হাদি হত্যার ‘মাস্টারমাইন্ড’ বাপ্পির আয়-সম্পদে চরম অসঙ্গতি

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : শুক্রবার, ৬ মার্চ, ২০২৬
  • ৩৬ বার
হাদি হত্যার ‘মাস্টারমাইন্ড’ বাপ্পির আয়-সম্পদে চরম অসঙ্গতি

প্রকাশ: ৬ মার্চ ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

ঢাকার পল্লবী ও মিরপুর এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে ব্যবসা, চাঁদাবাজি ও রাজনৈতিক প্রভাব খেলে বিপুল অর্থ সঞ্চয়ের অভিযোগে যুবলীগ নেতা ও সাবেক ওয়ার্ড কাউন্সিলর মো. তাজুল ইসলাম চৌধুরী ওরফে বাপ্পির বিরুদ্ধে তদন্তে চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে এসেছে। সিআইডির ফাইন্যান্সিয়াল ক্রাইম ইউনিট হাদি হত্যার ‘মাস্টারমাইন্ড’ হিসেবে পরিচিত বাপ্পির আয়-ব্যয় এবং সম্পদের মধ্যে বিস্তর অসঙ্গতি পেয়েছে।

ঢাকার সিআইডি সূত্রে জানা গেছে, বাপ্পি ২০১৪ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত মোট ৩ কোটি ৮৩ লাখ ৬৫ হাজার ৩৫৫ টাকা আয়ের তথ্য দাখিল করেছেন। এ আয়ের উৎস হিসেবে তিনি পোশাক ব্যবসা, মাছ ব্যবসা এবং ইটভাটাকে উল্লেখ করেছেন। তবে এই সময় তার পারিবারিক ব্যয় ১ কোটি ১১ লাখ ৮৩ হাজার ২৭০ টাকা বলে দেখানো হলেও তার নামে থাকা স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদের মোট মূল্য প্রায় ৪ কোটি ২৭ লাখ ২২ হাজার ৪৭১ টাকা। অর্থাৎ ঘোষিত আয়ের সঙ্গে তার সম্পদের মিল নেই, যা প্রায় ১ কোটি ৫৫ লাখ টাকার অসঙ্গতির প্রমাণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।

অধিকাংশ সম্পদ তিনি বাপের দিক থেকে প্রাপ্ত বা ব্যবসার আয়ের বলে দাবি করলেও সিআইডির অনুসন্ধানে দেখা গেছে, বাগেরহাটের মোরেলগঞ্জে ‘মেসার্স চৌধুরী অ্যান্ড খান অটোব্রিকস’ নামের ইটভাটা নিষিদ্ধ এলাকায় স্থাপন করা হয়েছিল। পরিবেশ অধিদফতর ২০২৪ সালের ১৫ ডিসেম্বর কার্যক্রম বন্ধের নোটিশ জারি করলেও বাপ্পি ৪৮ লাখ ৪৮ হাজার টাকা আয়ের হিসাব দেখিয়েছেন। এছাড়া পল্লবী থানাধীন উত্তর সেনপাড়া এলাকায় জমি ক্রয়ের সময় দলিলে প্রকৃত মূল্য গোপন করার প্রমাণ পাওয়া গেছে। দলিলে ৫ লাখ ৬৫ হাজার টাকা দেখানো হলেও প্রকৃত মূল্য ছিল প্রায় ৫৩ লাখ ৬৫ হাজার টাকা।

এই তথ্যের ভিত্তিতে সিআইডি হাদি হত্যার মাস্টারমাইন্ড বাপ্পিসহ অজ্ঞাতনামা ছয়-সাতজনের বিরুদ্ধে মানিলন্ডারিং ও অর্থপাচারের মামলা করেছে। অনুসন্ধান চলাকালীন জানা গেছে, বাপ্পির বিভিন্ন হিসাবে লেনদেন হওয়া অর্থের পরিমাণ ৫৬ কোটি ৮৬ লাখ টাকার বেশি। বর্তমানে এসব হিসাবের মধ্যে স্থিতি প্রায় ৬ লাখ ৩৩ হাজার ৪৭১ টাকা আদালতের আদেশে জব্দ রয়েছে। এছাড়া বাপ্পির দুটি প্রতিষ্ঠানের ২০২৩ ও ২০২৪ সালের অডিট প্রতিবেদন ভুয়া বলে প্রাথমিক অনুসন্ধানে প্রমাণ পাওয়া গেছে।

তাজুল ইসলাম চৌধুরী দীর্ঘদিন ধরে পল্লবী ও মিরপুর এলাকায় ব্যবসা, ফুটপাতের অস্থায়ী বাজার, গার্মেন্টসের ঝুট কাপড় এবং ইন্টারনেট-ডিশ ব্যবসা নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি চাঁদাবাজি ও প্রতারণার মাধ্যমে অর্থ অর্জনের অভিযোগ রয়েছে। হাদি হত্যার মামলার তদন্তে পুলিশ এবং সিআইডি সূত্রে জানা গেছে, ভারতে বসে বাপ্পি হত্যার নির্দেশ দিয়েছেন। ২০২৩ সালের ১২ ডিসেম্বর ঢাকার পল্টন মডেল থানার বক্স কালভার্ট রোড এলাকায় ইনকিলাব মঞ্চের সদস্যসচিব শহীদ শরীফ ওসমান হাদি গুলি করে হত্যা করা হয়। তিনি সিঙ্গাপুরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১৮ ডিসেম্বর মারা যান।

হাদির হত্যার ঘটনায় পল্টন থানায় মামলা করা হলেও তদন্তে অগ্রগতি না হওয়ায় আদালত সিআইডিকে তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন। সিআইডির ফাইন্যান্সিয়াল ক্রাইম ইউনিট উচ্চমাত্রার গুরুত্ব দিয়ে এই মামলার তদন্ত করছে। অনুসন্ধানের প্রতিবেদন দাখিলের সময় এখন ষষ্ঠবার পিছিয়েছে।

এই মামলায় বাপ্পির সম্পদ ও আয়-ব্যয়ের অসঙ্গতির বিষয়টি দেশে অর্থপাচার, রাজনৈতিক প্রভাব ও হত্যা ঘটনায় গভীর আলোচনার জন্ম দিয়েছে। তদন্তের মাধ্যমে অস্বাভাবিক সম্পদ অর্জনের উৎস, আর্থিক লেনদেনের স্বচ্ছতা এবং হত্যার নির্দেশদাতাদের চিহ্নিত করা হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত