সিরিয়ায় ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপের অভিযোগে উত্তেজনা

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : মঙ্গলবার, ১০ মার্চ, ২০২৬
  • ৬ বার
সিরিয়ায় হিজবুল্লাহ ক্ষেপণাস্ত্র হামলা

প্রকাশ: ১০ মার্চ ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান অস্থিরতার মধ্যেই নতুন করে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে সিরিয়া ও লেবানন সীমান্তে। সিরিয়া কর্তৃপক্ষ অভিযোগ করেছে, ইরান সমর্থিত লেবাননভিত্তিক শিয়া সংগঠন হিজবুল্লাহ লেবাননের ভেতর থেকে রাতভর সিরিয়ার দিকে ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে। এই হামলায় রাজধানী দামেস্কের পশ্চিমে অবস্থিত সেরঘায়া শহরের কাছাকাছি এলাকায় বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে বলে জানিয়েছে দেশটির রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম।

সিরিয়ার সরকারি সংবাদ সংস্থা সানার বরাতে জানা গেছে, মঙ্গলবার ভোরের দিকে লেবানন সীমান্ত ঘেঁষা অঞ্চল থেকে একাধিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করা হয়, যা দামেস্কের পশ্চিমাঞ্চলের পাহাড়ি এলাকায় গিয়ে আঘাত হানে। সিরিয়ার সামরিক কর্মকর্তাদের দাবি, হামলাটি সরাসরি সিরিয়ার সেনা অবস্থান লক্ষ্য করে চালানো হয়েছে।

সিরিয়ার সেনাবাহিনীর এক কর্মকর্তা রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমকে বলেন, সীমান্তের কাছে হিজবুল্লাহর অস্বাভাবিক তৎপরতা কয়েকদিন ধরেই নজরে আসছিল। গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে সিরিয়ার নিরাপত্তা বাহিনী ইতোমধ্যে সীমান্ত এলাকায় নজরদারি জোরদার করেছিল। তবে রাতের অন্ধকারে নিক্ষিপ্ত ক্ষেপণাস্ত্রের এই হামলা পরিস্থিতিকে নতুন করে উত্তেজনাপূর্ণ করে তুলেছে।

সিরিয়ার আরব সেনাবাহিনী এক বিবৃতিতে বলেছে, দেশের সার্বভৌমত্বের বিরুদ্ধে যেকোনো ধরনের হামলা বা আগ্রাসনের জবাব দিতে তারা প্রস্তুত। বিবৃতিতে স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে, সিরিয়ার ভূখণ্ডকে লক্ষ্য করে কোনো আক্রমণই সহ্য করা হবে না। একইসঙ্গে সীমান্ত এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে এবং সম্ভাব্য সব ধরনের হুমকি মোকাবিলায় প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।

মধ্যপ্রাচ্যের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক ও সামরিক পরিস্থিতি এই ঘটনাকে আরও জটিল করে তুলেছে। গত সপ্তাহে মার্কিন ও ইসরাইলি বাহিনীর যৌথ হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি নিহত হওয়ার পর অঞ্চলজুড়ে উত্তেজনা তীব্র হয়ে ওঠে। এই ঘটনার প্রতিশোধ নেওয়ার ঘোষণা দিয়ে হিজবুল্লাহ ইসরাইলের বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালায় বলে দাবি করা হয়।

বিশ্লেষকদের মতে, ওই ঘটনার পর থেকেই মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত নতুন মাত্রা পেয়েছে। হিজবুল্লাহ ও ইসরাইলের মধ্যে চলমান সংঘর্ষ ইতোমধ্যে লেবাননের বিভিন্ন এলাকায় ছড়িয়ে পড়েছে। পূর্ব লেবাননের সীমান্তবর্তী অঞ্চলে কয়েকদিন ধরে গোলাগুলি ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার ঘটনা ঘটছে।

ইসরাইলি বাহিনীও পাল্টা অভিযানে লেবাননের বিভিন্ন স্থানে বিমান হামলা চালিয়েছে বলে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে খবর প্রকাশিত হয়েছে। রাজধানী বৈরুতসহ দেশটির বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ শহরে বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে বলে স্থানীয় সূত্রগুলো জানিয়েছে।

লেবাননের রাজনৈতিক নেতৃত্ব এই পরিস্থিতি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। দেশটির প্রেসিডেন্ট জোসেফ আউন হিজবুল্লাহর কর্মকাণ্ডের সমালোচনা করে বলেছেন, এই ধরনের পদক্ষেপ লেবাননকে একটি বড় ধরনের সংঘাতের দিকে ঠেলে দিতে পারে। তিনি সতর্ক করে বলেন, দেশকে ধ্বংসের পথে ঠেলে দেওয়ার মতো কোনো কর্মকাণ্ড থেকে বিরত থাকা উচিত।

তবে হিজবুল্লাহর নেতৃত্ব বলছে, তারা নিজেদের অবস্থান থেকে সরে আসবে না। সংগঠনটির সংসদীয় দলের প্রধান বলেছেন, ইসরাইলি আগ্রাসনের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলা ছাড়া তাদের আর কোনো বিকল্প নেই। তার মতে, মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতে হিজবুল্লাহ নিজেদের অবস্থান রক্ষা এবং মিত্রদের সমর্থন করার দায়িত্ব থেকে সরে আসতে পারে না।

মধ্যপ্রাচ্যের এই অস্থির পরিস্থিতি আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও গভীর উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। বিভিন্ন দেশ ইতোমধ্যে সংঘাতের বিস্তার রোধে কূটনৈতিক প্রচেষ্টা চালাচ্ছে। বিশ্লেষকদের মতে, লেবানন, সিরিয়া এবং ইসরাইলকে ঘিরে চলমান সংঘর্ষ যদি আরও বিস্তৃত আকার ধারণ করে, তবে পুরো অঞ্চলই একটি বৃহত্তর যুদ্ধে জড়িয়ে পড়তে পারে।

সিরিয়া দীর্ঘদিন ধরেই অভ্যন্তরীণ সংঘাত ও আঞ্চলিক শক্তির প্রতিদ্বন্দ্বিতার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে। দেশটির গৃহযুদ্ধ এবং পরবর্তী সময়ের রাজনৈতিক সংকট মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনীতিকে জটিল করে তুলেছে। এমন পরিস্থিতিতে নতুন করে সীমান্তে উত্তেজনা সৃষ্টি হওয়ায় স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে উদ্বেগ বাড়ছে।

সীমান্তবর্তী এলাকাগুলোতে বসবাসকারী অনেক মানুষ ইতোমধ্যেই নিরাপত্তাহীনতার মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন। স্থানীয় বাসিন্দাদের কেউ কেউ জানিয়েছেন, রাতের বিস্ফোরণের শব্দে আতঙ্কিত হয়ে অনেক পরিবার ঘরবাড়ি ছেড়ে নিরাপদ স্থানে আশ্রয় নেওয়ার চেষ্টা করেছে।

আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই পরিস্থিতি দ্রুত শান্ত না হলে মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে সংঘাতের বিস্তার ঘটতে পারে। বিশেষ করে সিরিয়া, লেবানন এবং ইসরাইলকে ঘিরে যে সামরিক উত্তেজনা তৈরি হয়েছে, তা আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার জন্য বড় ধরনের হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে।

কূটনৈতিক মহলের মতে, বর্তমান পরিস্থিতিতে সংঘাত নিরসনের জন্য আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সক্রিয় ভূমিকা অত্যন্ত জরুরি। আলোচনার মাধ্যমে উত্তেজনা কমানোর উদ্যোগ না নেওয়া হলে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠতে পারে।

মধ্যপ্রাচ্যের এই নতুন উত্তেজনা শুধু আঞ্চলিক রাজনীতিকেই প্রভাবিত করছে না, বরং বৈশ্বিক নিরাপত্তা ও অর্থনীতির ওপরও সম্ভাব্য প্রভাব ফেলতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। তাই আন্তর্জাতিক মহল এখন পরিস্থিতির দিকে গভীর নজর রাখছে এবং সংঘাত যাতে আরও বিস্তৃত না হয় সে বিষয়ে বিভিন্ন কূটনৈতিক উদ্যোগ নেওয়ার কথা ভাবছে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত