ঈদ যাত্রায় আজ মিলছে ১৭ মার্চের ট্রেনের টিকিট

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : শনিবার, ৭ মার্চ, ২০২৬
  • ৬ বার
ঈদ যাত্রায় আজ মিলছে ১৭ মার্চের ট্রেনের টিকিট

প্রকাশ: ০৭ মার্চ  ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

পবিত্র Eid al-Fitr সামনে রেখে ঘরমুখো মানুষের যাত্রা নির্বিঘ্ন করতে অগ্রিম ট্রেনের টিকিট বিক্রি শুরু করেছে Bangladesh Railway। ঈদকে ঘিরে প্রতি বছরই দেশের বিভিন্ন প্রান্তে বাড়ি ফেরার জন্য মানুষের ভিড় বাড়ে। এই যাত্রা নির্বিঘ্ন করতে এবারও আগাম টিকিট বিক্রির বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। সেই ধারাবাহিকতায় শনিবার অগ্রিম টিকিট বিক্রির পঞ্চম দিনে যাত্রীরা পাচ্ছেন আগামী ১৭ মার্চের ট্রেনের টিকিট।

রেলওয়ে সূত্র জানিয়েছে, শনিবার সকাল ৮টা থেকে পশ্চিমাঞ্চলের ট্রেনগুলোর ১৭ মার্চের টিকিট বিক্রি শুরু হয়েছে। আর একই দিনের পূর্বাঞ্চলের ট্রেনগুলোর টিকিট বিক্রি শুরু হবে দুপুর ২টা থেকে। যাত্রীরা অনলাইনের মাধ্যমে নির্ধারিত সময়ে টিকিট সংগ্রহ করতে পারছেন।

রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ বলছে, ঈদকে কেন্দ্র করে বিপুলসংখ্যক মানুষ ট্রেনে ভ্রমণ করতে চান। ফলে টিকিট সংগ্রহের জন্য একসঙ্গে বিপুল সংখ্যক ব্যবহারকারী অনলাইনে প্রবেশ করলে সার্ভারে চাপ তৈরি হয়। সেই চাপ কমাতে অঞ্চলভেদে ভিন্ন সময়ে টিকিট বিক্রির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এতে একদিকে যেমন সার্ভারের ওপর চাপ কমবে, অন্যদিকে যাত্রীদের টিকিট পাওয়ার সুযোগও বাড়বে।

এবার ঈদ উপলক্ষে শতভাগ অগ্রিম টিকিট অনলাইনে বিক্রির সিদ্ধান্ত নিয়েছে রেলওয়ে। ফলে কাউন্টারে গিয়ে টিকিট সংগ্রহের সুযোগ থাকছে না। যাত্রীরা ঘরে বসেই মোবাইল বা কম্পিউটারের মাধ্যমে অনলাইনে টিকিট সংগ্রহ করতে পারছেন। রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ মনে করছে, এতে টিকিট বাণিজ্য বা অনিয়ম কমবে এবং যাত্রীরা আরও স্বচ্ছ ও সহজ প্রক্রিয়ায় টিকিট পাবেন।

রেলওয়ের তথ্য অনুযায়ী, ঈদের আগে ট্রেনের ১৩ মার্চের অগ্রিম টিকিট বিক্রি করা হয়েছে ৩ মার্চ। এরপর ১৪ মার্চের টিকিট বিক্রি হয়েছে ৪ মার্চ, ১৫ মার্চের টিকিট বিক্রি হয়েছে ৫ মার্চ এবং ১৬ মার্চের টিকিট বিক্রি হয়েছে ৬ মার্চ। সেই ধারাবাহিকতায় শনিবার বিক্রি হচ্ছে ১৭ মার্চের টিকিট।

আগামী দিনগুলোতেও একইভাবে অগ্রিম টিকিট বিক্রি চলবে। ৮ মার্চ বিক্রি করা হবে ১৮ মার্চের টিকিট এবং ৯ মার্চ বিক্রি করা হবে ১৯ মার্চের অগ্রিম টিকিট। ফলে যাত্রীরা নির্ধারিত সময় অনুযায়ী নিজেদের যাত্রার পরিকল্পনা করতে পারছেন।

ঈদের সময় রাজধানী ঢাকা থেকে দেশের বিভিন্ন জেলায় ট্রেনযোগে যাতায়াতের চাহিদা অত্যন্ত বেশি থাকে। বিশেষ করে উত্তরবঙ্গ, দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চল এবং পূর্বাঞ্চলের বিভিন্ন জেলায় যাত্রীদের চাপ বেড়ে যায়। ট্রেনে ভ্রমণ তুলনামূলক নিরাপদ ও স্বাচ্ছন্দ্যময় হওয়ায় অনেকেই এই পরিবহন মাধ্যমকে বেছে নেন।

প্রতিবছরই ঈদযাত্রাকে ঘিরে টিকিট সংগ্রহ করা নিয়ে নানা চ্যালেঞ্জ দেখা দেয়। অনেক সময় টিকিট পাওয়ার জন্য যাত্রীদের দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হয় কিংবা অনলাইনে টিকিট পাওয়ার প্রতিযোগিতা তৈরি হয়। তবে এবার প্রযুক্তিনির্ভর ব্যবস্থার মাধ্যমে সেই সমস্যাগুলো কমিয়ে আনার চেষ্টা করা হচ্ছে বলে জানিয়েছে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ।

রেলওয়ের কর্মকর্তারা বলছেন, অগ্রিম টিকিট বিক্রির এই ব্যবস্থার ফলে যাত্রীরা আগেই তাদের ভ্রমণ পরিকল্পনা করতে পারছেন। এতে ঈদের সময় স্টেশন এলাকায় অতিরিক্ত ভিড়ও কিছুটা কমবে বলে আশা করা হচ্ছে।

ঈদ শেষে কর্মস্থলে ফিরে আসার জন্যও আলাদা করে অগ্রিম টিকিট বিক্রির ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। রেলওয়ে সূত্র জানিয়েছে, ঈদের পর ফিরতি যাত্রার টিকিট বিক্রি শুরু হবে ১৩ মার্চ থেকে। ওই দিন পাওয়া যাবে ২৩ মার্চের অগ্রিম টিকিট।

এরপর ধারাবাহিকভাবে ১৪ মার্চ বিক্রি করা হবে ২৪ মার্চের টিকিট, ১৫ মার্চ বিক্রি করা হবে ২৫ মার্চের টিকিট, ১৬ মার্চ বিক্রি করা হবে ২৬ মার্চের টিকিট, ১৭ মার্চ বিক্রি করা হবে ২৭ মার্চের টিকিট, ১৮ মার্চ বিক্রি করা হবে ২৮ মার্চের টিকিট এবং ১৯ মার্চ বিক্রি করা হবে ২৯ মার্চের টিকিট।

রেলওয়ের কর্মকর্তারা মনে করছেন, ঈদের আগে ও পরে এই পরিকল্পিত টিকিট বিক্রি ব্যবস্থার ফলে যাত্রীদের যাতায়াত আরও সুশৃঙ্খল হবে। একই সঙ্গে টিকিট বাণিজ্য বা কালোবাজারি বন্ধ করতেও এটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

এদিকে যাত্রীরা বলছেন, অনলাইনে টিকিট কেনার ব্যবস্থা থাকায় অনেকের জন্য এটি সহজ হয়েছে। তবে টিকিট ছাড়ার সঙ্গে সঙ্গে অনেক সময় দ্রুত শেষ হয়ে যায়, ফলে অনেকেই কাঙ্ক্ষিত ট্রেনের টিকিট পান না। তাই অনেক যাত্রী আশা করছেন, ঈদ উপলক্ষে ট্রেনের সংখ্যা ও আসন সংখ্যা বাড়ানো হলে তারা আরও সহজে টিকিট পেতে পারেন।

পরিবহন বিশেষজ্ঞদের মতে, বাংলাদেশের মতো ঘনবসতিপূর্ণ দেশে ঈদকে কেন্দ্র করে বিপুল মানুষের যাতায়াত একটি বড় চ্যালেঞ্জ। ট্রেন, বাস ও লঞ্চ—সব ধরনের পরিবহন ব্যবস্থায় চাপ তৈরি হয়। এর মধ্যে ট্রেনের যাত্রা তুলনামূলক নিরাপদ হওয়ায় অনেকেই এটিকে অগ্রাধিকার দেন।

এই পরিস্থিতিতে পরিকল্পিতভাবে অগ্রিম টিকিট বিক্রি এবং প্রযুক্তিনির্ভর ব্যবস্থাপনা ঈদযাত্রা সহজ করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। বিশেষ করে অনলাইন টিকিটিং ব্যবস্থা যদি আরও উন্নত করা যায়, তাহলে যাত্রীদের ভোগান্তি কমানো সম্ভব হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করতে পরিবার-পরিজনের কাছে ফিরতে চাওয়া মানুষের কাছে ট্রেনের টিকিট এখন সবচেয়ে কাঙ্ক্ষিত বিষয়গুলোর একটি। তাই আজ যারা ১৭ মার্চের টিকিট সংগ্রহ করতে পারছেন, তাদের জন্য ঈদের যাত্রা পরিকল্পনার একটি বড় ধাপ সম্পন্ন হচ্ছে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত