প্রকাশ: ১৩ মার্চ ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।
মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতির মধ্যে হরমুজ প্রণালিকে কেন্দ্র করে নতুন উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরান বৃহস্পতিবার এই গুরুত্বপূর্ণ প্রণালিতে নৌমাইন স্থাপন শুরু করেছে। এই পদক্ষেপ বৈশ্বিক তেল সরবরাহে বড় ধরনের ঝুঁকি তৈরি করতে পারে এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের ওপর চাপ বাড়াতে পারে। বিষয়টি নিয়ে মার্কিন প্রশাসনও হতবাক।
হরমুজ প্রণালি বিশ্বজুড়ে তেলের অন্যতম প্রধান সরবরাহ পথ। এই সংকীর্ণ নৌপথ দিয়ে দৈনিক বিপুল পরিমাণ অপরিশোধিত তেল আন্তর্জাতিক বাজারে পৌঁছায়। ধারণা করা হয়, বিশ্ববাজারের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ তেল এই প্রণালির ওপর নির্ভরশীল। প্রতিদিন প্রায় ৩১ মিলিয়ন ব্যারেল তেল এই পথ দিয়ে যাত্রা করে। ফলে এই প্রণালিতে কোনো বাধা সৃষ্টি হলে তেল সরবরাহ বন্ধ হয়ে যেতে পারে এবং বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা দেখা দিতে পারে।
মার্কিন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ইরান ছোট নৌযান ব্যবহার করে প্রণালিতে মাইন স্থাপন করছে। এ ধরনের ছোট নৌযান দ্রুত চলতে পারে এবং নজর এড়িয়ে কাজ সম্পন্ন করতে পারে। এই পদক্ষেপে হরমুজ প্রণালিকে সাময়িকভাবে বন্ধ করার চেষ্টা হতে পারে এবং আন্তর্জাতিক জাহাজ চলাচলে বড় ধরনের বাধা তৈরি হতে পারে।
মার্কিন প্রশাসনের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তারা গোপন বৈঠকে আইনপ্রণেতাদের জানান, তারা আগে কখনো ভাবেননি যে ইরান প্রণালিতে সরাসরি পদক্ষেপ নিয়ে আন্তর্জাতিক জ্বালানি সরবরাহকে বিঘ্নিত করতে পারে। এই পরিস্থিতি প্রশাসনের জন্য অপ্রত্যাশিত এবং হতবাক হওয়ার মতো। বিশ্লেষকেরা বলছেন, হরমুজ প্রণালি দীর্ঘদিন ধরেই আন্তর্জাতিক রাজনীতি ও নিরাপত্তার জন্য স্পর্শকাতর অঞ্চল। ইরান এবং যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে উত্তেজনা বাড়লে এই প্রণালির নিরাপত্তা সংকটের মুখোমুখি হতে পারে।
ইরানের মাইন স্থাপনের কারণে প্রণালিতে চলাচলকারী জাহাজগুলোকে অতিরিক্ত সতর্ক থাকতে হবে। প্রতিটি জাহাজের পথ পরিবর্তন, ধীর গতিতে চলাচল এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থার তীক্ষ্ণ পর্যবেক্ষণ এখন নিত্যপ্রয়োজনীয় হয়ে উঠেছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, হরমুজ প্রণালিতে স্থাপনকৃত মাইন আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে সরবরাহ ব্যবস্থাকে ব্যাহত করতে পারে এবং দীর্ঘমেয়াদে মূল্য বৃদ্ধির কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে।
এদিকে মার্কিন প্রশাসনের কর্মকর্তারা বলছেন, তারা এই পরিস্থিতি মোকাবেলার জন্য নানা পরিকল্পনা তৈরি করছে। তবে ইরান যে হঠাৎ করে প্রণালিতে সরাসরি পদক্ষেপ নিয়েছে, তা আগে অনুমান করা যায়নি। এর ফলে প্রশাসনের মধ্যে নতুন করে সতর্কতা এবং কৌশল নির্ধারণের প্রয়োজন দেখা দিয়েছে।
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, হরমুজ প্রণালিতে চলমান এই উত্তেজনা শুধু সামরিক নয়, অর্থনৈতিক ও কূটনৈতিক ক্ষেত্রেও বড় প্রভাব ফেলতে পারে। আন্তর্জাতিক জ্বালানি সরবরাহ, সমুদ্রপথে নিরাপত্তা এবং মধ্যপ্রাচ্যের রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার ওপর এটি সরাসরি প্রভাব ফেলবে। ফলে যুক্তরাষ্ট্রসহ অন্যান্য দেশকে দ্রুত কূটনৈতিক সমাধান ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।
বর্তমান পরিস্থিতিতে হরমুজ প্রণালি শুধু তেলের নয়, আন্তর্জাতিক স্থিতিশীলতার প্রতীক হিসেবেও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। এই সংকীর্ণ সামুদ্রিক পথের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, যেকোনো ধরনের সংঘাতের সময় বিশ্ববাজারের তেলের সরবরাহ বাধাহীন রাখার জন্য অত্যন্ত জরুরি। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ইরানের এই পদক্ষেপ দীর্ঘমেয়াদে বৈশ্বিক শক্তির ভারসাম্য এবং মধ্যপ্রাচ্যের রাজনৈতিক পরিস্থিতির ওপর গভীর প্রভাব ফেলতে পারে।