যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বিরুদ্ধে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত যুদ্ধ প্রস্তুতি নিচ্ছে

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : শুক্রবার, ৬ মার্চ, ২০২৬
  • ৩৮ বার
যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বিরুদ্ধে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত যুদ্ধ প্রস্তুতি নিচ্ছে

প্রকাশ: ৬ মার্চ ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

ইরানের সঙ্গে উত্তেজনা নতুন উচ্চতায় পৌঁছেছে। মার্কিন সংবাদমাধ্যম পলিটিকোর প্রতিবেদনে জানা গেছে, যুক্তরাষ্ট্র চলতি বছরের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ার দীর্ঘমেয়াদি প্রস্তুতি নিচ্ছে। পরিস্থিতি ক্রমেই জটিল ও উদ্বেগজনক আকার ধারণ করছে, যেখানে ইরান, যুক্তরাষ্ট্র এবং ইসরাইলের মধ্যে সংঘাত শুধু সীমান্ত অঞ্চলে সীমাবদ্ধ থাকছে না, পাশের দেশগুলোতেও তা ছড়িয়ে পড়ছে। বিশ্বজুড়ে শান্তি আন্দোলন, যুদ্ধবিরতি আহ্বান এবং কূটনৈতিক প্রচেষ্টা থাকা সত্ত্বেও পেন্টাগন এবং মার্কিন প্রশাসন যুদ্ধ অব্যাহত রাখার সিদ্ধান্তে দৃঢ়।

মার্কিন প্রতিরক্ষা সদর দফতর পেন্টাগনের কাছ থেকে জানা যায়, ফ্লোরিডার টাম্পায় অবস্থিত সদর দফতরে অতিরিক্ত সামরিক গোয়েন্দা কর্মকর্তা মোতায়নের অনুরোধ করা হয়েছে। এই কর্মকর্তারা অন্তত ১০০ দিন, বা সম্ভাব্য আগামী সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ইরানের বিরুদ্ধে চলমান সামরিক অভিযানকে সহায়তা করবেন। বিশ্লেষকেরা মনে করছেন, এটি শুধু সাময়িক প্রস্তুতি নয়; বরং দীর্ঘ সময় ধরে স্থায়ী অভিযান পরিচালনার একটি সংকেত। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আগেও ইঙ্গিত দিয়েছিলেন যে, ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান চার থেকে পাঁচ সপ্তাহ স্থায়ী হতে পারে, তবে পরিস্থিতি পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে এটি দীর্ঘায়িত হওয়ারও সম্ভাবনা রয়েছে।

ইরানের সঙ্গে চলমান সংঘাতের প্রেক্ষাপটে মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ জানিয়েছেন, চলমান সামরিক অভিযান সর্বোচ্চ আট সপ্তাহ পর্যন্ত স্থায়ী হতে পারে। কিন্তু পেন্টাগনের ভেতরে দ্রুত অতিরিক্ত জনবল ও সম্পদ জোগাড়ের পদক্ষেপ থেকে ধারণা পাওয়া যাচ্ছে যে, মার্কিন প্রশাসন আরও দীর্ঘ মেয়াদী যুদ্ধ পরিচালনার পরিকল্পনা করছে।

তবে এই সিদ্ধান্ত মার্কিন রাষ্ট্রের ভেতরে বিতর্ক সৃষ্টি করেছে। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের পদক্ষেপকে সমর্থন না করার কণ্ঠশব্দ বেড়েছে, এমনকি তার অনেক সমর্থকও ইরানে সামরিক অভিযান চালানোকে সমর্থন করছেন না। মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও স্বীকার করেছেন, যুক্তরাষ্ট্র ইসরাইলকে সহায়তা করতে সরাসরি সংঘাতে জড়িয়েছে। এই অভ্যন্তরীণ বিভাজন ও রাজনৈতিক চাপ যুদ্ধের প্রক্রিয়াকে আরও জটিল করছে।

ইরানও নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করেছে। দেশটির সংবাদ সংস্থা তাসনিমে খাতাম আল-আম্বিয়া কেন্দ্রীয় সদর দফতের ডেপুটি কমান্ডার জেনারেল কিওমারস হায়দারি বলেন, ‘এই যুদ্ধ কতদিন চলবে তা গুরুত্বপূর্ণ নয়। ইরান তার লক্ষ্য অর্জন এবং যুক্তরাষ্ট্রকে কঠোর আঘাত না দেয়ার আগ পর্যন্ত যুদ্ধ ত্যাগ করবে না।’ ইরানের এই অবস্থান, যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘমেয়াদি যুদ্ধ পরিকল্পনার সঙ্গে মিলে গিয়ে মধ্যপ্রাচ্যে ক্রমেই উত্তেজনা বৃদ্ধির আশঙ্কা তৈরি করছে।

বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, দীর্ঘমেয়াদি যুদ্ধের প্রস্তুতি এবং অঞ্চলজুড়ে সংঘাত বৃদ্ধির কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি, তেল, নিরাপত্তা ও বাণিজ্যিক পথে বড় ধরনের প্রভাব পড়তে পারে। মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলো ইতোমধ্যেই সংঘাতের ছায়ায় উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছে। বিভিন্ন দেশ শান্তি আলোচনা ও কূটনৈতিক সমাধানের আহ্বান জানিয়েছে। তবে যুক্তরাষ্ট্রের স্পষ্ট নির্দেশ অনুযায়ী, তারা সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সামরিক অভিযান চালিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা করছে, যা পুরো অঞ্চলের স্থিতিশীলতা ও নিরাপত্তার জন্য নতুন ধরনের চ্যালেঞ্জ তৈরি করছে।

যুদ্ধের এই প্রস্তুতি শুধু সামরিক পর্যায়ে সীমাবদ্ধ নয়; গোয়েন্দা ও কূটনৈতিক পর্যায়েও পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ডের অধীনে অতিরিক্ত কর্মকর্তা মোতায়ন, সামরিক সরঞ্জাম ও গোয়েন্দা কার্যক্রম সম্প্রসারণ, এই সব পদক্ষেপ ইরানের বিরুদ্ধে দীর্ঘমেয়াদি ও সুসংগঠিত পরিকল্পনার অংশ। বিশ্লেষকেরা মনে করছেন, এটি মার্কিন প্রশাসনের একটি রণকৌশল যা ইরানকে চাপে রাখতে এবং যুদ্ধে দীর্ঘমেয়াদী আধিপত্য নিশ্চিত করতে প্রণীত।

মধ্যপ্রাচ্যে এ ধরনের উত্তেজনা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের জন্য উদ্বেগের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। আন্তর্জাতিক সংস্থা, শান্তি আন্দোলন ও প্রতিবেশী দেশগুলো যুদ্ধ বন্ধের আহ্বান জানাচ্ছে। তবুও যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের যৌথ পদক্ষেপ, পেন্টাগনের প্রস্তুতি এবং ইরানের কঠোর প্রতিক্রিয়া ভবিষ্যতে পরিস্থিতিকে আরও জটিল ও অস্থির করে তুলতে পারে।

এদিকে, বিশ্লেষকরা মনে করছেন, সেপ্টেম্বর পর্যন্ত যুদ্ধ অব্যাহত রাখার পরিকল্পনা শুধু সামরিক নয়, বরং রাজনৈতিক ও কূটনৈতিকভাবে বিশ্বজুড়ে প্রভাব ফেলবে। আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানির দাম, অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা, নিরাপত্তা পরিস্থিতি ও মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনৈতিক ভারসাম্য এর প্রভাবের সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত হবে।

যুদ্ধের এই দীর্ঘমেয়াদি প্রস্তুতি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের নজর কাড়তে শুরু করেছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে বিশ্ব নেতারা শান্তি আলোচনা ও কূটনৈতিক প্রচেষ্টা জোরদার করছেন। তবে যুক্তরাষ্ট্রের স্পষ্ট সংকল্প এবং ইরানের প্রতিরোধ যুদ্ধের মেয়াদকে আরও দীর্ঘ করতে পারে, যা আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতার জন্য বড় চ্যালেঞ্জ তৈরি করছে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত