তারেক রহমান ও বাবরের খালাসের রায়ের বিরুদ্ধে দায়ের করা আপিলের উপর শুনানি বর্তমানে আদালতে চলমান

একটি বাংলাদেশ ডেস্ক
  • আপডেট টাইম : বৃহস্পতিবার, ১৭ জুলাই, ২০২৫
  • ৩২ বার
তারেক রহমান ও বাবরের খালাসের রায়ের বিরুদ্ধে দায়ের করা আপিলের উপর শুনানি বর্তমানে আদালতে চলমান।

প্রকাশ: ১৭ জুলাই’ ২০২৫ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন

২০০৪ সালের ২১ আগস্ট আওয়ামী লীগের সন্ত্রাসবিরোধী সমাবেশে নারকীয় গ্রেনেড হামলার মামলায় যাবজ্জীবন কারাদণ্ডপ্রাপ্ত বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান এবং মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবরসহ সব আসামির খালাসের রায়ের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষের আপিল শুনানি চলছে। বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ৯টায় এই শুনানি শুরু হয় সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের একটি ছয় সদস্যের বেঞ্চে, যেটির নেতৃত্বে রয়েছেন প্রধান বিচারপতি ড. সৈয়দ রেফাত আহমেদ।

রাষ্ট্রপক্ষে পেপারবুক থেকে পাঠ করছেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার আবদুল্লাহ আল মাহমুদ মাসুদ। অন্যদিকে আসামিপক্ষের পক্ষে রয়েছেন বিএনপির জ্যেষ্ঠ আইনজীবী জয়নুল আবেদীন, ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকন, ব্যারিস্টার কায়সার কামাল, রুহুল কুদ্দুস কাজলসহ একাধিক প্রবীণ আইনজীবী।

প্রসঙ্গত, এর আগে ১৫ জুলাই আপিল বিভাগের একটি আদেশে এই শুনানির দিন ধার্য করা হয়। তারও আগে, ১ জুন আপিল বিভাগের এক আদেশে রাষ্ট্রপক্ষকে উচ্চ আদালতে আপিল করার অনুমতি প্রদান করা হয়। এই আদেশের মাধ্যমে হাইকোর্টের দেওয়া পূর্ববর্তী রায় চ্যালেঞ্জ করার সুযোগ পায় রাষ্ট্রপক্ষ।

হাইকোর্ট গত ১২ জানুয়ারি আলোচিত এই মামলায় যাবজ্জীবন এবং মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত মোট ৩৮ জন আসামিকে খালাস দেয়। বিচারপতি এ কে এম আসাদুজ্জামান ও বিচারপতি সৈয়দ এনায়েত হোসেনের হাইকোর্ট বেঞ্চ রায়ে বলেন, মামলাটি একটি অবৈধ বিচার প্রক্রিয়ার অংশ ছিল এবং এর চার্জশিট আইনসিদ্ধ নয়। তারা আরও বলেন, এমন একটি অভিযোগপত্রের ভিত্তিতে বিচার চলা এবং সাজা দেওয়া আইনগত দিক থেকে গ্রহণযোগ্য নয়।

উল্লেখ্য, ২০১৮ সালের ১০ অক্টোবর এই মামলার রায় দিয়েছিল ঢাকার দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল-১। সেই রায়ে লুৎফুজ্জামান বাবর, আব্দুস সালাম পিন্টুসহ ১৯ জনকে মৃত্যুদণ্ড এবং তারেক রহমান, হারিছ চৌধুরী, কায়কোবাদসহ আরও ১৯ জনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়। পরবর্তীতে মামলার ডেথ রেফারেন্স ও আপিল হাইকোর্টে গেলে দীর্ঘ শুনানি শেষে ২০২৪ সালের শুরুতে বিচারিক আদালতের সেই রায় বাতিল করে হাইকোর্ট খালাস প্রদান করে।

২১ আগস্টের ঘটনায় নিহত হন আওয়ামী লীগের মহিলা বিষয়ক সম্পাদক আইভি রহমানসহ ২৪ জন। আহত হন দলের শীর্ষ নেতৃত্বের অনেকে, যাদের মধ্যে ছিলেন বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাও। অনেকে এখনো শরীরে গ্রেনেডের স্প্লিন্টার নিয়ে বেঁচে আছেন, কেউ কেউ চিরতরে পঙ্গুত্ব বরণ করেছেন।

নিম্ন আদালতের দেওয়া ফাঁসির দণ্ড পাওয়া ব্যক্তিদের তালিকায় রয়েছেন লুৎফুজ্জামান বাবর, আব্দুস সালাম পিন্টু, মেজর জেনারেল (অব.) রেজ্জাকুল হায়দার চৌধুরী, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) আবদুর রহিম, হানিফ পরিবহনের মালিক মো. হানিফ এবং একাধিক জঙ্গি সংগঠনের সক্রিয় নেতারা।

এছাড়া যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্তদের মধ্যে রয়েছেন তারেক রহমান, হারিছ চৌধুরী, কায়কোবাদসহ আরও বেশ কিছু ব্যক্তি—যাদের অধিকাংশই বর্তমানে পলাতক। উল্লেখ্য, তারেক রহমান ও হারিছ চৌধুরী বর্তমানে দেশের বাইরে অবস্থান করছেন এবং দীর্ঘদিন ধরেই ফেরার।

রাষ্ট্রপক্ষের এই আপিল শুনানিকে কেন্দ্র করে আদালতপাড়ায় যেমন উত্তেজনা বিরাজ করছে, তেমনি রাজনৈতিক অঙ্গনেও এর প্রভাব পড়েছে। ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগ ও ভুক্তভোগী পরিবারগুলো বারবার এই মামলার নিরপেক্ষ ও কঠোর বিচার দাবি করে আসছে। অন্যদিকে বিএনপি নেতারা হাইকোর্টের রায়কে তাদের নির্দোষ প্রমাণ হিসেবে তুলে ধরছেন।

আপাতত আপিল বিভাগের এই শুনানির মাধ্যমে স্পষ্ট হয়ে উঠবে, দেশের ইতিহাসের অন্যতম ভয়াবহ রাজনৈতিক সহিংসতার বিচারিক প্রক্রিয়া কোন দিকে গড়ায়। রাষ্ট্রপক্ষের জোরালো অবস্থান এবং আসামিপক্ষের আইনি কৌশলের মধ্যে এখন অপেক্ষা শুধু উচ্চ আদালতের চূড়ান্ত রায়ের।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত