ভারতের সুখোই বিমান বিধ্বস্ত, দুই পাইলটের মৃত্যু

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : শুক্রবার, ৬ মার্চ, ২০২৬
  • ৫২ বার
ভারতের সুখোই বিমান বিধ্বস্ত, দুই পাইলটের মৃত্যু

প্রকাশ: ৬ মার্চ ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

ভারতের আসামের কার্বি আংলং জেলায় একটি সুখোই সু–৩০ এমকেআই যুদ্ধবিমান বিধ্বস্ত হয়ে বিমানবাহিনীর দুই পাইলটের প্রাণহানি ঘটেছে। দেশটির বিমানবাহিনী শুক্রবার (৬ মার্চ) রাতে এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য নিশ্চিত করেছে। নিহত পাইলটরা হলেন স্কোয়াড্রন লিডার অনুজ ও ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট পুরভেশ দুরাগকর।

বিমানটি একটি নিয়মিত প্রশিক্ষণ মিশনে অংশগ্রহণ করছিল এবং যোরহাট বিমানঘাঁটি থেকে উড্ডয়ন করা মাত্রই কিছুক্ষণের মধ্যে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। পরে ঘাঁটি থেকে প্রায় ৬০ কিলোমিটার দূরে এটি বিধ্বস্ত অবস্থায় পাওয়া যায়। ভারতীয় বিমানবাহিনী সূত্রে জানা গেছে, যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়ার সময় স্থানীয় সময় সন্ধ্যা ৭টা ৪২ মিনিটে বিমানটির সঙ্গে শেষবার সংযোগ স্থাপিত হয়েছিল।

আইএএফের পক্ষ থেকে নিহত পাইলটদের পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা প্রকাশ করা হয়েছে। এক্সে (সাবেক টুইটার) দেওয়া এক পোস্টে বলা হয়েছে, বিমানবাহিনী শোকাহত পরিবারের পাশে থাকবে এবং এ ধরনের দুর্ঘটনার জন্য যথাযথ তদন্ত সম্পন্ন করা হবে।

সুখোই সু–৩০ এমকেআই একটি দুই আসনের, বহুমুখী ও দীর্ঘপাল্লার যুদ্ধবিমান। এটি রাশিয়ার বিমান নির্মাতা প্রতিষ্ঠান সুখোই তৈরি করেছে এবং বর্তমানে ভারতীয় রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান হিন্দুস্তান অ্যারোনটিক্স লিমিটেড (এইচএএল) লাইসেন্সের অধীনে উৎপাদন হচ্ছে। ভারতীয় বিমানবাহিনীর বহরে বর্তমানে ২৬০টিরও বেশি সু–৩০ এমকেআই যুদ্ধবিমান রয়েছে।

বিমান বিধ্বস্ত হওয়ার ঘটনায় দেশের সামরিক মহলে শোক ও উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। প্রশিক্ষণ মিশনের সময় ঘটে যাওয়া এ দুর্ঘটনা সেনাবাহিনীর কার্যক্রম ও নিরাপত্তা ব্যবস্থার পুনর্মূল্যায়নের প্রয়োজনীয়তাকেও সামনে নিয়ে এসেছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, দুর্ঘটনার কারণ নির্ণয়ে প্রযুক্তিগত ত্রুটি, যান্ত্রিক সমস্যা বা আবহাওয়ার প্রভাবসহ সব দিক বিবেচনা করে তদন্ত করতে হবে।

নিহত পাইলটদের আত্মত্যাগ ও দায়িত্ববোধকে সম্মান জানিয়ে ভারতীয় বিমানবাহিনী তাদের প্রতি সর্বোচ্চ শ্রদ্ধা জানিয়েছে। দেশজুড়ে শোকের ছায়া নেমেছে এবং বিমানবাহিনীর কর্মকর্তারা আশা প্রকাশ করেছেন, ভবিষ্যতে এ ধরনের দুর্ঘটনা প্রতিরোধে পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

এই দুর্ঘটনার ফলে শুধুমাত্র মানবিক ক্ষতি নয়, ভারতের সামরিক প্রশিক্ষণ কার্যক্রমও প্রভাবিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। প্রশিক্ষণ মিশনে ব্যবহৃত যেকোনো বিমানের নিরাপত্তা এবং যান্ত্রিক সক্ষমতা বিষয়ে জরুরি পুনর্মূল্যায়ন জরুরি হয়ে পড়েছে।

বাংলাদেশসহ প্রতিবেশী দেশগুলোও ভারতীয় সামরিক দুর্ঘটনার খবরের সঙ্গে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। একাধিক আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম এ ঘটনায় সংবাদ প্রকাশ করেছে এবং পাইলটদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছে।

সাম্প্রতিক সময়ে দক্ষিণ এশিয়ার বিমানবাহিনীর বহরে বিমান প্রশিক্ষণ মিশনের নিরাপত্তা বৃদ্ধি ও প্রযুক্তিগত আধুনিকায়নের গুরুত্ব আবারও সামনে এসেছে। সুখোই সু–৩০ এমকেআই-এর মতো উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন যুদ্ধবিমানের ব্যবহারে প্রশিক্ষণ এবং রক্ষণাবেক্ষণ উভয় ক্ষেত্রেই সতর্কতার প্রয়োজনীয়তা বিশেষভাবে অনুভূত হচ্ছে।

এই দুর্ঘটনা দেশীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে এক বার্তা পৌঁছে দিয়েছে যে, প্রশিক্ষণ মিশনে সতর্কতা এবং যান্ত্রিক রক্ষণাবেক্ষণ নিশ্চিত করা না হলে উচ্চমূল্যের সামরিক যন্ত্রপাতির সুরক্ষা ঝুঁকিতে পড়ে। ভারতীয় বিমানবাহিনী ইতোমধ্যেই তদন্ত কমিটি গঠন করেছে এবং দ্রুততম সময়ে দুর্ঘটনার কারণ নির্ণয় করার পাশাপাশি ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা প্রতিরোধের পরিকল্পনা গ্রহণ করবে।

এভাবে সুখোই সু–৩০ এমকেআই যুদ্ধবিমানের বিধ্বস্ত হওয়ার ঘটনা ভারতীয় বিমানবাহিনীর ইতিহাসে এক শোকাবহ অধ্যায় হিসেবে অন্তর্ভুক্ত হলো। নিহত দুই পাইলটের পরিবার ও সহকর্মীদের প্রতি দেশজুড়ে সমবেদনা প্রকাশ করা হয়েছে। সামরিক মহল এ দুর্ঘটনার প্রভাব মূল্যায়ন করে প্রশিক্ষণ ও নিরাপত্তা ব্যবস্থায় প্রয়োজনীয় সংশোধনী গ্রহণ করবে বলে জানিয়েছে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত