প্রকাশ: ২৩ মার্চ ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।
হরমুজ প্রণালীর নিরাপত্তা ও চলাচলের ওপর ক্রমবর্ধমান উত্তেজনা নিরসনে কূটনৈতিক তৎপরতা জোরদার করেছে European Union। এই উদ্যোগের অংশ হিসেবে ইইউর পররাষ্ট্রনীতির প্রধান Josep Borrell Kalas ইরানসহ বিভিন্ন আঞ্চলিক শক্তির সঙ্গে আলোচনায় বসেছেন। সংবাদ সংস্থা Al Jazeera এবং রয়টার্সের তথ্য অনুযায়ী, এসব আলোচনা চলমান সংকট নিরসনে কূটনৈতিক সমাধানের পথ বের করার লক্ষ্য নিয়ে হয়েছে।
রোববার কালাস ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী Abbas Araghchi-র সঙ্গে ফোনালাপে হরমুজ প্রণালীর নিরাপত্তা, চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতি এবং জ্বালানি অবকাঠামোর ওপর সম্ভাব্য হামলার বিষয়ে আলোচনা করেন। এছাড়া তিনি তুরস্ক, কাতার ও দক্ষিণ কোরিয়ার সঙ্গে পৃথকভাবে যোগাযোগ করেন, যা মধ্যপ্রাচ্য ও আন্তর্জাতিক জ্বালানি নিরাপত্তার বিষয়কে কেন্দ্র করে কূটনৈতিক সমাধান খুঁজার অংশ হিসেবে ধরা হচ্ছে।
ইইউ কর্মকর্তারা সতর্ক করে জানিয়েছেন, হরমুজ প্রণালীর ওপর যেকোনো ধরনের নতুন হামলা শুধু মধ্যপ্রাচ্যে নয়, বিশ্বজুড়ে কোটি মানুষের জীবন ও অর্থনীতিকে প্রভাবিত করতে পারে। বিশেষত জ্বালানি পরিবহন ব্যাহত হলে আন্তর্জাতিক বাজারে শক্তিশালী প্রতিক্রিয়া দেখা দিতে পারে। এ কারণে, ইইউ এই ইস্যুতে কূটনৈতিক চাপ ও আলোচনার মাধ্যমে স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে চায়।
এর আগে, গত বুধবারও কালাস আরাগচির সঙ্গে একই বিষয় নিয়ে ফোনালাপ করেন। সূত্রগুলোর বরাতে জানা গেছে, ইরানের সঙ্গে বার্তালাপ অব্যাহত থাকলেও এখন পর্যন্ত কোনো চূড়ান্ত সমাধান বা বাস্তবায়নের সময়সূচি ঘোষণা করা হয়নি। তবে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় এ বিষয়ে সক্রিয়ভাবে নজর রাখছে।
বিশ্লেষকদের মতে, হরমুজ প্রণালীর নিরাপত্তা কেবল মধ্যপ্রাচ্যের জন্য নয়, সমগ্র বিশ্বের জ্বালানি সরবরাহ এবং অর্থনীতির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। চলমান উত্তেজনা যদি নিয়ন্ত্রণে না আসে, তবে তেলের আন্তর্জাতিক বাজারে উত্থান-পতন এবং জ্বালানি ঘাটতির ঝুঁকি বৃদ্ধি পাবে। এই কারণে ইইউর কূটনৈতিক উদ্যোগকে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
সবমিলিয়ে, হরমুজ প্রণালীর সংকট সমাধানে ইইউর কূটনৈতিক তৎপরতা মধ্যপ্রাচ্য শান্তি ও আন্তর্জাতিক জ্বালানি নিরাপত্তা উভয়ের জন্যই একটি গুরুত্বপূর্ণ সংকেত হিসেবে ধরা হচ্ছে। তবে বাস্তব চ্যালেঞ্জ হচ্ছে, বিভিন্ন আঞ্চলিক শক্তির স্বার্থ ও ভিন্ন অবস্থান একত্রে সমন্বয় করে স্থায়ী সমাধান আনা।