মাদ্রিদ ডার্বিতে রিয়ালের নাটকীয় জয়

রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট টাইম : সোমবার, ২৩ মার্চ, ২০২৬
  • ৪ বার

প্রকাশ: ২৩ মার্চ ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

ফুটবলের মঞ্চে কিছু ম্যাচ থাকে, যা শুধুই তিন পয়েন্টের লড়াই নয়—সেখানে থাকে ইতিহাস, আবেগ, প্রতিশোধ আর মর্যাদার প্রশ্ন। এমনই এক উত্তেজনাপূর্ণ রাতে Real MadridAtlético Madrid মুখোমুখি হয়েছিল ঐতিহ্যবাহী মাদ্রিদ ডার্বিতে। আর সেই লড়াইয়ে শেষ হাসি হেসেছে স্বাগতিক রিয়াল, ৩-২ গোলের নাটকীয় জয়ে।

রোববার রাতের এই ম্যাচটি অনুষ্ঠিত হয় Santiago Bernabéu Stadium-এ, যেখানে শুরু থেকেই ছিল টানটান উত্তেজনা। গ্যালারিজুড়ে দর্শকদের গর্জন, মাঠে খেলোয়াড়দের দ্রুতগতির আক্রমণ—সব মিলিয়ে যেন এক ফুটবল উৎসবের আবহ তৈরি হয়েছিল। তবে সেই উৎসবের শুরুটা স্বাগতিকদের জন্য সুখকর ছিল না।

ম্যাচের প্রথমার্ধে ছন্দে থাকলেও গোলের দেখা পাচ্ছিল না রিয়াল। বরং ৩৩তম মিনিটে হঠাৎ করেই এগিয়ে যায় অ্যাতলেটিকো। দুর্দান্ত এক আক্রমণ থেকে গোল করে দলকে লিড এনে দেন Ademola Lookman। এই গোলটি যেন ম্যাচের গতিপথ কিছুটা বদলে দেয়। প্রথমার্ধের বাকি সময় রিয়াল চেষ্টা চালালেও সমতা ফেরাতে পারেনি।

বিরতির পর যেন নতুন রূপে মাঠে নামে রিয়াল। আক্রমণের ধার বাড়াতে শুরু করে তারা। সেই প্রচেষ্টার ফল আসে ৫২তম মিনিটে, যখন পেনাল্টি পায় দলটি। ঠাণ্ডা মাথায় স্পট কিক থেকে গোল করে সমতা ফেরান Vinícius Júnior। এই গোলটি শুধু স্কোরলাইনই বদলায়নি, বদলে দেয় ম্যাচের গতি এবং আত্মবিশ্বাস।

সমতা ফেরানোর তিন মিনিটের মধ্যেই আবারও আঘাত হানে রিয়াল। দ্রুতগতির এক আক্রমণ থেকে গোল করে দলকে এগিয়ে দেন Federico Valverde। হঠাৎ করেই ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ চলে আসে স্বাগতিকদের হাতে। গ্যালারিতে উল্লাস, মাঠে রিয়ালের দাপট—সবকিছুই তখন তাদের অনুকূলে।

তবে অ্যাতলেটিকো হাল ছাড়ার দল নয়। ম্যাচের ৬৪তম মিনিটে দূরপাল্লার এক চমৎকার শটে গোল করে আবারও সমতা ফেরান Nahuel Molina। এই গোলটি ম্যাচে নতুন করে উত্তেজনা ফিরিয়ে আনে। শেষভাগে জয় পেতে দুই দলই মরিয়া হয়ে ওঠে।

এই টানটান পরিস্থিতিতে আবারও নায়ক হয়ে ওঠেন ভিনিসিউস জুনিয়র। ম্যাচের ৭২তম মিনিটে নিজের দ্বিতীয় গোলটি করেন তিনি। তার দুর্দান্ত ফিনিশিং রিয়ালকে ৩-২ ব্যবধানে এগিয়ে দেয়। এই গোলটি শেষ পর্যন্ত ম্যাচের ভাগ্য নির্ধারণ করে দেয়।

ম্যাচের শেষদিকে নাটকীয়তা আরও বাড়ে। লাল কার্ড দেখে মাঠ ছাড়েন ভালভার্দে, ফলে শেষ সময় ১০ জন নিয়ে খেলতে হয় রিয়ালকে। এই মুহূর্তে অ্যাতলেটিকো সুযোগ খুঁজতে থাকে সমতা ফেরানোর। কিন্তু রিয়ালের রক্ষণভাগ দৃঢ় থাকে। গোলরক্ষক Andriy Lunin একের পর এক গুরুত্বপূর্ণ সেভ করে দলকে এগিয়ে রাখেন।

শেষ বাঁশি বাজার সঙ্গে সঙ্গে উল্লাসে ফেটে পড়ে বার্নাব্যু। এই জয় শুধু তিন পয়েন্টই এনে দেয়নি, বরং আগের পরাজয়ের প্রতিশোধও পূরণ করেছে। গত বছরের সেপ্টেম্বরে অ্যাতলেটিকোর কাছে হারের স্মৃতি যেন এই জয়ের মাধ্যমে মুছে দিল রিয়াল।

এই জয়ের ফলে ২৯ ম্যাচ শেষে ৬৯ পয়েন্ট নিয়ে লা লিগার টেবিলে দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে রিয়াল। অন্যদিকে সমান ম্যাচে ৫৭ পয়েন্ট নিয়ে চতুর্থ স্থানে আছে অ্যাতলেটিকো। শিরোপা দৌড়ে টিকে থাকতে এই জয় রিয়ালের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

সব মিলিয়ে, মাদ্রিদ ডার্বির এই ম্যাচটি ফুটবলপ্রেমীদের জন্য ছিল এক স্মরণীয় রাত। এখানে ছিল গোল, নাটকীয়তা, উত্তেজনা আর শেষ পর্যন্ত জয়-পরাজয়ের চিরন্তন গল্প। এমন ম্যাচই প্রমাণ করে কেন ফুটবলকে বলা হয় “দ্য বিউটিফুল গেম”—যেখানে শেষ বাঁশি বাজা পর্যন্ত কিছুই নিশ্চিত নয়।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত