হরমুজ প্রণালি খুলতে চীনের সহায়তা চাইলেন ট্রাম্প

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : সোমবার, ১৬ মার্চ, ২০২৬
  • ৭ বার
হরমুজ প্রণালি খুলতে চীনের সহায়তা চাইলেন ট্রাম্প

প্রকাশ: ১৬ মার্চ  ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

মধ্যপ্রাচ্যের গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ হরমুজ প্রণালি আবার চালু করতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প চীনের পাশাপাশি অন্যান্য মিত্র দেশকে সহযোগিতার আহ্বান জানিয়েছেন। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ইরানে আগ্রাসনের পর তেহরান এই নৌপথ বন্ধ করে দেওয়ায় বিশ্বের তেল ও গ্যাস সরবরাহে নতুন সংকট সৃষ্টি হয়েছে। হরমুজ প্রণালির মাধ্যমে বিশ্বের ২০ শতাংশ তেল ও গ্যাস পরিবাহিত হয়, যা বিশ্ববাজারের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

গত শনিবার ট্রাম্প ফ্রান্স, যুক্তরাজ্য, জাপান, চীন ও দক্ষিণ কোরিয়াকে নৌপথ সুরক্ষিত রাখতে সহায়তার জন্য আহ্বান জানান। তবে জাপান ও অস্ট্রেলিয়া সোমবার স্পষ্টভাবে জানিয়েছে যে তারা যুদ্ধজাহাজ পাঠাবে না। জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি বলেন, সংবিধানের যুদ্ধবিরোধী বাধ্যবাধকতার কারণে তারা এই অঞ্চলে জাহাজ পাঠাতে পারবে না। একই সঙ্গে অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী অ্যান্টনি আলবানিজের মন্ত্রিসভার সদস্য ক্যাথরিন কিং জানিয়েছেন, তাদের কাছে এই ধরনের অনুরোধ আসেনি এবং তারা এই মিশনে অংশ নিচ্ছে না।

চীনের প্রতিক্রিয়া এখনও জানা যায়নি, তবে ট্রাম্প আশাবাদী যে চীনের প্রেসিডেন্ট সি চিন পিং বেইজিং বৈঠকের আগে সাহায্য করবে। ট্রাম্প বলেন, “চীনেরও সাহায্য করা উচিত, কারণ তারা তাদের তেলের ৯০ শতাংশই এই প্রণালির মাধ্যমে পায়। যদি তারা সহায়তা না করে, তবে আমি সফর পিছিয়ে দিতে বাধ্য হতে পারি।”

হরমুজ প্রণালির এই নৌপথে নিরাপত্তা জোরদার করতে ট্রাম্প ইউরোপীয় মিত্রদেরও চাপ প্রয়োগ করেছেন। তিনি সতর্ক করে দিয়েছেন, যদি ন্যাটো সদস্যরা সাহায্য করতে ব্যর্থ হয়, তবে এই জোটের ভবিষ্যৎ “খুবই খারাপ” হতে পারে। ইউরোপীয় ইউনিয়নের পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা ইতিমধ্যেই মধ্যপ্রাচ্যে ছোট নৌ মিশন শক্তিশালী করার বিষয়ে বৈঠক করেছেন। তবে তারা এখনও অবরুদ্ধ হরমুজ প্রণালিতে ভূমিকা বৃদ্ধির বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেননি।

যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যপ্রাচ্যভিত্তিক নৌবাহিনী ‘খুব শিগগির’ তেলবাহী জাহাজের নিরাপত্তার দায়িত্ব নিতে প্রস্তুত। তবে শনিবার ট্রাম্প আরও সহায়তার জন্য দেশগুলোকে আহ্বান জানান। তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে লিখেছেন, “অনেক দেশ যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে মিলে যুদ্ধজাহাজ পাঠাবে, যাতে প্রণালিটি উন্মুক্ত ও নিরাপদ রাখা যায়।”

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে ইরানের কিছু জাহাজ এবং সীমিত সংখ্যক অন্যান্য দেশের জাহাজ ছাড়া অধিকাংশ তেলবাহী জাহাজ এই নৌপথ অতিক্রম করতে পারেনি। একই দিনে বাগদাদের মার্কিন দূতাবাস এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতের একটি বড় জ্বালানিকেন্দ্রে হামলা হয়। এই আগ্রাসন ও হরমুজ প্রণালির বন্ধের ফলে তেলের মূল্য বিশ্ববাজারে প্রায় ৪০ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে।

বিশ্ব অর্থনীতিবিদরা সতর্ক করে বলেছেন, হরমুজ প্রণালির বন্ধ থাকা দীর্ঘস্থায়ী হলে তা শুধু জ্বালানি খাত নয়, বৈশ্বিক বাণিজ্য ও অর্থনীতিতেও মারাত্মক প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, প্রণালির নিরাপত্তা পুনঃস্থাপন আন্তর্জাতিক সহযোগিতা এবং কূটনৈতিক উদ্যোগ ছাড়া সম্ভব নয়। ট্রাম্পের আহ্বান মূলত সেই প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে ব্যাখ্যা করা হচ্ছে।

যুক্তরাষ্ট্রের পাশাপাশি ইসরায়েলও হরমুজ প্রণালির নিরাপত্তার জন্য কৌশলগত পদক্ষেপ নিয়েছে। তবে অন্যান্য দেশের উদাসীনতা ও বৈধ সীমাবদ্ধতার কারণে এ পরিস্থিতি জটিল হয়ে উঠেছে। দক্ষিণ কোরিয়া জানিয়েছে, তারা ট্রাম্পের আহ্বান “সতর্কতার সঙ্গে” পর্যালোচনা করবে। যুক্তরাজ্য এবং কানাডার প্রধানমন্ত্রীও প্রণালির পুনঃউন্মুক্তকরণের প্রয়োজনীয়তা নিয়ে আলোচনা করেছেন।

হরমুজ প্রণালি পুনরায় সচল করতে ব্যর্থ হলে তেলবাহী জাহাজের চলাচলে সমস্যা এবং জ্বালানি খাতে আরও অস্থিরতা দেখা দিতে পারে। বিশ্লেষকরা বলছেন, প্রণালিটি সচল না হওয়া পর্যন্ত মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতি উত্তপ্ত থাকবে এবং বিশ্ব বাজারে তেলের মূল্য нестабিল থাকবে।

হরমুজ প্রণালি পুনঃউন্মুক্তকরণ শুধুমাত্র অর্থনৈতিক দিক থেকে নয়, রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ। এটি নিশ্চিত করতে আন্তর্জাতিক সমঝোতা ও দেশগুলোর যৌথ উদ্যোগ অপরিহার্য। ট্রাম্পের চীনের ওপর নির্ভরতা এবং ইউরোপীয় মিত্রদের চাপ প্রয়োগ এই কৌশলগত গুরুত্বকে আরও স্পষ্ট করেছে।

এই পরিস্থিতিতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় এবং মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর সক্রিয় ভূমিকা ছাড়া হরমুজ প্রণালির নিরাপত্তা ও তেলবাহী জাহাজের নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করা কঠিন। বিশ্ববাজারের স্বাভাবিক প্রণালী এবং জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য সকল পক্ষের সহযোগিতা প্রয়োজন।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত