মাঝ আকাশে যাত্রীর মৃত্যু, মরদেহ রেখে ১৩ ঘণ্টা বিমান চললেন পাইলট

রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট টাইম : রবিবার, ২২ মার্চ, ২০২৬
  • ৩৩ বার
মাঝ আকাশে যাত্রীর মৃত্যু

প্রকাশ: ২২ মার্চ ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

হংকং থেকে লন্ডনগামী ব্রিটিশ এয়ারওয়েজের একটি ফ্লাইটে ভয়াবহ পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়, যখন বিমানের উড্ডয়নের কিছুক্ষণ পরই ৬০ বছর বয়সী এক নারী যাত্রী মারা যান। মৃত্যুর পরও তার মরদেহকে বিমানের পেছনের ‘রিয়ার গ্যালি’তে রেখে ১৩ ঘণ্টার দীর্ঘ যাত্রা শেষ করে বিমান ও ক্রু। এই ঘটনায় যাত্রীদের মধ্যে আতঙ্ক ও অস্বস্তি তৈরি হয়, এবং ঘটনা আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের মাধ্যমে শিরোনামে আসে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শনিবার (২১ মার্চ) হংকং থেকে লন্ডনগামী ব্রিটিশ এয়ারওয়েজের এয়ারবাস এ৩৫০-১০০০ উড়োজাহাজে মৃত্যুর ঘটনা ঘটে। ফ্লাইট ছাড়ার প্রায় এক ঘণ্টা পরই নারী যাত্রীর মৃত্যু হয়। মৃত্যুর পরেও পাইলটরা হংকং-এ ফিরে না গিয়ে নির্ধারিত গন্তব্য হিথ্রো বিমানবন্দর পর্যন্ত যাত্রা চালিয়ে যান। কারণ বিমান চলাচলের ক্ষেত্রে, যাত্রীর মৃত্যু সাধারণত জরুরি চিকিৎসাজনিত অবস্থার আওতায় ধরা হয় না।

ফ্লাইট চলাকালীন সময়ে মরদেহটি বিমানের রিয়ার গ্যালিতে রাখা ছিল। তবে গ্যালির তাপের কারণে এক ধরনের দুর্গন্ধ তৈরি হয় এবং ফ্লাইটের পেছনের অংশে তা ধীরে ধীরে ছড়িয়ে পড়ে। অবতরণের আগে অনেক যাত্রী এবং ক্রু সদস্য এই দুর্গন্ধের উপস্থিতি অনুভব করেন। বিমান হিথ্রো বিমানবন্দরে অবতরণের পর পুলিশ প্রবেশ করে এবং তদন্ত চলাকালীন সময়ে প্রায় ৪৫ মিনিট সকল যাত্রীকে তাদের আসনে বসে থাকতে নির্দেশ দেয়।

ব্রিটিশ এয়ারওয়েজ এই ঘটনার পর জানায়, “দুঃখজনকভাবে বিমানে একজন যাত্রী মারা গেছেন। এই কঠিন সময়ে আমরা তার পরিবার ও বন্ধুদের প্রতি সমবেদনা জানাই। আমাদের কর্মীদের সহায়তায় আমরা নিশ্চিত করেছি যে সমস্ত প্রক্রিয়া সঠিকভাবে অনুসরণ করা হয়েছে।” বিমান সংস্থার পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, বিমানের নিরাপত্তা ও নিয়ম-কানুনের সব ধাপ যথাযথভাবে পালিত হয়েছে।

আন্তর্জাতিক বিমান পরিবহন সংস্থার গাইডলাইন অনুসারে, মাঝ আকাশে কোনো যাত্রীর মৃত্যু হলে মৃতদেহকে সাধারণত বডি ব্যাগে রাখা হয় বা কম্বল দিয়ে ঢেকে রাখা হয়। সম্ভব হলে মৃতদেহকে বিমানের কম দৃষ্টিগোচর স্থানে, যেমন খালি আসন বা অন্য কোনো অংশে সরিয়ে রাখা হয়। তবে ফ্লাইট সম্পূর্ণ বুক করা থাকলে এবং অন্যান্য বিকল্প না থাকলে, মৃতদেহকে তার আগের আসন বা গ্যালিতে রাখতে হয়।

এই ধরনের ঘটনা যাত্রীদের মধ্যে মানসিক চাপ সৃষ্টি করে, তবে বিমান ও ক্রু সদস্যরা প্রশিক্ষণ অনুযায়ী পরিস্থিতি পরিচালনা করেন। নিউ ইংল্যান্ড জার্নাল অফ মেডিসিনে প্রকাশিত একটি ২০১৩ সালের গবেষণায় দেখা গেছে, বিমানযাত্রার সময় চিকিৎসাজনিত কারণে মৃত্যুর ঘটনা তুলনামূলকভাবে খুবই কম, মোট জরুরি অবস্থার মাত্র ০.৩ শতাংশ ক্ষেত্রে মৃত্যু ঘটে।

প্রসঙ্গত, ফ্লাইটের দৈর্ঘ্য, বিমান ধরনের প্রকার এবং যাত্রী ও ক্রুর নিরাপত্তা ব্যবস্থার কারণে এই ধরনের পরিস্থিতিতে দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। যদিও অনেক যাত্রী মরদেহের উপস্থিতিতে শোকে কাতর হন, তবু বিমান ক্রুরা যাত্রার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং নির্ধারিত সময়ে গন্তব্যে পৌঁছানোর জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেন।

এ ধরনের ঘটনায় বিমানের নিয়ম অনুযায়ী নিহত যাত্রীর পরিবারকে যথাযথভাবে তথ্য জানানো হয় এবং স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় করে মরদেহ গ্রহণ করা হয়। ব্রিটিশ এয়ারওয়েজও জানিয়েছে, ফ্লাইটের পুরো সময় জুড়ে যাত্রী ও ক্রুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হয়েছে।

এই ঘটনা আন্তর্জাতিকভাবে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মাঝ আকাশে যাত্রীর মৃত্যু যেমন একটি শোকজনক পরিস্থিতি, তেমনি এটি বিমান পরিবহনের প্রটোকল, নিরাপত্তা ও জরুরি নির্দেশিকা কীভাবে কার্যকর হয় তা দেখার এক গুরুত্বপূর্ণ উদাহরণ।

যাত্রীদের মানসিক স্বস্তি ও নিরাপত্তা বজায় রাখার পাশাপাশি, বিমান ও ক্রু সদস্যরা এই ধরনের পরিস্থিতিতে প্রশিক্ষণ অনুযায়ী কাজ করে থাকেন। নিহত যাত্রী পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানানো এবং ঘটনার বিস্তারিত তদন্তের মাধ্যমে বিমান নিরাপত্তা মান উন্নত করার চেষ্টা অব্যাহত থাকে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত