের সামরিক সংঘর্ষ বেসামরিক জনগণের ওপর ভয়াবহ প্রভাব ফেলতে পারে। আন্তর্জাতিক জলসীমায় সাবমেরিন হামলা ও যুদ্ধজাহাজের অবস্থান নিরীক্ষণ করা, আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখা এবং কূটনৈতিক সংলাপের মাধ্যমে উত্তেজনা কমানো এখন গুরুত্বপূর্ণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।