প্রকাশ: ১৯ মার্চ ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।
ইরান আবারও মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনার কেন্দ্রবিন্দুতে চলে এসেছে। গত মঙ্গলবার রাতে ইসরাইলের সামরিক বাহিনীর বিশেষ অভিযান পরিচালিত হয়, যার ফলে ইরানের গোয়েন্দা বিষয়ক মন্ত্রী ইসমাইল খতিব নিহত হন। এই ঘটনাটি দেশটির প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান নিশ্চিত করেছেন এবং এটি ‘কাপুরুষোচিত হত্যাকাণ্ড’ হিসেবে অভিহিত করেছেন।
ইসরাইলি প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরাইল কাৎজ এ ঘটনার সঙ্গে সরাসরি যুক্ত থাকার বিষয়টি স্বীকার করেছেন। তিনি জানিয়েছেন, হামলাটি তেহরানের লক্ষ্যভিত্তিক পরিকল্পিত অভিযান ছিল, যার লক্ষ্য ছিলেন ইরানের গোয়েন্দা শীর্ষ পর্যায়ের নেতাদের কার্যক্ষমতা ভেঙে দেওয়া।
প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ান সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স (পূর্বে টুইটার) এ পোস্ট করে শোক প্রকাশ করেছেন। তিনি লিখেছেন, “আমার প্রিয় সহকর্মী ইসমাইল খতিব, আলি লারিজানি এবং আজিজ নাসিরজাদেহ, সেইসাথে তাদের পরিবারের কিছু সদস্য ও সঙ্গীদের কাপুরুষোচিত হত্যাকাণ্ড আমাদের শোকাহত করেছে।”
ইসমাইল খতিবের মৃত্যু ইরানের শীর্ষ নিরাপত্তা স্তরের জন্য একটি বড় ধাক্কা। তার শাহাদাতের ঠিক একদিন আগে ইরানের শীর্ষ নিরাপত্তা কর্মকর্তা আলি লারিজানি এবং বাসিজ বাহিনীর প্রধান গোলামরেজা সোলেমানি নিহত হন। এইভাবে, ইসরাইল ও যুক্তরাষ্ট্রের প্রথম আগ্রাসনের দিনেই ইরানের গুরুত্বপূর্ণ নিরাপত্তা ও সামরিক ব্যক্তিত্বদের ওপর আঘাত হানা হয়েছে।
ইসমাইল খতিব ২০২১ সালের আগস্ট থেকে গোয়েন্দা মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন। তিনি ইব্রাহিম রাইসি’র প্রশাসনের সময় এই পদে নিযুক্ত হন। পরবর্তীতে রাইসির মৃত্যুর পর নতুন প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান ক্ষমতায় আসার পরও খতিবকে তার পদে বহাল রাখা হয়। সাধারণত নতুন প্রেসিডেন্টরা শীর্ষ পদে পরিবর্তন আনে, কিন্তু খতিবকে বহাল রাখার সিদ্ধান্তকে ব্যতিক্রম হিসেবে দেখা হয়।
খতিবকে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি’র ঘনিষ্ঠ হিসেবে বিবেচনা করা হয়। তিনি কট্টরপন্থী নেতাদের মধ্যে অন্যতম ছিলেন, যিনি প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ানের তুলনামূলক নরম অবস্থানকে ভারসাম্যপূর্ণভাবে নিয়ন্ত্রণে রাখতেন। তার মৃত্যু ইরানের ভেতর রাজনৈতিক ভারসাম্য ও নিরাপত্তা ব্যবস্থার জন্য গভীর প্রভাব ফেলবে।
এই হামলার প্রেক্ষিতে ইরান-ইসরাইল উত্তেজনা মধ্যপ্রাচ্যে নতুন মাত্রায় পৌঁছেছে। আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, খতিবসহ শীর্ষ নেতাদের হত্যাকাণ্ড কেবল ইরানের সামরিক ও গোয়েন্দা কাঠামোর জন্য ঝুঁকি তৈরি করছে না, বরং আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক পরিবেশেও দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব ফেলবে।
খাতিবের মৃত্যু ইরানের মধ্যস্থ নিরাপত্তা নীতিতে বড় পরিবর্তন আনতে পারে। তার অভিজ্ঞতা ও নেতৃত্বের অভাব শীর্ষ গোয়েন্দা কর্মকর্তাদের মধ্যে শূন্যস্থান সৃষ্টি করেছে, যা ভবিষ্যতে দেশটির অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা কৌশলের ওপর প্রভাব ফেলতে পারে।
এই ঘটনায় মধ্যপ্রাচ্য এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের নজর এখন এক দিকে। যে কোনো মুহূর্তে উত্তেজনা আরও বৃদ্ধি পেতে পারে এবং রাজনৈতিক-সামরিক পদক্ষেপের সমন্বয় আরও জটিল পরিস্থিতি তৈরি করতে পারে। ইরানের শীর্ষ নিরাপত্তা ও রাজনৈতিক নেতাদের এই ধরনের আকস্মিক হত্যাকাণ্ড ভবিষ্যতের কূটনৈতিক ও সামরিক সম্পর্কের ওপর গভীর প্রভাব ফেলবে।
ইরানের মধ্যবর্তী বিশ্লেষকরা মনে করছেন, খতিবের হত্যাকাণ্ড কেবল বর্তমান প্রশাসনের নরম দৃষ্টিভঙ্গিকে চ্যালেঞ্জ করবে না, বরং দেশের সামরিক এবং গোয়েন্দা নীতিতে স্থায়ী পরিবর্তন আনতে পারে। এ ঘটনা আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা, মধ্যপ্রাচ্যের স্থিতিশীলতা এবং বিশ্বব্যাপী শক্তির ভারসাম্যকে নতুন করে প্রশ্নবিদ্ধ করেছে।