প্রকাশ: ১৯ মার্চ ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।
পবিত্র রমজান মাসের পরিসমাপ্তি ও শাওয়াল মাসের আগমনকে স্বাগত জানিয়ে বিশ্বের মুসলিম সম্প্রদায় আজ (বৃহস্পতিবার, ১৯ মার্চ) বিভিন্ন দেশে ঈদুল ফিতর উদযাপন করছে। চাঁদ দেখার ওপর ভিত্তি করে একেক দেশে ঈদের তারিখ আলাদা হওয়ায় এ বছরও অঞ্চলভেদে উদযাপনের তারিখ ভিন্ন। মধ্যপ্রাচ্যভিত্তিক সংবাদমাধ্যম গালফ নিউজ অনুযায়ী কিছু দেশ ইতিমধ্যেই তাদের আনুষ্ঠানিক ঈদের তারিখ ঘোষণা করেছে, আর কিছু দেশ এখনো চাঁদ দেখার অপেক্ষায় রয়েছে।
আজ আফগানিস্তান, নাইজার এবং মালি কর্তৃপক্ষ নিশ্চিত করেছে যে তাদের দেশে আজ পবিত্র ঈদ উদযাপিত হবে। রমজানের ৩০ দিন পূর্ণ হওয়ায় অথবা চাঁদ দেখা না যাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ার পর মধ্যপ্রাচ্যসহ বিশ্বের বড় অংশের দেশ শুক্রবার (২০ মার্চ) ঈদ উদযাপনের ঘোষণা দিয়েছে।
মধ্যপ্রাচ্য ও এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, বাহরাইন, কাতার, কুয়েত, তুরস্ক, মালদ্বীপ, লেবানন, ফিলিস্তিন, ইয়েমেন ও ইরাক শুক্রবার ঈদ পালন করবে। একই সঙ্গে আফ্রিকার কয়েকটি দেশ যেমন সুদান, জিবুতি, সোমালিয়া, উগান্ডা, নাইজেরিয়া, চাদ, গাম্বিয়া, গিনি, বেনিন, সেনেগাল এবং ক্যামেরুনও শুক্রবার ঈদ উদযাপন করবে।
অপরদিকে, সিঙ্গাপুর কর্তৃপক্ষ ঘোষণা করেছে যে দেশটিতে শনিবার (২১ মার্চ) পবিত্র ঈদুল ফিতর উদযাপিত হবে।
চাঁদ দেখার অপেক্ষায় থাকা দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশ, ভারত, পাকিস্তান, ইন্দোনেশিয়া, মালয়েশিয়া, ব্রুনেই, ইরান, ওমান, জর্ডান, সিরিয়া, মিশর, লিবিয়া, তিউনিসিয়া, আলজেরিয়া, মরক্কো ও মৌরিতানিয়া অন্তর্ভুক্ত। এসব দেশে শুক্রবার বা শনিবার ঈদ উদযাপিত হবে কিনা তা নির্ভর করছে জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটির আনুষ্ঠানিক ঘোষণার ওপর।
তবে গ্যাবন, টোগো, আইভরি কোস্ট, সিয়েরা লিওন, গিনি-বিসাউ ও সুরিনামসহ আরও কিছু দেশ এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে ঈদের তারিখ ঘোষণা করেনি। ফলে এই দেশগুলোর মুসলিম সম্প্রদায় চাঁদ দেখা বা কমিটির ঘোষণার ওপর নির্ভর করে ঈদের প্রস্তুতি নিতে হবে।
ঈদুল ফিতর শুধু রোজা শেষে আনন্দ উদযাপনের উৎসব নয়, এটি পরিবারের সঙ্গে মিলিত হওয়ার, দরিদ্রদের সাহায্য ও দান করার এবং শান্তি ও সৌহার্দ্য ছড়িয়ে দেওয়ার প্রতীক। বিশ্বের মুসলিম সম্প্রদায় এবারও নানা দেশ ও অঞ্চলে ধর্মীয় ভাবগম্ভীরতা বজায় রেখে ঈদ উদযাপন করবে।
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, যেহেতু চাঁদ দেখার ওপর ভিত্তি করে ঈদের তারিখ নির্ধারণ করা হয়, তাই আন্তর্জাতিকভাবে ঈদ উদযাপন ভিন্নতার মধ্যেও একে মিলনের উৎসব হিসেবে দেখা যায়। তাই বিশ্বের মুসলিমরা যদিও পৃথক দিনে ঈদ পালন করছে, তবুও হৃদয়ে এটি একই আনন্দ ও আত্মীয়তার বন্ধন জাগিয়ে তোলে।