প্রকাশ: ০৮ মার্চ ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।
যুক্তরাষ্ট্রের মেজর লিগ সকারে (এমএলএস) খেলা লিওনেল মেসি শুধু খেলার দিক থেকে নয়, আর্থিক দিক থেকেও নতুন দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। ইন্টার মায়ামির হয়ে খেলে আর্জেন্টাইন এই মহাতারকা বছরে প্রায় ৮০ মিলিয়ন ডলার আয় করছেন, যার বড় অংশ আসে ক্লাবের মালিকানার অংশীদারিত্ব এবং বাজার মূল্য বৃদ্ধি থেকে।
২০২৩ সালে মায়ামিতে যোগ দেওয়ার পর মেসি শুধু মাঠে পারফরম্যান্সের দিক থেকে নয়, অর্থনৈতিকভাবে এমএলএসের চিত্র বদলে দিয়েছেন। মেজর লিগ সকার প্লেয়ার্স অ্যাসোসিয়েশনের সাম্প্রতিক তথ্য অনুযায়ী, মেসির মূল বেতন প্রায় ১২ মিলিয়ন ডলার। বিভিন্ন বোনাস এবং গ্যারান্টিযুক্ত পারিশ্রমিক মিলিয়ে তার মোট বার্ষিক আয় দাঁড়ায় প্রায় ২০.৪৫ মিলিয়ন ডলার, যা এমএলএসের সর্বোচ্চ। দ্বিতীয় স্থানে থাকা লস অ্যাঞ্জেলস এফসির সন হিউং মিন বছরে প্রায় ১১.১৫ মিলিয়ন ডলার উপার্জন করেন।
মেসির চুক্তির সবচেয়ে বড় আকর্ষণ হলো ক্লাবের মালিকানার অংশীদারিত্ব। ইন্টার মায়ামিতে যোগ দেওয়ার সময়ই তাকে ক্লাবের একটি অংশের মালিক হওয়ার সুযোগ দেওয়া হয়। ২০২৩ সালে যখন মেসি মায়ামিতে আসেন, তখন ক্লাবটির বাজারমূল্য ছিল প্রায় ৫৮৫ মিলিয়ন ডলার। বর্তমানে সেটি বেড়ে দাঁড়িয়েছে প্রায় ১.৩৫ বিলিয়ন ডলার। হিসাব অনুযায়ী, ক্লাবের মূল্যবৃদ্ধির কারণে মেসির শেয়ার থেকে বছরে প্রায় ৬০ মিলিয়ন ডলারের সমপরিমাণ আয় হচ্ছে। ফলে তার মোট বার্ষিক আয় প্রায় ৮০ মিলিয়ন ডলারের কাছাকাছি পৌঁছেছে।
নতুন চুক্তি অনুযায়ী মেসি অন্তত ২০২৮-২৯ মৌসুম পর্যন্ত ইন্টার মায়ামিতে থাকবেন। এই সময়ের মধ্যে ক্লাব তাদের নতুন স্টেডিয়াম মায়ামি ফ্রিডম পার্কে খেলার প্রস্তুতি নেবে। মেসি নিজেও নতুন স্টেডিয়ামের উদ্বোধনী মৌসুমে দলের অংশ নিতে চেয়েই চুক্তি বৃদ্ধি করেছেন।
চুক্তির আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো, মেসি খেলা থেকে অবসর নেয়ার পর তার মালিকানার অংশ পুরোপুরি কার্যকর হবে। তখন তিনি ক্লাবটির অন্যতম মালিক হিসেবে যুক্ত হবেন বর্তমান মালিক ডেভিড ব্যাকহাম, জর্জ মাস ও জোসে মাসের সঙ্গে। এতে শুধু খেলার সময়ই নয়, অবসরের পরও মেসি ক্লাবের অর্থনৈতিক পরিচালনায় সরাসরি অংশগ্রহণ করবেন।
এছাড়া মেসি এখন শুধু একজন ফুটবলার নন, বরং যুক্তরাষ্ট্রের ক্রীড়া অর্থনীতির বড় স্তম্ভ হিসেবে পরিণত হয়েছেন। মাঠে গোল করার পাশাপাশি তিনি ব্যবসায়িক দিক থেকেও নিজের সাম্রাজ্য তৈরি করছেন। তার পারফরম্যান্স, ক্লাব মালিকানা ও বাজার মূল্য বৃদ্ধির সংমিশ্রণে মেসি এমএলএসের নতুন ধারা স্থাপন করেছেন।
এমএলএসে মেসির উদাহরণ দেখাচ্ছে যে খেলোয়াড়রা শুধু মাঠেই নয়, ব্যবসায়িক সিদ্ধান্ত এবং মালিকানা অংশীদারিত্বের মাধ্যমে অর্থনৈতিকভাবে কতটা শক্তিশালী হতে পারে। এই ধারা নতুন খেলোয়াড়দের জন্যও দিক নির্দেশনা হিসেবে কাজ করবে। মেসি একদিকে গোলের মাস্টার, অন্যদিকে ব্যবসার দিক থেকে নতুন ধারা গঠনের অদম্য শক্তি হিসেবে ফুটবল বিশ্বে নিজের অবস্থান নিশ্চিত করেছেন।