জ্বালানি সংকটে শ্রীলঙ্কায় সপ্তাহে তিন দিন ছুটি

রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট টাইম : মঙ্গলবার, ১৭ মার্চ, ২০২৬
  • ৬ বার
শ্রীলঙ্কায় সপ্তাহে তিন দিন ছুটি

প্রকাশ: ১৭ মার্চ ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতের প্রভাব বিশ্বজুড়ে জ্বালানি বাজারে নতুন অনিশ্চয়তা তৈরি করেছে। যুক্তরাষ্ট্র, ইরান ও ইসরায়েলকে ঘিরে উত্তেজনা তৃতীয় সপ্তাহে গড়ানোর পর পরিস্থিতি মোকাবিলায় ব্যতিক্রমধর্মী পদক্ষেপ নিয়েছে শ্রীলঙ্কা। জ্বালানি ব্যবহারে সাশ্রয় নিশ্চিত করতে দেশটির সরকার প্রতি বুধবার সরকারি ছুটি ঘোষণা করেছে। ফলে আপাতত দেশটিতে সাপ্তাহিক ছুটি দাঁড়াচ্ছে তিন দিন।

ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি নিউজের এক প্রতিবেদনে জানানো হয়, জ্বালানি সরবরাহে সম্ভাব্য সংকট এবং বৈশ্বিক বাজারে তেলের দাম অস্থিতিশীল হয়ে ওঠার আশঙ্কা থেকে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। শ্রীলঙ্কার প্রেসিডেন্ট অনুরা কুমারা দিশানায়েক সোমবার কর্মকর্তাদের সঙ্গে এক জরুরি বৈঠকে বলেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে সবচেয়ে খারাপ সম্ভাবনার জন্য প্রস্তুতি নিতে হবে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, সময়োপযোগী পদক্ষেপের মাধ্যমে দেশটি সংকট কাটিয়ে উঠতে সক্ষম হবে।

সরকারি সূত্রে জানা গেছে, নতুন এই সিদ্ধান্তের মূল লক্ষ্য হচ্ছে জ্বালানি ব্যবহার কমানো এবং সরকারি খাতে অপ্রয়োজনীয় যাতায়াত ও বিদ্যুৎ খরচ নিয়ন্ত্রণ করা। শ্রীলঙ্কা দীর্ঘদিন ধরেই জ্বালানি আমদানির ওপর নির্ভরশীল। আন্তর্জাতিক বাজারে মূল্যবৃদ্ধি বা সরবরাহ ব্যাহত হলে দেশটির অর্থনীতি দ্রুত চাপের মুখে পড়ে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, সাপ্তাহিক ছুটি বাড়ানোর মতো পদক্ষেপ প্রশাসনিক কার্যক্রম কিছুটা ধীর করলেও জ্বালানি সাশ্রয়ে তা কার্যকর হতে পারে।

মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনা বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থায় বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন বিশ্লেষকরা। বিশেষ করে গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক রুটগুলোতে নিরাপত্তা ঝুঁকি তৈরি হলে তেল পরিবহন ব্যাহত হতে পারে। এতে তেলের দাম বাড়ার পাশাপাশি উন্নয়নশীল দেশগুলোর অর্থনীতিতে চাপ বাড়বে। শ্রীলঙ্কার মতো জ্বালানি আমদানিনির্ভর দেশগুলোর জন্য এ ধরনের পরিস্থিতি আরও চ্যালেঞ্জ তৈরি করে।

অর্থনীতিবিদদের মতে, জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় শুধু প্রশাসনিক ছুটি বাড়ানোই যথেষ্ট নয়; বিকল্প জ্বালানি উৎসের উন্নয়ন, বিদ্যুৎ ব্যবহারে সচেতনতা বৃদ্ধি এবং গণপরিবহন ব্যবস্থার উন্নয়নও জরুরি। তবে তাৎক্ষণিক পরিস্থিতি সামাল দিতে শ্রীলঙ্কার এই পদক্ষেপ একটি সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে দেখা হচ্ছে।

দেশটির সাম্প্রতিক অর্থনৈতিক সংকটের অভিজ্ঞতাও সরকারের এই সিদ্ধান্তে প্রভাব ফেলেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। কয়েক বছর আগে বৈদেশিক মুদ্রার সংকট, জ্বালানি ঘাটতি এবং দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধির কারণে শ্রীলঙ্কা বড় ধরনের অর্থনৈতিক অস্থিরতার মুখে পড়ে। সেই অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে সরকার এবার আগাম প্রস্তুতি নিতে চাইছে।

এদিকে ব্যবসায়িক মহল ও সাধারণ মানুষের মধ্যে এই সিদ্ধান্ত নিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। কেউ কেউ মনে করছেন, অতিরিক্ত ছুটি উৎপাদন ও সেবা খাতে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। আবার অন্যরা বলছেন, জ্বালানি সাশ্রয় ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য সাময়িক এই ব্যবস্থা প্রয়োজনীয়।

সব মিলিয়ে মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতের প্রভাবে বৈশ্বিক জ্বালানি পরিস্থিতি আরও অনিশ্চিত হয়ে উঠছে। শ্রীলঙ্কার এই পদক্ষেপ ভবিষ্যতে অন্যান্য দেশও অনুসরণ করতে পারে বলে মনে করছেন আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকরা। পরিস্থিতি কীভাবে এগোয় এবং জ্বালানি বাজার কতটা স্থিতিশীল থাকে, তার ওপর নির্ভর করবে এই সিদ্ধান্তের দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত