প্রকাশ: ০৭ মার্চ ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।
হিমালয়কন্যা নেপাল দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক উত্থান-পতনের পর এবার নতুন রাজনৈতিক অধ্যায়ের দিকে এগোচ্ছে। দেশটিতে প্রাথমিক গণনা অনুযায়ী রাষ্ট্রীয় স্বতন্ত্র পার্টি (আরএসপি) প্রার্থীরা বড় ব্যবধানে এগিয়ে, যা প্রমাণ করছে, সাধারণ নির্বাচনে জনসমর্থন তরুণ প্রজন্মের নেতা বালেন্দ্র শাহের পক্ষে ঝুঁকেছে। প্রাথমিক ফলাফলে দেখা যাচ্ছে, সাতটি প্রদেশের প্রতিটিতেই আরএসপি প্রার্থীরা এগিয়ে। এ নির্বাচনে ১৬৫টি আসনের মধ্যে ১৩৫টির প্রাথমিক ফলাফলে আরএসপি প্রার্থী জয়ী একটিতে এবং ৯৬টি আসনে স্পষ্ট ব্যবধানে এগিয়ে আছে।
নেপালের সাবেক প্রধানমন্ত্রী কে পি শর্মা ওলি সরকারের পতনের পর দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে তরুণ নেতাদের উপস্থিতি দৃঢ়ভাবে লক্ষ্য করা গেছে। বিশেষ করে জেন-জির প্রজন্মের প্রতিনিধিত্বকারী আরএসপি তাদের সমর্থনের প্রমাণ দিয়েছেন। আরএসপি’র জয়গানের মুখ বালেন্দ্র শাহ, যিনি র্যাপার থেকে রাজনৈতিক নেতা হয়ে ওঠেছেন। ৩৫ বছর বয়সী বালেন্দ্র বর্তমানে নেপালের রাজধানী কাঠমান্ডুর ১৫তম মেয়র হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন এবং তিনি এই মেয়র পদের জন্য নির্বাচিত প্রথম স্বতন্ত্র প্রার্থী।
বালেন্দ্র শাহ নির্বাচনী প্রচারের সময় থেকেই নেপালের পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী হওয়ার দৌড়ে এগিয়ে ছিলেন। দেশটির রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, গণআন্দোলনের পর নতুন ভোটে তরুণ ও প্রগতিশীল নেতৃত্বের প্রতি জনগণের আকর্ষণ লক্ষ্যযোগ্য। প্রাথমিক ভোটের ফলাফলে ঝাপা জেলার ঝাপা-৫ আসনে সাবেক প্রধানমন্ত্রী ওলির বিরুদ্ধে বালেন্দ্র বিপুল ভোটে এগিয়ে রয়েছেন। চিতওয়ান-২ এবং চিতওয়ান-৩ আসনে আরএসপি প্রার্থীরাও উল্লেখযোগ্য ব্যবধানে এগিয়ে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করেন, বালেন্দ্রের এই জয় কেবল নির্বাচনের ফল নয়, এটি দেশের যুবসমাজের রাজনৈতিক অংশগ্রহণ ও দুর্নীতিবিরোধী আন্দোলনের প্রতি সমর্থনের প্রতিফলন। সামাজিক মাধ্যমে তার শক্তিশালী উপস্থিতি তাকে সাধারণ জনগণের কাছে জনপ্রিয় করে তুলেছে। ইনস্টাগ্রামে তার অনুসারীর সংখ্যা আট লাখেরও বেশি এবং এক্সে প্রায় চার লাখ। সামাজিক মাধ্যমে এই জনপ্রিয়তা কাজে লাগিয়ে তিনি নিয়মিত দুর্নীতিবিরোধী ও সামাজিক অবিচারবিরোধী আন্দোলনের জন্য কণ্ঠ তুলেছেন।
বালেন্দ্রের রাজনৈতিক জীবনও বিশেষভাবে নজরকাড়া। পেশায় তিনি ইঞ্জিনিয়ার হলেও র্যাপার হিসেবেও পরিচিত। ২০২০ সালে প্রকাশিত তার ‘বলিদান’ গানটি দুর্নীতি, সামাজিক অবিচার এবং শাসনব্যবস্থার ব্যর্থতা নিয়ে সমালোচনামূলক। গানটি ইউটিউবে এক কোটি সাতাশ লাখেরও বেশি বার দেখা হয়েছে, যা প্রমাণ করে তরুণ প্রজন্মের মধ্যে তার প্রভাব কতটা ব্যাপক।
নেপাল সাধারণ নির্বাচনে প্রাথমিক ফলাফলে দেখা যাচ্ছে, দেশটির সবচেয়ে পুরোনো দল নেপালি কংগ্রেস একটিতে জয়ী এবং ১১টি আসনে এগিয়ে, সাবেক প্রধানমন্ত্রী কেপি শর্মা ওলির দল কমিউনিস্ট পার্টি অব নেপাল (ইউএমএল) ১০টি আসনে এগিয়ে এবং নেপালি কমিউনিস্ট পার্টি ৯টি আসনে। বাকি আসনগুলোতে অন্যান্য দল ও স্বতন্ত্র প্রার্থীরা এগিয়ে। তবে সবার চোখ এখন বালেন্দ্র শাহের দিকে, যিনি তরুণ প্রজন্মের প্রতিনিধি হিসেবে দেশের রাজনৈতিক দিকনির্দেশনা পরিবর্তনের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।
নেপালের সাধারণ নির্বাচন একটি ঐতিহাসিক মুহূর্ত হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। প্রাথমিক ভোটের ফলাফলে পুরোনো রাজনৈতিক শক্তিগুলোর পতন ও নতুন, তরুণ প্রজন্মের উত্থান স্পষ্ট। রাজনীতিবিদ এবং বিশ্লেষকরা মনে করছেন, বালেন্দ্র শাহের নেতৃত্বে আরএসপি দেশের রাজনৈতিক মানচিত্রে নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে। তরুণ ভোটারদের সক্রিয় অংশগ্রহণ, সামাজিক মাধ্যমে সমর্থন এবং দুর্নীতিবিরোধী বার্তা তাকে ব্যাপক জনপ্রিয়তা এনে দিয়েছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা আশা করছেন, এই নির্বাচনের ফলাফল নেপালের দীর্ঘদিন ধরে স্থিতিশীলতা হারানো রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটকে পুনর্গঠন করবে। তরুণ নেতা বালেন্দ্র শাহের নেতৃত্বে দেশের রাজনীতি আরও স্বচ্ছ, প্রগতিশীল ও জনমুখী হয়ে উঠবে।
নেপালের সাধারণ নির্বাচনে এই প্রাথমিক ফলাফল যেমন বালেন্দ্রের জন্য ইতিবাচক, তেমনই এটি দেশের যুবসমাজের রাজনৈতিক চেতনার দৃঢ়তাও প্রতিফলিত করছে। দেশের প্রগতিশীল ও দুর্নীতিবিরোধী দিকগুলোকে সমর্থন করার প্রতিশ্রুতি নতুন রাজনৈতিক বাস্তবতায় শক্তভাবে প্রতিফলিত হচ্ছে।