হরমুজ প্রণালীতে হামলা, থাই জাহাজের ৩ ক্রু নিখোঁজ

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : বৃহস্পতিবার, ১২ মার্চ, ২০২৬
  • ৪ বার
থাই জাহাজ হামলা হরমুজ প্রণালী

প্রকাশ: ১২ মার্চ ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

হরমুজ প্রণালীতে এক ভয়াবহ সামুদ্রিক হামলার ঘটনা ঘটেছে, যেখানে থাইল্যান্ডের পতাকাবাহী মালবাহী জাহাজ মায়ুরি নারি লক্ষ্যবস্তু হয়েছে। প্রিশিয়াস শিপিং কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, হামলার পর জাহাজের তিনজন ক্রু নিখোঁজ রয়েছেন। তারা বর্তমানে জাহাজের ইঞ্জিন রুমে আটকা পড়ে থাকতে পারেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। হামলার কারণে জাহাজে অগ্নিকাণ্ডের সূত্রপাত হয়, যা দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে এবং জাহাজের গুরুত্বপূর্ণ অংশগুলোতে ক্ষতি করে।

ঘটনাস্থল ও হামলার পদ্ধতি নিয়ে বিস্তারিত জানাতে গিয়ে প্রিশিয়াস শিপিং জানিয়েছে, বুধবার ভারতের গুজরাট অভিমুখে যাত্রা করা জাহাজটি হঠাৎ একটি অজ্ঞাত প্রজেক্টাইল বা ক্ষেপণাস্ত্র সদৃশ বস্তুর আঘাতে আক্রান্ত হয়। আঘাতের পর জাহাজে আগুন ধরে যায় এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। পরবর্তীতে ওমানি নৌবাহিনীর তৎপর ও দ্রুত উদ্ধার অভিযানের মাধ্যমে জাহাজে থাকা ২০ জন নাবিককে নিরাপদে সরিয়ে নেওয়া সম্ভব হয়। তবে তিনজন ক্রু এখনও জাহাজে রয়েছেন এবং তাদের অবস্থার বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি।

হামলার দায় স্বীকার করেছে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস। তাদের বরাতে বলা হয়েছে, জাহাজটি পূর্বে দেওয়া সতর্কতা উপেক্ষা করেছে এবং সেই কারণেই এটি লক্ষ্যবস্তু হয়েছে। হামলার সুনির্দিষ্ট কারণ এবং এই ঘটনায় জাহাজের নিরাপত্তা ব্যবস্থা কতটা কার্যকর ছিল, তা নিয়ে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক নেটওয়ার্ক তৎপরভাবে তথ্য সংগ্রহ করছে।

হরমুজ প্রণালী আন্তর্জাতিক জলপথ হিসেবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, যা মধ্যপ্রাচ্য থেকে বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে জ্বালানি, মালবাহী জাহাজ এবং সামুদ্রিক বাণিজ্যের জন্য প্রধান সংযোগস্থল। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে এই অঞ্চলে নিরাপত্তা হুমকি ও সামরিক উত্তেজনা ক্রমবর্ধমান হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, হরমুজ প্রণালীতে এমন হামলা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য এবং সামুদ্রিক নিরাপত্তার ওপর গভীর প্রভাব ফেলতে পারে।

হামলার পর আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। বিশেষ করে, এই অঞ্চলে মধ্যপ্রাচ্য ও দক্ষিণ এশিয়ার মধ্যে সরাসরি বাণিজ্য ও জ্বালানি পরিবহন ব্যাহত হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। আন্তর্জাতিক জাহাজ চলাচল এবং সামুদ্রিক বাণিজ্যের নিরাপত্তা নিশ্চিতে অনেক দেশ এ ধরনের পরিস্থিতি মনিটর করছে। হামলার পর নৌপরিবহন কোম্পানিগুলো তাদের নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও কঠোর করার নির্দেশ দিয়েছে।

থাইল্যান্ডের সরকারও জরুরি পর্যায়ে প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছে। দেশটির বিদেশ মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, নিখোঁজ ক্রুদের দ্রুত উদ্ধার করা এবং জাহাজের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা তাদের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার। তারা সংশ্লিষ্ট আন্তর্জাতিক নৌ ও নিরাপত্তা সংস্থার সঙ্গে সমন্বয় করে উদ্ধারের চেষ্টা চালাচ্ছে। তবে হরমুজ প্রণালীতে চলমান উত্তেজনার কারণে কাজটি অত্যন্ত জটিল হয়ে দাঁড়িয়েছে।

এই হামলার ফলে আন্তর্জাতিক নৌপরিবহন ও সামুদ্রিক বাণিজ্যের ওপর দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব পড়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই ধরনের হামলা বিশ্ববাজারে মালবাহী জাহাজের নিরাপত্তা ও বীমা খরচ বৃদ্ধি করতে পারে। পাশাপাশি, মধ্যপ্রাচ্য থেকে চালিত জ্বালানি ও বাণিজ্য রুটগুলোতে দেরি এবং খরচ বৃদ্ধির সম্ভাবনা তৈরি হতে পারে।

আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় এখন নজর রাখছে, কিভাবে হরমুজ প্রণালীতে নিরাপত্তা বজায় রাখা হবে এবং আন্তর্জাতিক জলপথে হামলার পুনরাবৃত্তি রোধ করা যাবে। সামুদ্রিক নিরাপত্তা, নাবিকদের সুরক্ষা এবং গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক রুটের সংরক্ষণে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া অত্যন্ত জরুরি বলে বিশেষজ্ঞরা উল্লেখ করছেন।

এই ঘটনার মাধ্যমে মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনা এবং আন্তর্জাতিক জলপথে নিরাপত্তা ঝুঁকির বিষয়টি আবারও বিশ্বমঞ্চে উঠে এসেছে। হরমুজ প্রণালীতে জাহাজ চলাচল ও সামুদ্রিক বাণিজ্যকে স্বাভাবিক রাখা এখন আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের জন্য চ্যালেঞ্জ। উদ্ধার অভিযান অব্যাহত থাকায় নিখোঁজ ক্রুদের সুরক্ষা ও জীবনের নিরাপত্তা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত