প্রকাশ: ১০ মার্চ ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।
ইরাকের উত্তরাঞ্চলে সীমান্ত নিরাপত্তা জোরদার করতে নতুন করে অতিরিক্ত সেনা মোতায়েন করেছে বাগদাদ। বিশেষত ইরান-ইরাক সীমান্তের পাহাড়ি অঞ্চলে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে, যেখানে দীর্ঘদিন ধরে দুই দেশের মধ্যে ইরানি কুর্দি গোষ্ঠী সীমান্ত অতিক্রম করে যাতায়াত ও বিভিন্ন কার্যক্রম চালিয়ে আসছে। কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার এক প্রতিবেদনে এমন তথ্য জানা গেছে।
ইরাকের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এই নতুন সেনা মোতায়েনের মাধ্যমে একাধিক বার্তা পাঠানো হয়েছে। প্রথমত, ইরানকে পরিষ্কারভাবে জানানো হয়েছে যে, ইরাক তার ভূখণ্ড ব্যবহার করে কোনো ইরানবিরোধী গোষ্ঠীকে ইরানের বিরুদ্ধে অভিযান চালাতে দেবে না। দ্বিতীয়ত, ২০২৩ সালে ইরান ও ইরাকের মধ্যে স্বাক্ষরিত নিরাপত্তা চুক্তির প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন করা হবে। ওই চুক্তির অধীনে, উত্তর ইরাকে অবস্থানরত ইরানি কুর্দি বিচ্ছিন্নতাবাদী গোষ্ঠীগুলোর কার্যক্রম কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করার অঙ্গীকার ছিল।
এই পদক্ষেপ কেবল ইরানকে বার্তা দেয়নি, বরং ইরাকি কর্তৃপক্ষ একটি সতর্ক সংকেতও পাঠিয়েছে সংশ্লিষ্ট ইরানি কুর্দি সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর প্রতি। সীমান্তে অতিরিক্ত নিরাপত্তা বাহিনী মোতায়েনের ফলে তাদের জন্য সীমান্ত অতিক্রম করে ইরানে প্রবেশ করা বা সেখানে কোনো ধরনের তৎপরতা চালানো অনেক কঠিন হয়ে পড়বে। এতে কুর্দি গোষ্ঠীগুলোর সীমান্ত অতিক্রম ও নিরাপত্তা হুমকির সম্ভাবনা কমেছে।
ইরাকের এই পদক্ষেপ চলমান আঞ্চলিক উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে নেওয়া হয়েছে। বিশেষত উত্তর ইরাকের কুর্দিস্তান অঞ্চলে উত্তেজনা বৃদ্ধি পাচ্ছে। তবে বাগদাদ সরকার এবং স্থানীয় কর্তৃপক্ষ দু’পক্ষই চেষ্টা করছে যেন এই সীমান্ত এলাকা নতুন কোনো সংঘাতের ফ্রন্টলাইনে পরিণত না হয়। নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে যাতে সীমান্তের উপর তাদের নিয়ন্ত্রণ এবং নজরদারি শক্তিশালী হয়, পাশাপাশি দুই দেশের মধ্যে স্থিতিশীলতা বজায় থাকে।
সীমান্তে অতিরিক্ত সেনা মোতায়েনের ফলে স্থানীয় জনজীবনেও প্রভাব পড়েছে। সীমান্তবর্তী গ্রাম ও পাহাড়ি এলাকার মানুষ এখন সেনা এবং নিরাপত্তা চেকপোস্টের উপস্থিতি লক্ষ্য করছেন। যদিও এটি জনজীবনে কিছুটা অস্বস্তি সৃষ্টি করেছে, তবে অনেকেই মনে করছেন এটি এলাকা নিরাপদ রাখতে কার্যকর পদক্ষেপ। সীমান্ত এলাকায় যানবাহন ও মানুষজনের চলাচল এখন আরও নিয়মিতভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।
ইরাকের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, সীমান্তে সেনা মোতায়েন শুধু নিরাপত্তা জোরদারের জন্য নয়, এটি রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক বার্তাও বহন করে। ইরানকে বোঝানো হচ্ছে যে, দুই দেশের মধ্যে সুনির্দিষ্ট সীমান্ত চুক্তি অনুযায়ী কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণ করা হবে। একই সঙ্গে ইরাকি কুর্দিস্তান অঞ্চলের কুর্দি বিচ্ছিন্নতাবাদী গোষ্ঠীগুলোর প্রতি সতর্কবার্তা প্রদান করা হচ্ছে যাতে তারা সীমান্ত অতিক্রম বা ইরানবিরোধী কার্যক্রমে জড়িয়ে না পড়ে।
আঞ্চলিক বিশ্লেষকরা বলছেন, এই পদক্ষেপ ইরাকের জন্য নিরাপত্তা ও রাজনৈতিক কৌশলের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। ইরানের সঙ্গে সীমান্ত এলাকায় সুসম্পর্ক বজায় রাখা এবং কুর্দি গোষ্ঠীগুলোর কর্মকাণ্ড সীমিত করা বাগদাদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এছাড়া, সীমান্ত নিরাপত্তা জোরদার করার মাধ্যমে দুই দেশের মধ্যে আঞ্চলিক উত্তেজনা নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব হবে।
আঞ্চলিক বিশ্লেষকরা আরও উল্লেখ করছেন, ইরানের সঙ্গে সীমান্ত এলাকায় সুষ্ঠু নিয়ন্ত্রণ না থাকলে অঞ্চলটি দ্রুত অস্থির হয়ে যেতে পারে। সীমান্তে অতিরিক্ত সেনা মোতায়েনের মাধ্যমে এই ঝুঁকি কমানো হচ্ছে। এর ফলে কুর্দি গোষ্ঠীগুলোর কার্যক্রম সীমিত হবে এবং ইরানের সঙ্গে সীমান্ত সংঘাতের সম্ভাবনা কমে যাবে।
উল্লেখ্য, ইরান-ইরাক সীমান্তের বেশিরভাগ এলাকা পাহাড়ি এবং দুর্গম। দীর্ঘদিন ধরে এই সীমান্তপথ কুর্দি গোষ্ঠীগুলো ব্যবহার করে তাদের যাতায়াত ও কার্যক্রমের জন্য। বাগদাদ সরকার অতিরিক্ত সেনা মোতায়েনের মাধ্যমে সীমান্তের উপরে নজরদারি শক্তিশালী করছে। এতে সীমান্ত অতিক্রম করা কঠিন হয়ে পড়েছে এবং সংশ্লিষ্ট গোষ্ঠীগুলোর কার্যক্রমে বাধা সৃষ্টি হচ্ছে।
বর্তমানে ইরাক সরকার এবং স্থানীয় কুর্দিস্তান কর্তৃপক্ষ সতর্কভাবে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে। তারা চেষ্টা করছে যেন উত্তেজনা নতুন সংঘাতের রূপ না নেয়। বাগদাদ সরকারের সেনা মোতায়েন এবং সীমান্তে নিরাপত্তা জোরদার করার উদ্যোগ দুই দেশের মধ্যে স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।
এই পদক্ষেপের মাধ্যমে বাগদাদ ইরানের প্রতি তার প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন করছে। এটি নিশ্চিত করছে যে, ইরাকের ভূখণ্ড ব্যবহার করে কোনো ইরানবিরোধী কার্যক্রম পরিচালনা হবে না। একই সঙ্গে সীমান্তে নিরাপত্তা জোরদার হওয়ায় সংশ্লিষ্ট কুর্দি গোষ্ঠীগুলো সীমান্ত অতিক্রমে কম জড়িত হবে।