মধ্যপ্রাচ্য রুটে ধীরে ধীরে ফিরছে ফ্লাইট চলাচল

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : শনিবার, ৭ মার্চ, ২০২৬
  • ৭ বার
মধ্যপ্রাচ্য রুটে ধীরে ধীরে ফিরছে ফ্লাইট চলাচল

প্রকাশ: ০৭ মার্চ ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

মধ্যপ্রাচ্যের আকাশপথে সাম্প্রতিক নিরাপত্তা পরিস্থিতির কারণে আন্তর্জাতিক বিমান চলাচলে বড় ধরনের অস্থিরতা তৈরি হলেও ধীরে ধীরে কিছু রুটে ফ্লাইট চলাচল আবারও শুরু হচ্ছে। পরিস্থিতি পুরোপুরি স্বাভাবিক না হলেও সীমিত পরিসরে মধ্যপ্রাচ্যগামী কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ রুটে ফ্লাইট পরিচালনা অব্যাহত রয়েছে। বিশেষ করে ওমানের মাসকাট ও সৌদি আরবগামী ফ্লাইটগুলো নিয়মিত পরিচালিত হচ্ছে, যা বিদেশগামী যাত্রীদের জন্য কিছুটা স্বস্তির খবর নিয়ে এসেছে।

বিমানবন্দর সূত্রে জানা গেছে, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি মধ্যপ্রাচ্যের কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ দেশ হঠাৎ করে তাদের আকাশসীমা বন্ধ ঘোষণা করলে আন্তর্জাতিক বিমান চলাচলে বড় ধরনের প্রভাব পড়ে। ওই দিন থেকে ইরান, ইরাক, কুয়েত, সংযুক্ত আরব আমিরাত, বাহরাইন, কাতার এবং জর্ডান নিরাপত্তা পরিস্থিতির কারণে আকাশসীমা সাময়িকভাবে বন্ধ করে দেয়। এর ফলে ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে মধ্যপ্রাচ্যগামী অসংখ্য ফ্লাইট বাতিল করতে বাধ্য হয় বিভিন্ন আন্তর্জাতিক এয়ারলাইন্স।

বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে ৭ মার্চ পর্যন্ত সময়কালে বিপুলসংখ্যক ফ্লাইট বাতিল হয়েছে। শুধু ২৮ ফেব্রুয়ারিতেই বাতিল হয় ২৩টি ফ্লাইট। এরপর ১ মার্চ বাতিল হয় ৪০টি, ২ মার্চ ৪৬টি, ৩ মার্চ ৩৯টি, ৪ মার্চ ২৮টি, ৫ মার্চ ৩৬টি এবং ৬ মার্চ ৩৪টি ফ্লাইট। সর্বশেষ ৭ মার্চ আরও ২০টি ফ্লাইট বাতিলের খবর পাওয়া গেছে। সব মিলিয়ে এই সময়ের মধ্যে বাতিল হওয়া ফ্লাইটের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে মোট ২৬৮টি।

৭ মার্চ যেসব ফ্লাইট বাতিল হয়েছে, সেগুলোর মধ্যে রয়েছে Kuwait Airways–এর দুটি, Jazeera Airways–এর দুটি, Air Arabia–এর ছয়টি, Gulf Air–এর দুটি, Qatar Airways–এর চারটি এবং Emirates–এর চারটি ফ্লাইট। এসব ফ্লাইট বাতিল হওয়ায় বিপাকে পড়েছেন হাজারো যাত্রী, বিশেষ করে কর্মসূত্রে মধ্যপ্রাচ্যে যাওয়া বাংলাদেশি শ্রমিক ও প্রবাসীরা।

তবে সংকটের মধ্যেও সম্পূর্ণভাবে থেমে যায়নি বিমান চলাচল। বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে ৭ মার্চ পর্যন্ত সময়ের মধ্যে ওমানের মাসকাট, সৌদি আরব এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতগামী মোট ২১৪টি ফ্লাইট পরিচালিত হয়েছে অথবা নির্ধারিত সময় অনুযায়ী পরিচালিত হওয়ার কথা রয়েছে।

পরিসংখ্যান অনুযায়ী দেখা গেছে, ২৮ ফেব্রুয়ারি পরিচালিত হয়েছে ছয়টি ফ্লাইট। এরপর ১ মার্চ ২০টি, ২ মার্চ ১৮টি, ৩ মার্চ ২২টি, ৪ মার্চ ৩৫টি, ৫ মার্চ ৩৮টি, ৬ মার্চ ৩৪টি এবং ৭ মার্চ নির্ধারিত রয়েছে ৪১টি ফ্লাইট। এ তথ্য থেকে বোঝা যাচ্ছে, পরিস্থিতি ধীরে ধীরে কিছুটা স্থিতিশীল হওয়ার লক্ষণ দেখা যাচ্ছে এবং বিমান চলাচল আবার স্বাভাবিক পথে ফেরানোর চেষ্টা চলছে।

বিমানবন্দর সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, মধ্যপ্রাচ্যের আকাশপথ পুরোপুরি নিরাপদ না হওয়ায় অনেক রুট এখনো সীমিত পর্যায়ে চালু রয়েছে। তবে কূটনৈতিক ও আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের মাধ্যমে ধাপে ধাপে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করার চেষ্টা চলছে। বিশেষ করে ওমান ও সৌদি আরবগামী ফ্লাইটগুলো বর্তমানে তুলনামূলকভাবে নিয়মিত চলছে। সংযুক্ত আরব আমিরাতের কিছু রুটেও ধীরে ধীরে ফ্লাইট চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।

এই পরিস্থিতির প্রভাব সবচেয়ে বেশি পড়েছে মধ্যপ্রাচ্যে কর্মরত বাংলাদেশি প্রবাসীদের ওপর। অনেক যাত্রী নির্ধারিত সময়ের ফ্লাইট বাতিল হওয়ায় দীর্ঘ সময় বিমানবন্দরে অপেক্ষা করতে বাধ্য হয়েছেন। কেউ কেউ আবার নতুন করে টিকিট কাটতে গিয়ে অতিরিক্ত খরচের মুখে পড়েছেন। ট্রাভেল এজেন্সিগুলোও বলছে, ফ্লাইট বাতিল ও সময়সূচির পরিবর্তনের কারণে যাত্রীদের মধ্যে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।

বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, যাত্রীদের সুবিধার্থে নিয়মিত আপডেট দেওয়া হচ্ছে এবং সংশ্লিষ্ট এয়ারলাইন্সগুলোর সঙ্গে সমন্বয় করে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। পাশাপাশি যাত্রীদের ভ্রমণের আগে অবশ্যই নিজ নিজ এয়ারলাইন্সের সঙ্গে যোগাযোগ করে সর্বশেষ ফ্লাইট তথ্য জেনে নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, মধ্যপ্রাচ্য অঞ্চল আন্তর্জাতিক বিমান চলাচলের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ করিডর। এ অঞ্চলের আকাশপথে কোনো ধরনের নিরাপত্তা সংকট তৈরি হলে তা দ্রুতই বৈশ্বিক বিমান চলাচলে প্রভাব ফেলে। বাংলাদেশের ক্ষেত্রেও এর প্রভাব ব্যাপক, কারণ প্রতি বছর লাখ লাখ শ্রমিক ও যাত্রী মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে যাতায়াত করেন।

বর্তমান পরিস্থিতিতে সীমিত আকারে হলেও ফ্লাইট চলাচল শুরু হওয়া যাত্রীদের জন্য কিছুটা স্বস্তির খবর। তবে পুরোপুরি স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরতে আরও সময় লাগতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। আন্তর্জাতিক পরিস্থিতি স্থিতিশীল হলে মধ্যপ্রাচ্যগামী সব ফ্লাইট আবারও স্বাভাবিকভাবে চালু হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

এদিকে বিমান চলাচল সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে ধাপে ধাপে ফ্লাইট সংখ্যা বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে। নিরাপত্তা নিশ্চিত করেই বিমান চলাচল পুরোপুরি চালু করা হবে। ততদিন পর্যন্ত যাত্রীদের ধৈর্য ধরে ভ্রমণ পরিকল্পনা করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত