বাগদাদে গোয়েন্দা দপ্তরে ড্রোন হামলা, নিহত ১

রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট টাইম : শনিবার, ২১ মার্চ, ২০২৬
  • ৫ বার
বাগদাদে গোয়েন্দা দপ্তরে ড্রোন হামলা

প্রকাশ: ২১ মার্চ ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

মধ্যপ্রাচ্যের অস্থির পরিস্থিতির মধ্যে নতুন করে সহিংসতার ঘটনা ঘটেছে ইরাক-এ। রাজধানী বাগদাদ-এ দেশটির গোয়েন্দা সদর দপ্তর লক্ষ্য করে চালানো এক ড্রোন হামলায় অন্তত একজন কর্মকর্তা নিহত হয়েছেন এবং আরও একজন গুরুতর আহত হয়েছেন। এই হামলা দেশের নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে।

ইরাক সরকারের নিরাপত্তা মিডিয়া ইউনিটের প্রধান জেনারেল সাদ মান শনিবার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, সকালে বাগদাদের কেন্দ্রস্থলে এই হামলা সংঘটিত হয়। ঘটনাটি পরিকল্পিত এবং লক্ষ্যভিত্তিক ছিল বলেই ধারণা করা হচ্ছে।

প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, হামলাটি গোয়েন্দা সংস্থার একটি গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাকে লক্ষ্য করে চালানো হয়। এতে ঘটনাস্থলেই এক কর্মকর্তা নিহত হন। আহত আরেকজনকে দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে, যেখানে তার অবস্থা পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে।

এদিকে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের সূত্রে জানা গেছে, বাগদাদের একটি যোগাযোগ ভবনেও একই সময়ে ড্রোন হামলা চালানো হয়। ওই ভবনে একটি নিরাপত্তা সংস্থার কার্যালয় ছিল, যা উগ্রবাদবিরোধী কার্যক্রমে যুক্ত এবং মার্কিন নেতৃত্বাধীন জোট-এর সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করে থাকে। ফলে এই হামলাকে অনেকেই বৃহত্তর নিরাপত্তা কাঠামোর ওপর আঘাত হিসেবে দেখছেন।

ইরাকের জাতীয় গোয়েন্দা সংস্থা এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, সদর দপ্তরের নিকটবর্তী এলাকায় ‘আইনবহির্ভূত গোষ্ঠী’ এই হামলা চালিয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত কোনো সংগঠন আনুষ্ঠানিকভাবে দায় স্বীকার করেনি। ফলে হামলার পেছনে কারা রয়েছে, তা নিয়ে নানা জল্পনা তৈরি হয়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, ড্রোন হামলার এই প্রবণতা মধ্যপ্রাচ্যে ক্রমেই বাড়ছে। কম খরচে এবং তুলনামূলকভাবে সহজে পরিচালিত হওয়ায় এই ধরনের হামলা বিভিন্ন গোষ্ঠীর কাছে কার্যকর কৌশল হয়ে উঠেছে। বিশেষ করে নিরাপত্তা বাহিনী বা গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো লক্ষ্য করে এ ধরনের আঘাত বড় ধরনের বার্তা বহন করে।

এই ঘটনার পর ইরাকি কর্তৃপক্ষ তদন্ত শুরু করেছে। নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলোতে। একইসঙ্গে গোয়েন্দা তৎপরতাও বাড়ানো হয়েছে, যাতে হামলাকারীদের দ্রুত শনাক্ত করা যায়।

মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান ভূরাজনৈতিক বাস্তবতায় এই ধরনের হামলা বিচ্ছিন্ন নয় বলেই মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা। আঞ্চলিক উত্তেজনা, বিভিন্ন গোষ্ঠীর সক্রিয়তা এবং আন্তর্জাতিক শক্তির সম্পৃক্ততা মিলিয়ে পরিস্থিতি জটিল হয়ে উঠেছে। এর ফলে ইরাকের মতো দেশগুলোতে নিরাপত্তা ঝুঁকি আরও বেড়ে যাচ্ছে।

সব মিলিয়ে, বাগদাদের এই ড্রোন হামলা শুধু একটি সহিংস ঘটনা নয়, বরং বৃহত্তর নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জের প্রতিফলন। এখন দেখার বিষয়, তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত দায়ীদের শনাক্ত করে ইরাক কত দ্রুত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পারে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত